“শেকড়ের সন্ধানে ব্যাচ -২০১২”—তারেক আজিজ সুমন

IMG_20181218_011222.jpg

————
ঘন কুয়াশা। কনকনে শীত। দৃষ্টিসীমা গজ দু’য়েকের বেশি যায় না। কনকনে শীতের কুয়াশার মধ্যে চোখে স্বপ্ন,বুকে সাহস,গ্রামীন দুরন্তপনা ও জ্ঞানপিপাসু একঝাঁক মেধাবী শিক্ষার্থী ২০০৭ সালে স্কুলের সবচেয়ে নবীন ব্যাচ হিসেবে বাশবাড়ীয়া ঝানঝনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আমাদের পদার্পণ। প্রাথমিক শিক্ষার পরবর্তী ধাপে আমাদের শিক্ষার নতুন পথচলা শুরু। পঞ্চম শ্রেনীর লাজুকতার ছাপ এখনও সবার চেহারায় বিদ্যমান। শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক ভীষ্মদেব হালদার আমাদের নবীনবরন অনুষ্ঠানে স্কুল সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সকলের লাজুকতার ভাবও কাটিয়ে দেন কিছুটা। একে একে সবার সাথে পরিচয়,বন্ধুত্ব এই নিয়ে আমাদের নতুন দিগন্তের পথ চলা। শিক্ষকেরা আমাদের পড়াতেন আর স্বপ্ন দেখাতেন। স্বপ্নের সিড়িতে কীভাবে উঠতে হবে তার পদ্ধতি শেখাতেন।দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ,মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির আদর্শে শিক্ষকেরা আমাদের বড় করে তোলেন। সময়ের পালাবদলে ৯ম শ্রেনীর মাইলফলকে আমাদের ব্যাচ। এবার বিভাগ পছন্দের পালা। কেউ হবে ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার,কেউবা ব্যাংকার হবে, বড় ব্যবসায়ী হবে আবার কেউ কেউ শিক্ষক হবে।বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক এই তিন বিভাগে আমাদের ব্যাচ ভাগ হয়ে গেল যার যার পছন্দমত। এরই মধ্যে আমাদের সম্মিলিত বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে উঠল। বনানী,তুলি,রত্না,তানিয়া,লাবনী,মানসুরা,মঈনুদ্দিন, ইমরান, খলিল, জসিম,রাসেল, আকবর আমাদের মধ্যে একটা অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব হল। লেখাপড়ার পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন সামাজিক -সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড,স্কাউটে অংশগ্রহন,বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন আমাদের শিক্ষার ভিত্তিকে আরও মজবুত করে। আমি ব্যাবসায় শিক্ষার ছাত্র ছিলাম। ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকের ছাত্ররা যেতাম বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক ল্যাবে কঙ্কাল দেখতে। ভয়ে বুকটা আতকে উঠত! ভীষ্মদেব স্যারের বাংলা ক্লাসের সেই ধ্বনি ও মনোযোগ আজও অন্তরের নিভৃত কোনে সাড়া জাগায়।ইসলাম শিক্ষা স্যারের বেতের পিটুনি খুবই মজাদার ছিল। সময়ের ব্যবধানে আমরা সবাই এস.এস.সি পরীক্ষা দিলাম। পরীক্ষার ফলাফলে ২০১২ সালে সর্বোচ্চ জিপিএ আসল ৪.৫৬ ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে।২০০৭ সালে ভর্তি হওয়া সেই ছোট্ট আমরা স্কুলের সবার বড় ২০১২ সালে। বিদায় নিতে হবে এমন ভাবনাটা আমাদের জন্য বেদনার ছিল। এস.এস.সি পাশ করে কেউ যোগ দিল সেনাবাহিনী,পুলিশ,বিজিবি,ফায়ার সার্ভিস, আনসারে।আবার কেউবা উচ্চ জ্ঞান তৃষ্ণা মেটাতে বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হলো। কলেজ থেকে অনেকেই উচ্চ শিক্ষার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে যা এ প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্মান ও গৌরবের।দেশ মাতৃকার সেবায় নিয়োজিত থেকে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধ পরিকর ব্যাচ -২০১২।এ বিদ্যাপীঠ আমাদের শিক্ষার মূল শেকড় যার ওপর ভর করে আজ আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত লেখাপড়া করছি। কর্মজীবনে দেশমাতৃকার সেবা করা আমাদের ব্যাচ ২০১২ এর প্রধান অঙ্গীকার। শেকড়ের সন্ধানের উন্নয়নের কাজে আমরা বদ্ধপরিকর। ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়তে বাঁশবাড়ীয়া ঝনঝনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রনী ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।বাঁশবাড়িয়া ঝনঝনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ব্যাচ-২০১২ এর পক্ষ থেকে শুভ কামনা ও ভালবাসা।

———
লেখক- কে.এম.তারেক আজিজ সুমন
এস.এস.সি ব্যাচ -২০১২
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ ও
শিক্ষার্থী হিসাববিজ্ঞান বিভাগ(৪র্থ বর্ষ)
ঢাকা কলেজ,ঢাকা।

Top