বরিশাল বিএম কলেজ বোটানিক্যাল গার্ডেনে হচ্ছে টেনিস কোর্ট,ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা

received_134974307423149.jpeg

ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের নেট হাউজ ও মাঠ পরিবেক্ষণ কেন্দ্রের (বোটানিক্যাল গার্ডেন) মাত্র দেড় গজ পাশেই শিক্ষকদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে লন টেনিস কোর্ট। এ কারণে সরিয়ে ফেলা হয়েছে নেট হাউজ। কাটা হয়েছে গার্ডেনের কয়েকটি গাছও। শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য প্রায় ৭০ বছর আগে ওই বোটানিক্যাল গার্ডেন করা হয়। যেখানে আছে বিরল প্রজাতির ‘নাগলিঙ্গম’সহ বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষ ও অর্কিড।

এক বছর আগে একই স্থানে টেনিস কোর্ট নির্মাণ করতে গিয়ে প্রতিরোধের মুখে পড়েছিলেন তৎকালীন অধ্যক্ষ। ফের একই স্থানে টেনিস কোর্ট নির্মাণ শুরু করায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পরিবেশ সচেতন মহলে।

বিএম কলেজের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কলেজ ছুটি থাকার সুযোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য করা বোটানিক্যাল গার্ডেন হুকমির মুখে ফেলে এর ভেতরে টেনিস কোর্ট নির্মাণ করছে।

কলেজে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, এক বছর আগে সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ইমানুল হাকিম একই উদ্যোগ নিলে মৃত্তিকা ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে টেনিস কোর্ট নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এবার টেনিস কোর্ট নির্মাণের জন্য গার্ডেনের কয়েকটি গাছও কাটা হয়েছে।

বিএম কলেজের একাধিক সাবেক শিক্ষক জানান, নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা ১৯৫০ সালে বিএম কলেজের মৃত্তিকা ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য এ বোটানিক্যাল গার্ডেনটি করেছিলেন। তিনি তখন বিএম কলেজের শিক্ষক ছিলেন। নিজ হাতেই গার্ডেনে রোপন করেছিলেন নাগলিঙ্গমসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির গাছ ও অর্কিড। সেসব গাছের একটি তালিকা গার্ডেনের পাশে শোভা পেলেও পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অভাবে একাধিক প্রজাতির বিরল গাছ এখন আর নেই। তবে ১৯৫০ সালের পর থেকেই বোটানিক্যাল গার্ডেনটি বিএম কলেজ শিক্ষার্থীদের গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

গার্ডেনটি হুমকির মুখে ফেলে টেনিস কোর্ট নির্মাণ শুরু করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরাও। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) বরিশালের বিভাগীয সমন্বয়ক কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, বিএম কলেজের বোটানিক্যাল গার্ডেনটি মূল্যবান ঐতিহ্য। তার পাশে টেনিস কোর্ট করা হলে গার্ডেনের গাছগুলো সুরক্ষিত থাকবে না। শিক্ষার সঙ্গে সহায়ক পরিবেশ রাখতে হবে ক্যাম্পাসে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বরিশাল বিভাগীয় আহ্বায়ক মো. রফিকুল আলম বলেন, বিএম কলেজের অমূল্য সম্পদ বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশে টেনিস কোর্ট নির্মাণ করার কাজটি আত্মঘাতী। কলেজে অনেক জায়গা আছে। সেসব জায়গায় না করে কেন ওই গার্ডেনের পাশে টেনিস কোর্ট নির্মান করা হচ্ছে- তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের খোঁজ নেওয়া উচিত।

মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞানী এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম ইমামুল হক বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের গবেষণার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত নয়। টেনিস কোর্ট নির্মান করে শিক্ষার্থীদের গবেষণার কেন্দ্রটি কেন কলেজ কর্তৃপক্ষ হুকমির মুখে ফেলেছে তা বোধগম্য হচ্ছে না। দুর্লভ বৃক্ষসমৃদ্ধ বোটানিক্যাল গার্ডেনটির স্বার্থে ক্যাম্পাসের অন্য কোনো স্থানে টেনিস কোর্ট নির্মান করা উচিত।

বিএম কলেজের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহমুদুল ইসলাম ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, কলেজের কোনো কাজের ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাই না। গার্ডেনের পাশে কেন টেনিস কোর্ট করা হচ্ছে তা কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন। উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম জানান, টেনিস কোর্ট করার জন্য নেট হাউজ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ওই নেট হাউজ কোথায় হবে, সেটা কেউ জানে না।

তবে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান সিকদার দাবি করেন, টেনিস কোর্টটি নতুন করে নির্মান করা হচ্ছে না। গার্ডেনের পাশে আগেই টেনিস কোর্ট ছিল। সেটি সংস্কার করা হচ্ছে। এর ফলে বোটানিক্যাল গার্ডেন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না

Top