সমাজ বিনির্মানে ছাত্রজীবনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন–ওসমান গনি শুভ

46397968_298475407673927_2684124658990579712_n-1.jpg

———————-
যেকোন ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা, ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং সুবিধাবাদী মনোভাব ত্যাগ করে বৃহত্তর সমাজের, অস্বচ্ছল, দীন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোকে আমরা সাধারণত স্বেচ্ছাসেবা হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারি। স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে সমাজ এবং মানুষের জন্য কিছু করা নিঃসন্দেহে একটি মহৎ কর্মকান্ড।আপাতদৃষ্টিতে আমরা যে কয়েক ধরনের স্বেচ্ছাসেবা দেখতে পায় তাকে চারটি ধারায় বিভক্ত করলে ১.প্রচার অভিযান,২.দান করা, ৩.একজন অপর জনকে সাহয্য করা এবং৪. অংশগ্রহণ।

বর্তামানে বাংলাদেশে প্রায় ৭,৫০০ টির মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে অক্লান্ত পরিশ্রম, ধৈয্য এবং মেধার সাথে।সমাজকল্যাণ, সমাজ উন্নয়ন তথ সমাজের সার্বিক উন্নতি সম্ভব একমাত্র স্বেচ্ছসেবী সংগঠনের মাধ্যমে। স্বচ্ছসেবী সংগঠন প্রত্যেক মানুষকে একই সূতায় গাঁথা ফুলের মত ঐক্যবদ্ধ এবং সুসংগঠিত করে তোলে। যেসব মানুষ কর্মবিখুম বিশেষত তাদের জন্য স্বেচ্ছাশ্রম একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। স্বেচ্ছাশ্রম মানুষের কর্মবিমুখতা দূর করে কর্মঠ ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলে।নেতৃত্ব এবং সামাজিকভাবে মর্যাদা দান করে। যে জাতি যত স্বচ্ছাসেবী সে জাতি তত উন্নত এবং সমৃদ্ধশালী বলে আমার বিশ্বাস। সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি, সাম্প্রদায়িক হানাহানি দূর করে সমাজ বির্নিমাণে স্বেচ্ছাসেবা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কোন বিকল্প নাই।

স্বেছায় রক্তদান, রাত্রিকালীন বিদ্যালয় অর্থাত নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন, রাস্তাঘাট সংস্কার, বৃক্ষরোপণ, ক্ষেতের জলসেচের জন্য কৃত্রিম খাল খনন, স্কাউটিং, বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, অসুস্থ-দুস্থদের পাশে দাড়ান, শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ, প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে যেমন ভূমিকম্প, ভূমিক্ষয়, নদীভাঙণের কবলে কবলে পড়া ব্যক্তিদের সাহয্য প্রদান, বাঁধনির্মাণ, বাল্যবিবাহ-বহুবিবাহ রোধ, স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরি, টিকাদান কর্মসূচি ছাড়াও এই ধরনের বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে আমরা দেশ এবং দেশের মানুষের বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে কাজ করে যেতে পারি।

তাছাড়া সমাজের উন্নয়নের জন্য চ্যারিটি ফান্ড খোলা যেতে পারে। যাকাতের টাকা, কোরবানির টাকা, হাট-বাজার থেকে সংগ্রহ করা চাঁদা, মুষ্টি চাল সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে মানবকল্যাণ করা সম্ভব। পরিশেষে বলা যায় যে, সমাজকল্যাণ এবং সমাজউন্নয়নে ছাত্রজীবনে স্বেচ্ছাশ্রম এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কোন বিকল্প নাই।

মো.ওসমান গনি শুভ
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top