গ্রামীণ সৌন্দর্য বিলীন যেন না হয়–হাসান মাহমুদ

IMG_20181118_022056.jpg

—————————-
গত ১৫ এবং ১৬ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট এর বকুল তলায় উদযাপিত হয় নবান্ন উৎসব।উক্ত অনুষ্ঠানে সঙ্গীত,নৃত্য,আবৃত্তি,নবান্ন কথন,নবান্ন শোভাযাত্রা,আধিবাসী পরিবেশন,পটগান,সংযাত্রা,লাঠিখেলা,মহুয়ার পালা,ইত্যাদি সব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।পাশাপাশি আয়োজন করা হয় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার।আর শিশুদের অঙ্কিত এ চিত্রগুলো ঘুরে ঘুরে দেখলাম ,যাতে ফুটে উঠেছে গ্রাম বাংলার চিত্র নিপুন ভাবে এ ছোট্ট হাতের ছোঁয়ায়।যার দ্বারা খুব সহজেই অনুমেয় হয় যে সকলের রয়েছে গ্রামের প্রতি সকলের অপার টান।আর টান থাকার ই কথা কারন শহরের ইট পাথর আর যান বাহনের শব্দ এখানকার মানুষের হৃদয় কে পাথরের মত কঠিন করে তুলে।না থাকে কারো প্রতি ভালোবাসা না পায় মুক্ত বায়ু।দূষিত বায়ুর মধ্যেই বসবাস করতে হয়।নেই কোনো বর্জ্যহীন-দূষিতবিহীন সুন্দর নদী,নেই কোনো পুকুর ,ট্যাপের পানিতে গোসল করতে হয়।না আছে সবুজের সমারোহ,না আছে তেমন ধানক্ষেত,না আছে কৃষকের বিচিত্র কর্ম দেখার সুযোগ,না আছে গরু-ছাগল-মহিষের হেঁটে হেঁটে ঘাস খাওয়ার দৃশ্য ,না আছে শুনার সুযোগ রাখালের সে মিষ্টি বাঁশির সুর,না আছে পুকুরে কিংবা খালে নেমে শাপলা তোলার সুযোগ,না আছে মনোরম পরিবেশে বসে নদীর অপর পাশের গ্রাম,নদী থেকে বয়ে চলা নৌকা-স্টিমার আর জেলেদের মাছ ধরা দেখার সুযোগ,না আছে কাঁদায় সারাক্ষণ গড়াগড়ি খাওয়ার,বড়শির ছিপ হাতে নিয়ে মাছ ধরার,মাঠে নেমে ধান খুঁড়ে খুঁড়ে খাওয়ার, ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে ধান বের করার সুযোগ,না আছে পায়ের নিচে পিষে কলাই মলার,মাঠ থেকে কাঁচা কলাই এনে কলাই আর চাল এক সাথে ভেজে খাওয়ার সুযোগ,না আছে কাঁদা মাটিতে ইচ্ছে করে করে আছাড় খাওয়ার সুযোগ।না আছে বউছি,গোল্লাছুট,কিত কিত,ঝামুর ঝুমুর ,পালাপালি,ইটকিরি-মিটকিরি,পাকা কাঁঠাল খেলা,অস্ট্রা,চার চার,রাজা কোর্তাল,চারাপাতি,মার্বেল, খোলা মাঠে ক্রিকেট-ফুটবল,কাবাডি খেলার সুযোগ ।এরকম আরো হাজারো জিনিস মিস করতে হয় শহরে।
তাইতো সবার ঐ গ্রামের প্রতি টান অপরিসীম।কিন্তু দিন দিন বদলে যাচ্ছে পরিবেশ ।নিধন হচ্ছে গাছপালা ,হারাচ্ছে গ্রামের সে সৌন্দর্য । নেয়া হচ্ছে শহর বানানোর পরিকল্পনা। কিন্তু কেন?কিন্তু না আমরা এগুলো চাইনা, আমরা গ্রামের পরিবেশে আজীবন থাকতে চাই।গ্রামের সৌন্দর্য বিলীন হোক তা কখনো চাইনা।উন্নয়ন বা কলকারখানা যেন আমাদের গ্রামীণ পরিবেশ কে গ্রামীণ ধারা কে ধ্বংস না করে।বরং অন্যউপায়ে গ্রামীণ পরিবেশকেই কাজে লাগিয়ে যেসব জিনিস উৎপাদন করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব সে ব্যবস্থা করা উচিত |

লেখকঃ মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ
শিক্ষার্থী,দর্শন বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Top