প্রত্যাশা(ছোটগল্প)—মোঃ ওসমান গনি শুভ

46519648_374510616425184_7254228431850700800_n.jpg

( পর্ব-১)—————————————-

–ইকরাম বাশার গ্রামের একটি স্কুল থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে ভর্তি হয়েছে উপজেলা শহরের বিখ্যাত একটি কলেজে। কলেজের প্রথম দিন থেকে তার মনে উল্লাস লেগে আছে। বলা যায় ফুরফুরে হাওয়া বইছে। প্রথমদিন সে এমন একটি ঘটনা প্রত্যক্ষ করল যা দেখে তার মাথা হেট হয়ে গেল। সে দেখল একটি আজব কাহিনী যা সে বিভিন্ন বাংলা ছায়াছবিতে দেখেছে, আজ তার বাস্তব প্রমাণ মিলল। ম্যানেজমেন্ট ক্লাস শেষে যখন ক্লাস থেকে তারা বের হচ্ছে তখন তার সিনিয়র এক বড়ভাই পিছন থেকে তার ক্লাসের মৌটুসি নামের একটি সুন্দরী মেয়েকে হাত ধরে জোর করে টেনে নিয়ে গেল এটি চিপায় যেখানে এখন নতুন বিল্ডিং হয়েছে অনার্সের একাউন্টিং ক্লাস হয় । মৌটুসি কিনতু চশমা পরত। ছেলেটি তার চশমা খুলে তাকে জোর করে কিস করল। যেহেতু লাস্টের লাইনের তারা কিছুই করতে পারল না সেহেতু তারা মনে মনে প্রতিবাদ করল। ইকরাম বাশার ঝুঁকে মেরে উঁকি দেয় সেই করুণ দৃশ্য অবলোকন করার জন্য। মৌটুসির চোখের জল আজ হয়ত যেখানে অর্নাসের একাউন্টিং ক্লাস হয় সেখানে পড়েছিল। মৌটুসির চশমা খুলে ছেলেটা আবার নিচে মানুষজনকে দেখাচ্ছিল হয়ত লম্পটছেলেটার লম্পট বন্ধুগুলো এবং এবং সাধারণ ছাত্ররা ছিল। মৌটুসি তার সম্মান বাঁচাতে প্রিন্সিপাল স্যার এর কাছে অভিযোগ দায়ের করল। ছেলেটির হয়ত কোনো স্ট্রং পলিটিকাল পাওয়ার ছিল। সেজন্য প্রিন্সিপাল স্যার কিছুই করতে পারিনি। এইটায় ছিল কলেজে ইকরাম বাশারের প্রথমদিন। কত রঙিন স্বপ্ন নিয়ে গ্রাম থেকে শহরে এসেছিল ইকরাম বাশার। প্রথমদিন এরকম দৃশ্য অবলোকন করে কলেজের প্রতি তার ভালবাসা চলে গেল। প্রথমদিন কলেজে এসে যে ছেলেটির সাথে দেখা হয়েছিল সেই ছেলেটি ছিল হিন্দু তার নাম ছিল প্রান্ত ঘোষ। উপজেলার শ্যামসুন্দর গ্রামে ছিল তার বাড়ি। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পড়ার বদৌলতে তার রোল নাম্বার ছিল ১০১। বাহ্!কি সুন্দর!! তার রোল ছিল তার মনের মত। আগেও এক শেষেও এক। কলেজ কর্তৃপক্ষের ছয়তলা হোস্টেলের ঠিক ছয় তলার শেষ রুমে থাকত ইকরাম বাশার। রুম নাম্বার ছিল ৬১১। রুম নাম্বারও তার ভাল। বাহ্!! এখানেও দুইটি এক। একরুমে থাকত সাতজন। তার মধ্যে ফাস্ট ইয়ারের তিনজন এবং সেকেন্ড ইয়ারের চারজন । ইকরাম বাশার,রুহুল, প্রান্ত ঘোষ এরা ফাস্ট ইয়ারের। এদের জায়গা হলো ফ্লোরে।এবং সেকেন্ড ইয়ারের ইশতিয়াক, রাজ, সবুজ এবং

( পর্ব- ২)———————————————–

অসীম দাদা ছিল বেডে। যখন এদের এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ হবে তখন রুহুল, প্রান্তদের সাথে ইকরামও বেডে উঠবে। কলেজ হোস্টেলে এই নিয়ম চলে আসতেছে একদম প্রথম থেকে। কলেজটি যে বছর প্রতিষ্ঠা হয়েছিল সে বছরেই একতলা হোস্টেল হয় শুধু ছাত্রদের জন্য ধীরে ধীরে আজ ছয় তলা।

এরপর ইকরাম ভর্তি হল প্রমি কোচিং, সাকসেস কোচিং, মা-বাবার
দোআ কোচিং এবং রাজু একাডেমিক কোচিং এ।

প্রথমে প্রমি কোচিং এর একটি কাহিনী বলি। প্রথমদিন প্রান্ত ঘোষ এবং ইকরাম ভর্তি হতে গেল, গিয়ে দেখল ওখানে স্যার ক্লাস নিচ্ছে , ওরা সালাম দিয়ে ভিতরে ঢুকল
স্যারের সাথে কথা বলছে , বলতে বলতে একদিকে নজর পড়ল তার।একটি সুন্দরী মেয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে এই ভেবে সে সোঁ করে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল সত্যিই একটি অপরূপ মেয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে, সেই মেয়েটি ছিল প্রত্যাশা।

যথারীতি ভর্তি হল । কোচিং এর ১১রোল ফাঁকা রেখেছিল স্যার
সেখানেই স্থান হলো ইকরাম বাশারের। আর প্রান্ত ঘোষ ভর্তি হল
৬১ রোলে। সবমিলিয়ে দুইজন দুই শাখায় ভর্তি হল তারা দুই বন্ধু। ইকরাম ও প্রত্যাশার কোচিং এক হলে কি হবে তারা ছিল দুই কলেজের।

প্রথমদিন স্যার ক্লাসে সবাইকে পরিচয় করেদিল ইকরামের সাথে। বলে দিলন যে ছেলেটি গোল্ডেন জিপিএ ৫ পাওয়া। এই নিয়ে দুইজন গোল্ডেন এ প্লাস ভর্তি হল স্যারের কোচিং এ। ইতোপূর্বে কখনো এরকম ভর্তি হয়নি তবুও স্যার কোচিং থেকে গোল্ডেন এ প্লাস বাহির করেছেন আট- দশটি।

হাইস্কুলে ইকরাম কোচিং এবং ক্লাস খুবই ফাঁকি দিত কিন্তু কলেজে উঠে একদিনও ফাঁকি দেয়নি বরং একদিন কি করল শুক্রবারে কোচিং করতে চলে এল। স্যার বলল, ইকরাম কি খবর? ইকরাম বলল, স্যার, কালকে
একটি পেন্সিল হারিয়েছি। স্যার বলল, না আমি কোনো পেন্সিল পাইনি।

স্যার, নিজ হাতে তার কোচিং ঝাড়ু দিয়ে পরিস্কার করে। যা পায় খোঁজ নিয়ে পরের দিন শিক্ষার্থীর নিকট ফিরিয়ে দেয়। স্যারের একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে অমি আর প্রমি। প্রমির দুই ছেলে মাহিম আর ফাহিম।

এমনকি হাফ ইয়ারলি পরীক্ষায় দুই কলেজ থেকে দুইজন ফাস্ট হল
।মোট নাম্বারে প্রত্যাশা ২০ নাম্বার পিছিয়ে ছিল ইকরামের চেয়ে । ইয়ার ফাইনালেও দুইজন দুই কলেজ থেকে
ফাস্ট হল এবার প্রত্যাশা মোট নাম্বার ১১ বেশি পেয়েছে ইকরাম বাশারের চেয়ে।

ধারাবাহিক চলবে————-

Top