কমলগঞ্জে ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

IMG_20190102_213558.jpg

নির্মল এস পলাশ কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল গ্রামে মোরগী ব্যবসায়ী রুশন মিয়া (৩২) নামের এক বখাটে যুবকের হাতে চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঘটলেও পরদিন ৩১ ডিসেম্বর কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর বিষয়টি জানাজানি হয়। ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রী বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বখাটে রুশন মিয়া ভানুবিল গ্রামের মৃত খলিল মিয়ার ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
কমলগঞ্জ থানায় করা নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ সূত্রে বুধবার বিকেলে সরেজমিন খোজ নিয়ে জানা যায়, আদমপুর ইউনিয়নের উত্তর ভানুবিল গ্রামের মৃত খলিল মিয়ার ছেলে বখাটে মোরগী ব্যবসায়ী রুশন মিয়া (৩২) গত রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ১১টায় একা পেয়ে বাড়ি থেকে ছনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রীকে (১০) ডেকে নিয়ে পাশের কামারছড়া রাবার বাগানের নির্জন স্থানে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। গ্রামবাসীরা ছাত্রীকে উদ্ধার করে পরে পরিবার সদস্যদের নিয়ে থানা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে মৌলভীবাজারে সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। ঘটনার পরপরই বখাটে রুশন মিয়া পালিয়ে যায়।
সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) নির্যাতিতা ছাত্রীর মা বাদি হয়ে রুশন মিয়াকে আসামী করে কমলগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। গত মঙ্গলবার কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক চম্পক দাম মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতিতার সাথে কথা বলে বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল ভানুবিল গ্রামে তদন্ত করেন। এ দিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ধর্ষণকারী পালিয়ে যায়।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক চম্পক দাম ধর্ষণ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরেজমিন প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে। এখন বাকি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন।
বুধবার সরেজমিন ভানুবিল গ্রামের গেলে নির্যাতিতার মা জানান, তিনি নির্বাচনের আগের দিন বিকেলে আনসার সদস্যা হিসেবে আলীনগর ইউনিয়নের জাঙ্গালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ঘটনাটি শুনে থানায় লিভিত অভিযোগ দেয়ার পর বখাটে রুশন মিয়া আমাদেরকে ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করে বিষয়টি আপোষ নিস্পত্তির জন্য জোর অনুরোধ করে। আমরা এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বখাটে রুশন মিয়া আমাদের বাড়িঘর পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করে। গ্রামবাসী বয়োবৃদ্ধ আলম মিয়া (৭০), সফর আলী (৫৮), আং রহমান (৫১), দুলাল মিয়া (৩৫), সামিনা বেগম (২৫), হাছিনা বেগম (২৮) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষনকারী এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা আতংকিত। সে মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানাভাবে আমাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য অভিযুক্ত রুশন মিয়ার সাথে কয়েকদফা যোগাযোগের চেষ্টা করে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান থানায় কিশোরী ধর্ষনের অভিযোগ গ্রহনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জোর পুলিশি তদন্ত চলছে। তদন্তক্রমে কঠোর হস্তে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে

Top