একদিন ছুটি হবে—-আল শাহরিয়ার রোকন

IMG_20190118_003709.jpg

——————-
ছুটি এক কাঙ্খিত শব্দের নাম। এটা যে শুধু ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে প্রিয় তা নয়, এটা চাকুরিজীবী তথা সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছেই অতি আকাঙ্খিত। সেটা হতে পারে সাপ্তাহিক ছুটি কিংবা অন্য কোন দিবসের ছুটি। আর এই আকাঙ্খিত ছুটির প্রতিটি মুহূর্ত আনন্দঘন করার জন্যও থাকে ব্যাপক প্রস্তুতি,যাতে করে ছুটির সময়ে আনন্দের কোন ঘাটতি না থাকে। আজ বৃহস্পতিবার প্রতিদিনের ন্যায় ফজরের আজান শুনেই ঘুম ভেঙে গেলো। কেউ একজন উচ্চ কন্ঠে বলতে বলতে মসজিদে যাচ্ছে….. “ঘুম থেকে উঠুন, ঘুমের চেয়ে নামাজ ভালো, দুনিয়া ঘুমের জায়গা না, ঘুম হবে কবরে, আরাম হবে সেখানে”। কথাগুলো হৃদপিণ্ডকে গভীরভাবে নাড়া দিয়ে গেলো। উঠে বসলাম, চিন্তার ঘোরে ঢুকে গেলাম।ক্ষণিকবাদে আমিও নামাজের জন্য বের হলাম । নামাজ শেষ। মসজিদ থেকে বাসায় ফিরছি। এমন সময় মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ভেসে এলো একটি শোক সংবাদ। সংবাদ শুনে থমকে দাঁড়ালাম। যার সাথে গতকাল রাতে একই কাতারে নামাজ পড়েছি, নামাজ শেষে চা খেয়েছি, অল্পকিছু কথাও বলেছি এখন তার নাম উচ্চারিত হচ্ছে।আমার মনটা খুবই বেদনাবিদুর হয়ে উঠলো।

অফিসে যাওয়ায় সময় তার সাথে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনার স্মৃতি রোমন্থন করতে লাগলাম। তার স্মৃতিগুলো আমার মনে ব্যাপকভাবে নাড়া দিলো।সকাল ১০ টার কিছু পূর্বে অফিসে পৌঁছিলাম।অফিসে গিয়ে প্রতি দিনের মতো ব্যস্তু হয়ে পড়লাম, ভুলতে থাকলাম সকালে ঘটে যাওয়া সব কিছু। আগামী রবিবার সকল অফিস আদালত সরকারিভাবে বন্ধ। তাই পুরো অফিস জুড়ে ৩ দিনের ছুটির আমেজ শুরু হয়ে গেছে। সবাই ছুটির প্রস্তুতি নিচ্ছে।কেউ ঢাকায়, কেউ বা ঢাকার বাইরে, আবার কেউ কেউ ছুটি বাড়িয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে কি পরিকল্পনা ! কতো আয়োজন, বলে শেষ করতে পারবো না।সারাদিনের ব্যস্ততায় ভুলে গেলাম সেই লোকটিরও কথা। এমনকি ইবাদতটুকুও মনঃপুত ভাবে করতে পারলাম না। ভাবতে লাগলাম হায় রে জীবন! হায় রে ব্যস্! এভাবেই কেটে যাচ্ছে জীবনের মহামূল্যবান সময়।

বাসায় এসে প্রতিদিনের মতো ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমের আয়োজন। ঘুমিয়ে পড়লাম। মধ্যরাতের গভীর ঘুমের ঘোরে মুয়াজ্জিনের পরিচিত কন্ঠে ভেসে আসলো…. একটি শোক সংবাদ।
আরে মুয়াজ্জিন যে নামটি বলছে, সে তো আমি! ভয়ে শরীর কাঁপতে লাগলো, ভালো করে খেয়াল করলাম… হ্যাঁ আমার কথাই বলছে। পরিচিত লোক আসছে, আমাকে দেখছে, সবাই কাঁন্নায় ভেঙে পড়ছে। আমি সব কিছুই দেখতে পারছি কিন্তু কেন জানি কোন কিছু বলার ক্ষমতা আমার নেই। সবাই শেষ বারের মতো আমায় বিদায় দিচ্ছে। হ্যাঁ একেবারেই শেষ বারের মতো বিদায়।
আমার জীবনের শেষ ছুটি হয়ে গেলো,যেই ছুটি থেকে ফেরার আর কোনো সম্ভাবনা নাই। এক মহাকালের যাত্রা, যেখান থেকে কেউ কোনো দিন ফিরে আসেনি, আর ফিরে আসবেও না। ফজরের আজান শুরু হলে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।আমি লাফিয়ে উঠলাম। ভয়ে সারা শরীর কাঁপছে, ঘামে সারা শরীর ভিজে গেছে। চিৎকার করে কান্না করতে লাগলাম। বুঝতে পারলাম, আমি স্বপ্ন দেখেছি ।

স্বপ্নের চিন্তাগুলো দিনরাত মাথায় ঘুরপাক করতে লাগলো। এক সময় মনে হলো আরে এটাই তো সত্য । আজ অথবা কাল আমাকে তো এই জীবন থেকে ছুটি নিতেই হবে। সে ছুটির জন্য আমার প্রস্তুতি কতোটুকু তা আমার জানা নেই। অথচ এই ছুটি সকলের জন্যই অবধারিত। তাই আমি মনে করি অন্যান্য ছুটির মতো অবধারিত ছুটিরও প্রস্তুতি থাকা উচিত,,,

———
লেখক–
ব্যাংক অফিসার।

Top