যশোর-৫ মনিরামপুর আসন ।। ফুরফুরে মেজাজে আ’লীগ, মনোনয়ন জটিলতায় বিএনপি

images-1-1.jpg

আব্দুর রহিম রানা, যশোর ;
একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে যশোর-৫, মণিরামপুর আসনে আওয়ামী লীগ রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে। অপরদিকে ধানের শীষের কান্ডারি চূড়ান্ত না হওয়ায় মনোনয়ন জটিলতায় রয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। এছাড়া এবার আসনটি কোনভাবেই বিএনপি তার শরীকদের ছাড় দিতে নারাজ। শীর্ষদলের মধ্যে নৌকার মাঝি ঠিক হলেও ধানের শীষের কান্ডারীকে তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। এতে করে নৌকার মাঝি দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ঘরোয়া সভা-সমাবেশে করে চললেও তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঘোরের মধ্যে রয়েছে। এরফলে দৃশ্যত দলটি নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে রয়েছে। এ সংসদীয় আসনের সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
গত ২৬ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব স্বাক্ষরিত ধানের শীষের মনোনয়ন তুলে দেয়া হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের হাতে। পরদিন ২৭ নভেম্বর মনোনয়ন পান থানা বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেনকে। তারপরও ধানের শীষ প্রতীক যিনি পাবেন মূলত: তার সাথেই নৌকা প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোট বিশ্লেষকরা।
গত ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষে দিনে অধিকাংশ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। গত ২ ডিসেম্বর যাছাই-বাছাই শেষে ঋণ খেলাপি, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১% ভোটার সঠিক না হওয়াসহ নানা কারণে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুল ইসলাম বারী, বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মুসা, ইসলামী আন্দোলনের ইবাদুল ইসলাম খালাসী, জাগপার প্রার্থী নিজাম উদ্দিন অমিত ও জাকের পার্টির রবিউল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। অপরদিকে আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনীত প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্য্যসহ মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, অ্যাডভোকেট শহীদ মো. ইকবাল হোসেন ও জাতীয় পার্টির এমএ হালিমের মনোনয়ন পত্র বহাল আছে।
আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে অনেকে মনে করেন। ১৯৯১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ ৩ বার, বিএনপি জোট ১ বার ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ১ বার জয়ী হন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন ও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে প্রয়াত অ্যাডভোকেট খান টিপু সুলতান নৌকার প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোটের শরীক ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান এমপি স্বপন ভট্টাচার্য্য বিজয়ী হন।
এদিকে এবারের নির্বাচনে কোনভাবেই শরীকদের ছাড় দিতে নারাজ বিএনপি। বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষোভের সাথে বলেন, বিগত ১০/১২ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতন হামলা-মামলার শিকার কোন নেতা কর্মীর খোঁজ নেননি বিএনপি জোটের মুফতি মুহামম্ম ওয়াক্কাস।
জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, এ আসনে বিএনপির জনপ্রিয় নেতা বার বার কারাবরণকারী অ্যাডভোকেট শহীদ মো. ইকবাল হোসেন ছাড়া একজন জনবিচ্ছিন্ন মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের প্রার্থীতা কোনভাবেই তারা মেনে নেবেন না। তারপরও এ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীদের আবেগ অনুভূতিকে পাশ কাটিয়ে মুফতি ওয়াক্কাসকে প্রার্থী করা হলে এ আসনটি হারাবে বলেও মনে করেন বিএনপির এ নেতা।
কিন্তু এর বিপরীত চিত্র আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে। কমপক্ষে ১২ জন দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও এখন সবাই নৌকার পক্ষে একাট্টা হয়ে কাজ করছেন।
জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান নিজেও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন উল্লেখ করে বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতা ছিল। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের সকল ইউনিটের নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। নৌকা মার্কা জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদি তিনি।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমএ হালিম বলেন, তিনি জাতীয় পার্টির যোগ্য হিসেবেই মনোনয়ন পেয়েছেন। তারপরও জোটগত নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলের যে কোন সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন বলে জানান জাপার এ নেতা।

Top