বরিশালে শিশু শিক্ষার্থীকে অমানবিক নির্যাতন, শিক্ষক গ্রেপ্তার

48273060_345284872694445_367304349023469568_n.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট/বরিশাল নগরীর শিকদার পাড়া নূরানী মাদ্রাসায় দেড়শ টাকার জন্য পরিক্ষার হলে বেঞ্চের উপর দাড় করিয়ে শিশু শিক্ষার্থীর কান ধরে উঠ-বস করিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। সেই সাথে টাকা না দিলে বাকি পরিক্ষা দিতে না দেয়ার হুমকি দিয়েছেন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক সিরাজ। এ ঘটনায় শিশু শিক্ষার্থী আহাদুজ্জামান মাহি মানসিক ও শারীরিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিশুটির বাবা বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোষ্ট করে এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ফেসবুক পেইজে শেয়ার করে। ফলে বিষয়টি বিএমপি কর্তৃপক্ষ গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়েছেন। আটক করা হয়েছে নির্যাতনকারী ওই শিক্ষককে।

সূত্র জানায়, শিকদার পাড়া নূরানী মাদ্রাসার প্রথম জামায়াতের শিশু শিক্ষার্থী মাহির(৭) পরিক্ষার ফি বাবাদ ১৩শ ৫০টাকা ধার্য করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। পরে মাহির বাবা ১২শ টাকা পরিশোধ করে বাকি দেড়শ টাকা পরিক্ষার মধ্যে দিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু প্রথম পরিক্ষার দিনই মাদ্রাসার শিক্ষক সিরাজ দেড়শ টকা বকেয়া থাকার কারনে শিশু শিক্ষার্থী মাহিকে বেঞ্জের উপর দাড় করিয়ে শিশু শিক্ষার্থীর কান ধরে উঠ-বস করে এবং টাকা না দিরে পরিক্ষার হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি প্রকাশ করা হলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহন করে। আজ শনিবার সকারে নির্যাতনকারী ওই শিক্ষককে কৌশলগত ভাবে গ্রেপ্তার করে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে শিশু শিক্ষারর্থীর বাবা কামরুজ্জামান বাবু বলেন, অহেতুক আমার ছেলের ওপর নির্যাতন করায় তিনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভয়ে এখন আর মাদ্রাসায় পরিক্ষা দিতে যেতে চায় না। তিনি বলেন, কোন শিক্ষারর্থীকে যেন এমন ভাবে আর নির্যাতন না করা হয়।

এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এক জনকে থানায় আনা হয়েছে। তবে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। শিশুটিকে যদি সত্যিই নির্যাতন করা হয় তাহলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর যদি এমন কিছু না হয় তাহলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে।

Top