ভালো কাজের প্রতিযোগিতা করুন খারাপ কাজ বর্জন করুন।

50035288_1926141780797714_2038796438263037952_n.jpg

মোঃ সাইফুল্লাহ মানছুর ;

অর্থ হতে সদগুন জন্মেনা বরং অর্থ ও অনান্য কাম্য বিষয় সদগুন থেকেই গ্রহণ করে।(সক্রেটিস)

দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট বলেছেন
যে কাজ কোন স্বার্থ ছাড়া করা হয় সেটা ভালো কাজ(Good Will)।অর্থাৎ যার পিছনে কোন স্বার্থ বা উদ্দেশ্য থাকবে না।আর যিনি স্বার্থ ছাড়া কাজ করবেন তিনি ভালো লোক (Good Person)।

ভালো কাজ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন কারো কাজে সাহায্য করা,কোন গরীব মানুষ কে টাকা দিয়ে সাহায্য করা,রাস্তা থেকে যন্ত্রণাদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া, রাস্তা নির্মাণ করা,কোন বিপদগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করা এবং সদগুন ইত্যাদি।

সদগুন হচ্ছে একটা মানুষের সবচেয়ে ভালো দিক।যে কাজ গুলো সমাজে গ্রহণযোগ্য সে গুলো সদগুনের অন্তর্ভুক্ত।
সদগুন সম্পর্কে দার্শনিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

সক্রেটিস বলেছেন,
“সদগুন হচ্ছে জ্ঞান”(“Virtue ।s Knowledge”)।
কারন যার জ্ঞান আছে সে সৎ কাজ করতে পারে।এবং যার জ্ঞান আছে সে অসৎ কাজ করতে পারে না।

এরিস্টটল বলেছেন,
“সদগুন হচ্ছে সুখ” ( Virtue Is Happiness”)
তবে সেটা সাময়িক সুখ নয়।

প্লেটো বলেছেন,
“সদগুন হচ্ছে ন্যায়বিচার” (“Virtue Is Justice”)

বর্তমান দেশে সদগুন সম্পন্ন লোকের খুবই অভাব।অনৈতিকতা,অসৎ কাজ গুলো সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করছে। বর্তমানে অসৎ কাজ বা অসৎ মানুষ ছাড়া একটি সমাজ কল্পনা করা যায় না।

আমরা জানি প্রত্যেক ধর্মই নৈতিকতার কথা বলে।কোন ধর্মই নৈতিকতা বা খারাপ বা অসৎ কাজকে সমর্থন দেয় না।ইসলাম ধর্ম বারংবার সৎ কজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এর কথা বলেছে।

সূরা আসরে আল্লাহ তায়ালা বলেন
অনুবাদ,
সময়ের কসম, নিশ্চয়ই সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, তবে যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, একে অপরকে সৎকাজ করার উপদেশ দেয় এবং ধৈর্য্য ধারণ করার উপদেশ দেয় তারা ছাড়া।

ইসলাম ধর্ম সহ সকল ধর্ম সৎকাজ করার জন্য তার অনুসারীদের অনুপ্রাণিত করেছে।প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীদের উচিত নিজে সৎকার্য সম্পাদন করা এবং সৎকার্য সম্পাদনকারীদের অনুসরণ করা।
বর্তমান দেশে সৎকাজ কারার মত লোকের খুবই অভাব।ভালো কাজের প্রতিযোগিতার কথাতো দূরের কথা।বর্তমানে আমরা উল্টো পথে হাটছি। আমরা অসৎ কাজের প্রতিযোগিতা করি।আমরা দূর্নীতি করার প্রতিযোগিতা করি।আমরা ফাঁকিবাজি দেওয়ার প্রতিযোগিতা করি।

অসৎকাজ বা অনৈতিক কাজ আমাদের মনুষ্যত্ব কে ধংশ করে।মানুষ হিসেবে আমাদের সৎকাজ করা উচিত এবং সৎকাজের প্রতিযোগিতা করা উচিত।
আজ থেকে আমাদের শপথ করা উচিত যে আমরা সবাই সৎ কাজের প্রতিযোগিতা করব এবং খারাপ কাজ বা খারাপ মানুষ কে বর্জন করব।
একটি আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে বা বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাড়াতে হলে আমাদের সকল গর্হিত কাজ যেমনঃ দূর্নীতি,মাদক,ইয়াবা,মানুষের ক্ষতি করা, মানুষের অধিকার হারন করা সহ যত অন্যায়মূলক কাজ আছে সব গুলো বর্জন করে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা করলেই আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাড়াতে পারব।
——————–
মোঃসাইফুল্লাহ মানছুর
শিক্ষার্থীঃঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
দর্শন বিভাগ ৤

Top