অভিভাবক সেমিনার: শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের হাতিয়ার

received_323777204900833.jpeg

—————–
বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত জনগণের মৌলিক অধিকারসমূহের একটি হচ্ছে শিক্ষালাভের অধিকার। রাষ্ট্র এই অধিকার বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব নিয়েছে, নিতে হয়।কিন্তু অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিকসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বারংবার পূর্ণাঙ্গ সফলতার মুখ দেখেনি এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা।একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশ হলেও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি নিতান্তই উদ্বেগজনক।প্রশ্নফাঁস,শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে অনীহা,বই বিতর্ক,শিক্ষাখাতে বিনিয়োগের অভাবসহ অসংখ্য অভিযোগে আচ্ছন্ন এই শিক্ষাব্যবস্থার বলি হচ্ছে এদেশের কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থীরা। এহেন পরিণতির প্রত্যক্ষ অভিযোগের তীর ছুড়ে দেয়া হয় সরকার ব্যবস্থা,শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার দিকে।অনেকটা উপায় না খুঁজে পেয়েই এই ধরনের গূঢ় কার্যক্রম সচল থাকে হর হামেশাই। অথচ যেকোন কর্মসূচি, প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ার আগে গবেষণার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচিত হলে সফলতার হার বেশি হয়।দুর্ভাগ্যজনকভাবে এদেশের জাতীয় সকল উদ্যোগের পূর্বে গবেষণার অপ্রতুলতা প্রকট।শিক্ষাব্যবস্থা যেদিকে এগোচ্ছে তাতে করে যেকোন ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতের দক্ষ গবেষক হারাতে বসেছে এদেশ।যাহোক,শিক্ষার শোচনীয় পরিণতি বরণের আগে আমাদের শিক্ষা বিষয়ে চিন্তায় নূতন নূতন মাত্রিকতা যোগ করতে হবে,শিক্ষা উদ্যোগে আনতে হবে গতিশীলতা।জনগণ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। তাদের এই ভালো দিকটি কাজে লাগাতে হবে।অভিভাবক সেমিনার এক্ষেত্রে সুবিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।এদেশে বিরাজমান প্রাক-প্রাথমিক,প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারের নেতিবাচক দিকগুলো সংক্রামিত হচ্ছে,অসহিষ্ণুতার বীজ ছড়িয়ে পড়ছে,মূল্যবোধ চর্চার ভিত নড়বড়ে হচ্ছে, সংস্কৃতি চর্চার আবেদন হারাচ্ছে। এসবের ভয়াবহ পরিণতি এড়াতে প্রথমেই এগিয়ে আসতে হবে অভিভাবকদের। সুন্দর পরিবারই পারে দেশকে দক্ষ জনসম্পদ উপহার দিতে।একক পরিবারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাব্যবস্থা আর উপমহাদেশের সনাতনী ধাঁচের সাথে তাল মিলাতে পারছে না।আবার পাশ্চাত্য ঘরানার সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে বরাবরই হিমশিম খাচ্ছে।এমন উদ্ভট অমিলের ধাঁধা কোন অভিভাবকই মানবেন না।তারা যদি শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাক্রম, সহ-শিক্ষা কার্যক্রমগুলো সম্বন্ধে সচেতন হয়ে সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলোতে নজরদারি বাড়ান তাহলে যুগপৎ শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বাড়বে,শিক্ষা উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজতর হবে এমনকি শিক্ষার্থীর মূল্যবোধ,আবেগ,প্রেষণা,চিন্তন দক্ষতার মতো গুণগুলোও প্রগতির মুখ দেখবে।বছরে বারো মাসে বারোবার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিভাবক সেমিনার আয়োজিত হলে দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিও ত্বরান্বিত হবে।’আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যত ‘ এ কথা সকল অভিভাবকই জানেন।তাই সুন্দর,গৌরবান্বিত ভবিষ্যত পেতে অবশ্যই নিয়মিত অভিভাবক সেমিনার আয়োজনের ধারা চালু করতে হবে এদেশে।আর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক যেকোন কাজে অভিভাবক তদারকি, নজরদারি কেমন ভুমিকা রাখতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

———-
লেখক
আহমেদ সজিব
শিক্ষার্থী (২য় বর্ষ)
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top