কমলগঞ্জে শীতার্থদের পাশে দাঁড়াতে একটি মানবতার দেয়াল

47502286_588338188263769_5035953943172087808_n.jpg

নির্মল এস পলাশ, কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :
গ্রামীণ জনপদে শীত পড়ছে অনেকটা। এই শীতে গরীব, দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষেরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায়। দেশের আনাচে কানাচে, ফুটপাতের ওপর অসংখ্য অসহায় মানুষ পরস্পরের উত্তাপ নিয়ে জড়াজড়ি করে নিশিযাপন করে। একটি গরম কাপড়ের অভাবে শীত অনেক কষ্ট দেয়। শীতের কামড় থেকে এই ভাগ্যহত ‘মনুষ্যশরীরগুলোকে’ রক্ষা করার জন্য গরম কাপড় ও নৈশ আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকা জরুরী ছিল। সেহেতু অনিবার্যভাবে খোলা আকাশকে চাঁদোয়া বানিয়ে গরিব মানুষ রাত্রিযাপন করছে । সমাজের এসব অবহেলিত মানুষের কথাভেবে কমলগঞ্জ উপজেলার একটি সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়েছে ‘মানবতার দেয়াল’।
সদ্য রং করা হয়েছে দেয়ালে। সেখানে বড় করে লেখা ‘মানবতার দেয়াল’। রঙিন দেয়ালের হ্যাঙ্গারে ঝোলানো প্যান্ট, শার্ট, গেঞ্জি, শীতের কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের পরিদান। দেয়ালের একপাশে লেখা- ‘আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস এখানে রেখে যান’। অপর পাশে লেখা- ‘আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যান’। সদ্য তৈরি এ দেয়াল দেখে কেউ কেউ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নিজের অতিরিক্ত দুয়েকটি কাপড় এখানে রেখে যান। আবার যাদের প্রয়োজন তারা সেখান থেকে একটি-দুটি কাপড় নিয়ে যাচ্ছেন। এমন অভিনব উদ্যোগের নাম ‘মানবতার দেয়াল’।
দেশের বিভিন্ন জায়গার মতো মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় আত্মমানবতার সেবায় নিয়োজিত সংগঠন ‘স্বপ্ন ফেরিওয়ালা’ কমলগঞ্জ’র উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্থাপন করেছে ‘মানবতার দেয়াল’। কমলগঞ্জের উপজেলা চৌমুনীতে এ দেয়ালটি স্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে মানবতার দেয়ালের কাছে গেলে দেখা যায়, অনেকগুলো কাপড় সেখানে ঝুলানো রয়েছে। নিচে রয়েছে আরো অনেক কাপড়-চোপর। এ সময় দেখা যায় কয়েকজন শীতার্ত মানুষ সেখান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় কাপড় সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন।
কাপড় সংগ্রহকারী রিক্সাচালক জব্বার মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, ‘আমরা দিনদুঃখি মানুষ, শীত আইলে অনেক কষ্ট করি থাকা লাগে। রিক্সা চালাইয়া যে টেকা পাই, মালিক ভাড়া দিয়া যে টেকা থাকে তা দিয়া কোনোমতে সংসার চালাইলাই। ৬ জনের সংসারও আমি একলা রোজগারী। চাইর পুরী স্কুলে পড়ে তাদের পড়ালেকার পয়সাও জোগানী লাগে। শীতর দিন ভালা গরম কাপড় কিনতাম পারি না। মাইনষে কইল ওউ ওয়াল থাকি টেকা ছাড়া কাপড় নেয়া যায়। কাপড় দেখিয়া ২টা কাপড় আমি অন থাকি লইছি একটা আমার লাগি, আর একটা আমার ছোট পুরীর লাগি। যে মানুষগুনতে আমরার লাখান মানুষর লাগি কাপড়র এ ব্যবস্থা করছইন তারারে উপরওয়ালায় দোয়া করবা।’
‘মানবতার দেয়াল’ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বপ্ন ফেরিওয়ালা’র সভাপতি শাহিনুর রহমান দিপু জানান, সমাজের বিত্তবান সচ্ছল মানুষের প্রতি মানবিক আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজের হতদরিদ্র অবহেলিত মানুষের জন্য কিছু করতেই সংগঠনের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমরা আশা করি সমাজের বৃত্তবান মানুষেরা তাদের অব্যবহৃত জামাকাপড় এ সব দেয়ালে রেখে যাবেন। স্বপ্ন ফেরিওয়ালা’র সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকিন আহমেদ তুহিন বলেন, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহারের অতিরিক্ত এবং অপ্রয়োজনীয় কিন্তু ব্যবহারযোগ্য অনেক পোশাক আমাদের ঘরে অকারণে এবং অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। এই পোশাকগুলো যদি এখানে জমা দেয়া হয় তাহলে শীতার্ত মানুষ উপকৃত হতে পারে। আমরা উপজেলা চৌমুনাতে একটা দেয়াল স্থাপন করেছি, কয়েকদিনের মধ্যে উপজেলার আরো কয়েকটি জায়গায় আমরা এসব দেয়াল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি

Top