“পথের পথিক”- মো: ফিরোজ খান

20190109_201021.jpg

———————-
প্রখর রোদ্দুরে,শীতের শীতলতায় কেটে ছিলো সেই কলেজ জীবন,আজ ভাবতেই শরীর ভারি হয়ে আসে,নিঃশ্বাস..যেনো বন্ধ হয়ে যায়।
দু দন্ডের বিশ্রাম ছিলনা সেই ১৯৯৭,সালের কলেজ জীবনে।এসব কথা মনে করে আজ শুধুমাত্র স্বস্থির বিশ্বাষ..ফেলছি অতিকষ্টে। তবে হয়তোবা এইটুকু ও থেমে যাবে হঠৎ করেই। দুরে;বহুদুরে-সেই দূর তেপান্তরের সুদুরে সেই সময়কে স্বরণ করিয়ে দেয়।আমি বাস্তবতার পথের পথিক হয়েছিলাম এবং এখনও বাস্তবতার নিরিখে পথ চলছি।আজ সেই বহু বছর পরে গত রবিবার ২৮,শে অক্টোবর পথের পথিকের সঙ্গে হঠাৎই দেখা হয়ে গেলো।অপেক্ষার প্রহর শেষে একটু আলো যেনো ছড়িয়ে পড়েছিলো ঢাকার গুলশান দুইয়ের মধ্যে। ভবঘুরে মেঘ যতটা ছিলো তার চেয়ে দুজনের আবার দেখা অনেক বড় পাওয়া ছিলো।ছায়া পড়ে,বন্ধুর সেই কলেজ জীবনের বন্ধুর ছায়া পড়ছে আমার শরীরের মধ্যে। বন্ধু তোমারকথা সবসময় মনের ছিলো তাই হয়তোবা বিধাতা আমাদের আবারও দেখা করিয়ে দিয়েছেন।

আমার চোখের পাতায়,স্ফটিক জ্বলা ঘোলা দৃষ্টিতে;তুমি সবসময় মিলেমিশে ছিলে,সেই বিকেলের কোমল নরম ছোঁয়ার মাঝেও তুমি ছিলে,একলা জীবনের পথের পথিক হয়েই তুমি এসেছিলে সেই কলেজ জীবনে। দীর্ঘ বছর পরে হঠাৎই তোমার মৌনপ্রহর..শেষে দেখা হয়ে গেলো আমাদের দুজনের। নিকশ কালো আঁধারের আয়নায়,ছিলাম আমরা দুজন,বিস্মৃত স্মৃতির বালিয়ারির মধ্যেই কেটে ছিলো আমাদের কষ্টের সেই কলেজ জীবন। ভোলা যায় না কিছুতেই বন্ধু সেই দিনগুলোর কথাগুলো।কিছুই ভোলার নয়..।তাইতো অনেক বছর পরেই দুজনের দেখা হয়ে গেলো পথের পথিকের মতোই।

কেমন করে যে পরিচয় হয়েছিল তা আজও মনের মধ্যে গেথে আছে,সেই ১৯৯৭ সালের কলেজ বন্ধুর সাথে পরিচয় হওয়ার কথা‌ ও কষ্টের স্মৃতির দিনগুলো।মন বুঝি এভাবেই খুঁজে বেড়ায় হারানো দিনের কথা ও স্মৃতির সুন্দর মূহুর্তকে।চলতে চলতে যখনই ক্লান্ত মনে একটু দাড়িয়ে থাকতাম সেই সিদ্ধেশ্বরী কলেজের সামনে (ঢাকার মৌচাক মার্কেটের সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতার সম্মুখে)তখনই দেখা হয়েছিল আজকের বিত্তবান মাসুদ ভাইয়ের সঙ্গে।ভাই না বলে পারলাম না।কেননা আজ সে অনেক বড়,অনেক সম্পদের মালিক ধানমন্ডি দুটো বাড়ি দুটো গাড়ি ও অনেক গুলো দোকানের মালিক।এছাড়াও তার একটি গার্মেন্ট আছে মাসুদ বললো নিজ মুখে এসব কথা এবং গার্মেন্ট টি আশুলিয়ায় আছে সেই ঠিকানাও দিয়েছে আমাকে।

তবে মাসুদ আমার কলেজ বন্ধু ছিলো খুবই ভালো মনের একজন বন্ধু সে।আজ বিগত অনেক বছর পড়েই দেখা হলো,গুলশান দুই নম্বরে।একটু ও পাল্টে যায়নি, সেই আগের মতোই আছে।তবে পরিবর্তন করেছে তার ভাগ‍্যকে,সে আজ পাজেরো গাড়িতে চলাফেরা করে।আমি প্রথমে একটু হিশসিম খেয়ে গিয়েছিলাম, পরবর্তীতে চিনতে অসুবিধা হয়নি একটুও।দুজনে সব কাজ ফেলে ফুটপাতে দাড়িয়ে চা খাচ্ছিলাম আর মন খুলে কথা বলেছিলাম।মন অনেক ভালো হয়ে গেলো একটু সময় কথা বলেই।

পথের পথিক হয়ে দুজনে পরিচয় হয়েছিলো সেই ১৯৯৭ সালে এইচএসসি প্রথম বর্ষের শেষের দিকে।ও এবং আমি দুজনেই টিউশনি করে নিজেদের খরচ বহন করতাম, এবং বাস্তবতার এই ঢাকার শহরে দুজনে খুবই পরীক্ষার মধ্যেই বসবাস করে ছিলাম।তবে পরীক্ষার পরে ও অন্য কলেজে গিয়ে ভর্তি হয়েছিল আর আমি পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলাম।তবে প্রাইভেট ভাবেই পড়াশোনা নতুন করে চালিয়ে গিয়েছি।

মাসুদের মধ্যে কোনো অহংকার ছিলোনা তাই মহান আল্লাহর রহমতে আজ ও সকলের দোয়ায় অনেক ভালো আছে তবে আমিও মোটামুটি ভালো আছি আল্লাহর রহমতে।দুজনের মনের মধ্যে খুবই মিল ছিলো তাই মহান আল্লাহর রহমতে আবারও দুজনের মধ্যে পরিচয় হয়ে গেলো,সেই ১৯৯৭,সালের দুজনের জীবন আর আজকের দুজনের জীবন সত্যি অনেক তফাৎ।সেদিনের কথা মনে হলে আজও দুচোখে জল চলে আসে কতো কষ্টের মাঝে আমরা দুজন পথের পথিক এই বাস্তবতার শহরের মধ্যে আজও বেঁচে আছি এবং অনেক অনেক ভালো আছি।

অনেক দিন পরে দুজনের কথাগুলো দুজনে মন খুলে বললাম আর দাড়িয়ে দাড়িয়ে তিন,চার কাপ চা খেলাম,সত্যিই এমন বন্ধু পৃথিবীতে একজন থাকলেই চলে, হাজার বন্ধুর প্রয়োজন হয়না।দুজনের কথোপকথন হলো,আর বিদায় নিয়ে ও ওর বাসাতে চলে গেলো আর আমাকে আমার অফিসের সামনে নামিয়ে দিলো।সেদিনের দুজন আর আজকের দুজন কোনো পার্থক্য নেই মানুষের মাঝে তবে পার্থক্য হলো মাসুদ অনেক পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন কোটিপতি হিসেবে আর আমি সেই পথের পথিক থেকে কিছুটা পরিবর্তন করতে পেরেছি নিজের জীবনের তবে সেই কষ্ট নেই এখন অনেক অনেক ভালো আছি এই বাস্তবতার শহরে অন‍্য পাঁচজন মানুষের মতোই।

পরিশেষে বলবো পরিশ্রম,সততা, শিক্ষা এই তিনটি গুনাগুন মানুষের জীবন পরিবর্তন করে দিয়ে থাকে তবে সবচাইতে বড় কথা হলো অনেকেই এই পরিবর্তন নিয়ে নিজেদের অহংকার হিস্রা করে থাকে হয়তোবা আগের কষ্টের কথা এবং পরিচিত বন্ধুদের কথা মনে রাখতে পারেন না রাস্তায় দেখা হলেও না চেনার অভিনয় করে থাকেন।কিন্তু মাসুদের মধ্যে একটু ও অহংকার দেখিনি অনেক ভালো মানের একজন বন্ধুর দেখা পেলাম অনেক বছর পরে‌।আজ দুজনের পরিবর্তন হয়েছে তবে সেই পথের পথিকের মতোই দেখা হলো আর কথা হলো ঘন্টা খানেক সময়ের মতোই……..।

লেখক সাংবাদিক

Top