‘স্তন ক্যান্সার ও নারীদের করণীয়’

received_305395016850063.jpeg

মো.জাহানুর ইসলাম ঃ
যে কোন ধরনের মরণব্যাধির হাত থেকে বাঁচতে দরকার সচেতনতা, দরকার রোগ বিষয়ে জানা এবং অন্যকে জানানো।সাম্প্রতিক সময়ের মরণব্যাধি রোগগুলোর মধ্যে স্তন ক্যান্সার অন্যতম। ‘স্তন ক্যান্সার’ এখন নারীদের জন্য এক মারাত্মক আতঙ্কের নাম। সমগ্র বিশ্বে নারীদের ক্যান্সার জনিত কারণে মৃত্যুবরণের অন্যতম কারণও এই ‘স্তন ক্যান্সার’। পশ্চিম বিশ্বে এর প্রাদুর্ভাব বেশি থাকলেও দিনদিন বাংলাদেশেও এই স্তন ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।তাই এখনই এর লাগাম টেনে ধরতে হবে,নতুবা অদুর ভবিষ্যতে আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। নারীদেরকে এই রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে,এই রোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে সবাই কে জানাতে হবে। শুধু দিবস পালনের মধ্যে যেন আমরা সীমাবদ্ধ না থাকি সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। নতুবা কাজের কাজ কিছুই হবে না।এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় প্রতিবছর ১৪,৮৩৬ জন নারী এই মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ও এর মাঝে প্রায় ৭১৪২ জনেরও বেশি অকালে প্রাণ হারান। তবে বিপজ্জনক হলেও সত্যি যে, এই ক্যান্সার প্রাথমিক স্টেজে নির্ণয় করতে পারলে ও চিকিৎসা চললে রোগীর পক্ষে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসা অসম্ভব কিছু নয়।’স্তন ক্যান্সার ‘ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে প্রায় শতভাগ নিরাময় করা যায়।তাই এই রোগ নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই তবে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।নতুবা বড় ধরনের ঝুঁকির আশংকা থাকবে সব সময়।

স্থূলতা, ধূমপান, মদ্যপান, হরমোনাল পিল/জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি (দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে যেমন ১০ বছর), ৩০ বছর বয়সের পর প্রথম গর্ভধারণ। বয়স, মাসিক শুরু হওয়ার বয়স, মাসিক বন্ধ হওয়ার বয়স, পরিবারে কারও এই রোগের ইতিহাস থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই প্রবল।তবে তিন থেকে চারগুণ বেশি ঝুঁকিতে আছেন তারা যাদের রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয় যেমন- মা, মেয়ে, বোন যে কেউ এই স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত। স্তনে চাকা ও পিণ্ড অনুভব করা, স্তনের আকার খুব দ্রুত বেড়ে যাওয়া, স্তনের বোঁটা দিয়ে রস নিঃসরণ হওয়া বা রক্তপাত হওয়া,নিপল ও তার আশেপাশের কালো অংশ ফুঁসকুড়ি ও চুলকানি হওয়া,স্তনে দীর্ঘদিন ব্যথা অনুভূত হওয়া,গলার কাছে অথবা বগলে চাকা অনুভব করা,স্তনের ত্বকে বিভিন্ন পরিবর্তন যেমন চামড়া কুঁচকে যাওয়া, কমলার খোসার মতো ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেওয়া, চামড়ায় টোল পড়া, দীর্ঘস্থায়ী ঘা ইত্যাদি,স্তনের বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া ইত্যাদি হলো স্তন ক্যান্সার রোগের অন্যতম উৎসর্গ। উপসর্গ দেখা দেওয়া মাত্রই চিকিৎসক-এর সরণাপন্ন হতে হবে।ম্যামোগ্রাফী বা স্তনের আল্ট্রাসনোগ্রাম করে,বায়োপসি অথবা এফ.এন.এ.সি. করে স্তন ক্যান্সার হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়।

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে কয়েকটি পরামর্শ হলো স্তনের যেকোনো লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে,সন্তান জন্মদানের পর অবশ্যই অন্তত ৬ মাস পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়াতে হবে,মাসিক বন্ধ হয়ে যাবার পর অবশ্যই যেকোনো ধরনের সমস্যায় ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে,জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি/ পিল যখনই খাবেন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।রোগ নির্ণয় হয়ে গেলে ডাক্তারের পরামর্শ মত দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে ও অপারেশন করাতে হবে,স্তন ক্যান্সারের অপারেশন হয়ে যাবার পরও ডাক্তারের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে।

ইদানিং উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও রোগীকে স্তনের পুরো অংশ সার্জারি না করে শুধুমাত্র ক্যান্সার টিস্যু ও কোষ অপসারণ করার অপারেশন করা হয়। এক্ষেত্রে খরচও কম হয়।আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য এখন স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর পুরোপুরি ভালো হওয়ার হারও বাড়ছে। তাই স্তন ক্যান্সার নির্ণয় হলে ভয় পাওয়ার কিছু নাই । দ্রুত চিকিত্সা ব্যবস্থা ও চিকিত্সক এর সরণাপন্ন হলে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। আশা করছি আমাদের নারীরা নিজেরা সচেতন হবে এবং পাশের নারীকেও সচেতন করবে। কেননা একটু সচেতনতা ও সতর্কতাই পারে নারীদের নিরাপদ রাখতে। পারে অকাল মৃত্যু ঠেকাতে।

লেখক : সভাপতি,বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম

Top