চমকপ্রদ মন্ত্রীসভার চ্যালেঞ্জ

IMG_20190106_172330.jpg

———-
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ যে ইতিহাস বাংলাদেশে সৃষ্টি করেছে তা নজিরবিহীন। অংশগ্রহনৃূলক নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিজয়ী দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করেন। তবে একাদশ জাতীয় সংসদে সবচেয়ে চমকপ্রদ হচ্ছে মন্ত্রীসভা।আওয়ামীলীগ এর অধিকাংশ হেভিওয়েট নেতারা বাদ পড়েছেন এবারের মন্ত্রীসভা থেকে।এবারের মন্ত্রীসভা নিয়ে সাধারণ জনগনের মধ্যেও বেশ সন্তোষ লক্ষ করা গেছে।সব মন্ত্রীকেই জনগন মন থেকে পছন্দ করেছেন। শিক্ষিত, তারুণ্য , সৃজনশীলতা, উদ্যম, পরিশ্রম ও সততার প্রতীক এসব মন্ত্রীরা। অধিকাংশ মন্ত্রীই নুতন। বাংলাদেশ যে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাচ্ছে এর জন্য শিক্ষিত ও সৎ নেতৃত্বের একান্ত প্রয়োজন।সময়ের চাহিদার সাথে সমন্বয় রেখে জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে তা উপহার দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা বর্তমান মন্ত্রী পরিষদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।জনগন উৎসব মুখর পরিবেশে আওয়ামীলীগ কে জয়ী করেছে তাদের কর্মদক্ষতা, উন্নয়ন ও নির্বাচনী আকর্ষণীয় ইশতেহারের জন্য। শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য হ্রাস, প্রশ্নফাস রোধ ও গুনগত শিক্ষা এখন শিক্ষা মন্ত্রনালয় এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।রেলপথ মন্ত্রনালয়কে লাভজনক খাতে নিয়ে আসা শতাব্দীর সেরা চ্যালেঞ্জ বলে মনে হয়।গ্রামকে শহরে রূপান্তর করতে নতুন ও তরুন মন্ত্রীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা উচিত। মন্ত্রী মহোদয় শক্ত হলে তার অধস্তনরা দুর্নীতি করতে ভয় পাবে।তরুনদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা ছিল নির্বাচনের ইশতেহারের একটি অংশ।তথ্য -প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশ ঘটানো প্রয়োজন। সরকারি দায়িত্ব পালন করার সময় “ভাই ” থিওরি বাদ দিয়ে জনগনের সেবা ও নীতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আদর্শ নেতৃত্বের লক্ষণ। অনেক অভিজ্ঞ ও প্রবীন নেতাদের সম্মুখে দেশ পরিচালনা করবেন এই তরুন মন্ত্রী পরিষদ। নতুনদের অনেক সৃজনশীলতা, পরিশ্রম ও বিচক্ষনতার পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে হবে পুরাতন সদস্যদের কাছে ও দেশবাসীর কাছে।উন্নয়ন কার্যকর ও দৃশ্যমান হলেই চলবে না, এর সঠিক রক্ষনাবেক্ষনে ও যত্নে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়তে হলে সদ্য শপথ নেওয়া প্রদীপ্ত মন্ত্রী পরিষদকে দেশের কল্যানে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এখন থেকেই কাজ করে যেতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন “দ্বায়িত্ব পাওয়ার চেয়ে এটি রক্ষা করা কঠিন”।

লেখক –
কে.এম.তারেক আজিজ সুমন
শিক্ষার্থী
হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা কলেজ।

Top