“দায়িত্ববোধের কারাগারে কারারুদ্ধ গোষ্ঠী “—ইসরাত জাহান ইরা

IMG_20181121_232004.jpg

——————-
গত ১৯ই নভেম্বর ছিল বিশ্ব পুরুষ দিবস।জানেন না তাইনা? জানবার কথাও না। ৮ ই মার্চ বিশ্ব নারীদিবসে পত্রিকার সাথে আলাদা সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়,দিবস কেন্দ্রিক চ্যানেলে চ্যানেলে টকশো হয়,ফেসবুকের সব পেইজে নারীদের সুখ-দুঃখ লিপিবদ্ধ হয়।কিন্তু পুরুষ দিবসে কি হয়? কিচ্ছু না। পুরুষ দিবস আছে কি না তাও অনেকেই জানেনা।
কি জানেন একটা সংসারের বোঝা টানতে টানতে, পাবলিক বাসে ঝুলে ঝুলে আসা একজন পুরুষ যার ৩০০ টাকার শার্ট হলেই চলে কিন্তু ছোট মেয়েটার জন্য একটা ভালো পোশাক না হলেই না, এদের কাছে পুরুষ দিবস থাকলেই কি না থাকলেই কি।সব দিনই এক।এই যে,নারীদিবসের এতো এতো কথা আওড়ানো হয়, কখনো ভেবে দেখেছেন যে এরাও শোষন হতে পারে!
না।ভাবেননি।পুরুষ তো ধর্ষক।পুরুষ মানেই পশু। হ্যা, ছয় বছরের ছোট্ট মেয়েটাকে যে খুবলে খায় সেও পুরুষ আবার যে নিজের বোনকে অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে না ফেলার জন্য নিজে ন্যাপকিন কিনতে যায় সেও পুরুষ। পার্থক্য শুধু রুচিতে,শিরদাঁড়ায়। পুরুষ মানেই যে ধর্ষক এটা ভাবা হচ্ছে চিন্তার অসুস্থতা।
আপনি রাস্তাঘাটে ছেলেদের ইভটিজিং এর স্বীকার হচ্ছেন। বিচার চাচ্ছেন। সব ক্ষেত্রে না হলেও মোটামুটি সবাইই বিচার পাচ্ছেন। কিন্তু একজন ছেলে খ্যাত হলে,পায়ে হাওয়াই চপ্পল পরে রাস্তা দিয়ে হাঁটলে কতো মেয়ে তাকে নিয়ে হাসে,এটা ওটা বলে তা সে কর্ণপাতই করেনা।পুরুষ মানুষ যে।
একজন পুরুষ যার মাথায় পুরো পরিবারের দায়িত্ব,ক্যারিয়ার, ভালোবাসার মানুষকে দেয়া প্রতিশ্রুতি সব যখন থাকে তখন তার দুচোখ যা দেখে তা আমরা সাধারন চর্মচক্ষু দিয়ে দেখতে পাইনা।
রিকশায় যাচ্ছেন, রেস্টুরেন্টে যাচ্ছেন সবকিছুর বিল দিতে হবে পাশে দাঁড়ানো ছেলেবন্ধুটার।তার মাস চলুক বা না চলুক তাকেই দিতে হবে কারন সে পুরুষ মানুষ।
আরেকটা বড়ো বিষয় হচ্ছে বিয়ে।আমরা মেয়েরা চাইলেই একটা যোগ্যতাসম্পন্ন পাত্র জোগাড় করতে পারি।কিন্তু তাদের যোগ্য হতে হয় তারপর বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়।তাতে বয়স ৩২ হোক যায় আসেনা।বিয়ের প্রসঙ্গে পুরুষ যদি পাত্রীর হাইট বা গায়ের রং নিয়ে কথা তোলে তবে সে রেসিস্ট,অশিক্ষিত, বর্বর,ন্যারো মাইন্ডের।কিন্তু কনেপক্ষ যখন জিজ্ঞেস করে যে বাবা,তোমার বেতন কত তখন সেটা হয় নর্মাল প্রশ্ন।
একজন পুরুষ যদি নারীর ভরণপোষণ না দিতে পারে তবে সে কাপুরুষ। আর একজন নারী যদি সংসারে কিছু টাকা নাও দেয় তাতে সমাজের কিচ্ছু যায় অাসেনা।
একটা পরিবারের দায়িত্ব,সবার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব,নিজের ক্যারিয়ার গড়বার দায়িত্ব,ভালোবাসার মানুষটাকে দেয়া কথা রাখবার দায়িত্ব,নারীকে আগলিয়ে রাখার দায়িত্ব ইত্যাদির বোঝা বহনকারী পুরুষ সমাজকে সম্মান করতে শিখুন, ভালোবাসুন। তার প্রাপ্যটুকু তাকে দিতে শিখুন।

লেখকঃ ইসরাত জাহান ইরা
শিক্ষার্থীঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Top