গল্প – আদর্শ –শেষ পর্ব

PicsArt_11-17-09.28.15.png

।।জিনাত তামান্না।।

সেলিম মাঝির কথা শুনে মানসুরা ভাবলেন ___লাবীবকে দিয়েই সেলিম ভাইয়ের নৌকাটা পাড়ে আনতে হবে।তিনি লাবীবকে ডাকলেন কিন্তু কোনো সাড়া পেলেননা।কি আর করবেন ছেলের অপরাধের জন্য লজ্জিত হয়ে সেলিম মাঝির কাছে ক্ষমা চাইলেন ।মানসুরা বেগম দরজায় দাড়িয়ে ভাবছেন আদনানটা কেনো এখনো আসছে না !?ভাবতে ভাবতে উঠোনে চোঁখ পড়তেই দেখলেন ,তামিমের কাঁধে ভর করে আদনান বাড়িতে আসতেছে।তামিম আদনানের ক্লাসেই পড়ে।ছেলের অবস্থা দেখে মা দৌড়ে গিয়ে তামিমকে বললেন কি হইছে বাবা ওর ??ওর পুরো শরীর এমন লাল কেনো ?? তামিম বললো __খালামণি ! আমাদের স্কুলের পিছনে একটি গাছে মধুপোঁকার বাসায় ও ঢিল মেরেছে আর পোঁকা গুলোর কামড়ে ওর এ অবস্থা হয়েছে।কথা গুলো শুনে মা আঁচলে চোঁখ মুছতে মুছতে ঘরে চলে গেলেন।তামিম ওকে একটি খাটে শুইয়ে দিলো।একটু পরে মা এসে ছেলের কপালে হাত দিয়ে তো অবাক !সে কি ভীষণ জ্বর!!ঐ দিকে পরীক্ষার বাকি অল্প কিছুদিন !

সন্ধ্যা হয়ে এলো ,লাবীব আদনানের মাথায় পানি দিচ্ছে আর ওদের মা দরজায় বসে কাঁদছেন আর বলছেন ___বাবা !তোরা এখন একটু শান্ত হ !আমাকে আর মানুষের কথা শুনাসনে বাবা !
লাবীব চুপ করে রইলো।ভাইয়ের মাথায় পানি ঢালছে আর ভাবছে ভাবছে__আদনানের ক্লাসের সবাইতো নিয়মিত ক্লাস করছে , কোচিং করছে ,প্রাইভেট পড়ছে আর ও তো কিছুই করতে পারবে না !তাহলে রেজাল্ট ভালো হবে কিভাবে?ভাবতেই খুব মন খারাপ হয়ে গেলো লাবীবের!ঐ দিকে আদনানের কোনো হুঁশ ও নেই ।
এখন আর আগের মতো বাড়ির বাইরে থাকে না লাবীব।স্কুল ছুটির পর সোজা বাড়িতে চলে আসে।প্রাণের ছোটো ভাইটা অসুস্থ তাই কোনো কাজেই মন বসছে না ওর।সব কিছুতেই কেমন শূন্যতা অনুভব করে লাবীব।ঐ দিকে বাবা ভীষণ রাগারাগি করে ছোটো ছেলেকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে ঔষধ কিনে আনলেন
।প্রায় সপ্তাহ খানেক জ্বরে ভোগার পর আদনান এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ।ও আজ স্কুলে গিয়ে দেখে ওর সব বন্ধুরাই সব পড়া শেষ করে ফেলছে !স্কুল ছুটির পর বাড়িতে এসে মন খারাপ করে পুকুর পাড়ে বসে রইলো।দুপুরের খাবারের সময় হয়ে গেছে ।লাবীব আদনানকে ডাকছে ,ভাইয়া খাবার খেতে আসো__কিন্তু আদনান লাবীবের ডাকে কোনো সাড়া দিলো না !লাবীব পুকুর পাড়ে গিয়ে দেখে আদনান কাঁদছে !লাবীব বললো __আমার ভাইয়াটা ভাইয়া কাঁদছে কেনো ?কি হয়েছে ?কেউ কি কিছু বলছে তোমাকে ?
আদনান কাঁদতে কাঁদতে বললো ___ভাইয়া আমি সব পড়া ভুলে গেছি ,কিছুই পারি না ,আমার বন্ধুরা সবাই সব পড়া পারে !
লাবীব বললো ___আচ্ছা …!এই ব্যাপার ?আমি আছি না !তোমাকে সব পড়া শিখিয়ে দিবো ,চলো এখন খাবার খাবে চলো ,চলো !
খাবার টেবিলে দুই ভাই ও মা খেতে বসেছে।খেতে খেতে লাবীব বললো __আদনান !ছোটো ভাইয়া আমার!গতকাল তোমাদের স্কুলের হেডমাস্টার স্যারের সাথে আমার দেখা হয়েছিলো ,তোমার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন ।আমি সব খুলে বলেছি আর তাঁর কাছ থেকে চূড়ান্ত সিলেবাস নিয়ে এসেছি তাতে সব বিষয়ের প্রশ্নই আছে ।আদনান খুব খুশি হলো !খাবার শেষ করে দুই ভাই একটু বিশ্রাম নিয়ে বিকেল বেলা একটি মাদুর পেতে উঠানে গল্প করতে বসলো ।লাবীব বললো ___আদনান যাও তো ভাইয়া তোমার সব বই আর আমার স্কুল ব্যাগের বাইরের পকেট থেকে তোমার সিলেবাসটা নিয়ে এসো তো !সিলেবাস থেকে সব প্রশ্ন গুলো এখনই চিহ্নিত করে ফেলি কারণ পরীক্ষার বাকি মাত্র এক সপ্তাহ আছে ।

লাবীবের পরীক্ষার বাকি প্রায় তিন মাস। তাই ও এখন নিজের থেকে আদনানকেই বেশি সময় দিচ্ছে।দিন যাচ্ছে আর আদনানের পরীক্ষা খুব কাছে চলে আসছে!কখনো গণিত ,কখনো ইংরেজি সব বিষয়ই পড়াচ্ছে ওর প্রাণের ছোটো ভাইটা কে।
পরশু আদনানের পরীক্ষা।প্রথম দিনই গণিত পরীক্ষা।আজ সারা বিকেল বসে বসে লাবীব আদনানকে সব অঙ্ক গুলোই শিখিয়ে ফেলেছে !আর বলে দিয়েছে ,রাতে কিন্তু আমি তোমার পরীক্ষা নিবো ভাইয়াটা!আদনান বললো ___আচ্ছা ভাইয়া।
সন্ধ্যায় দুই ভাই পড়ার টেবিলে ,বড় ভাইয়ের কাছে গণিত পরীক্ষা দিচ্ছে আদনান ।

খুব অল্প সময়েই সব গুলো অঙ্ক কষে ফেললো সে !
অঙ্ক দেখে লাবীব তো মহা খুশি !সব গুলোই সঠিক হয়েছে !!
ভাইকে ঘুম পাড়িয়ে লাবীব নিজেও ঘুমিয়ে পড়লো।
সকাল সকাল উঠে আবার পড়তে বসলো ভাইকে নিয়ে।আজ শুক্রবার তাই স্কুল ও নাই আর বাড়ির বাইরে কোনো কাজ ও নাই ।সারাদিন দুই ভাই কখনো খেলার ছলে ,কখনো পরীক্ষার ছলে শুধু অঙ্ক নিয়েই ব্যস্ত ছিলো।রাতে খুব তাড়াতাড়ি আদনানকে ঘুম পাড়িয়ে দেয় লাবীব।কারণ …কাল তো আদনানের পরীক্ষা।
খুব সকালে উঠলো দুই ভাই।পরীক্ষা কেন্দ্রে যাবার আগে লাবীব বললো __আদনান !ভাইয়া অঙ্কগুলো আরেকবার দেখে নাও।
আদনান বললো __দেখছি ভাইয়া !
সময় চলে এলো ,মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে দুই ভাই রওয়ানা হলো পরীক্ষা কেন্দ্রে।ওদের বাড়ি থেকে একদম কাছেই আদনানের পরীক্ষা কেন্দ্র।লাবীব ছোটো ভাইকে বিদায় দিয়ে বাইরে দাড়িয়ে রইলো ।পরীক্ষা শেষে আদনান খুশি মনে বের হয়ে ভাইকে জড়িয়ে ধরে বললো __ভাইয়া !আমি সবটার উত্তর দিতে পেরেছি !

দেখতে দেখতে খুব সুন্দর ভাবেই আদনানের সব পরীক্ষা গুলো শেষ হয়ে গেলো আর লাবীবের পরীক্ষা একদম কাছে চলে আসলো।পড়ার চাপে লাবীব এদিক ওদিক ও ফিরতে পারছে না ।SSC পরীক্ষা বলে কথা !ঐ দিকে বড় ভাইয়ের পরীক্ষা নিয়ে খুব চিন্তা আদনানের!ও ভাবছে ___আমার পরীক্ষার সময় ভাইয়া আমার পড়ায় কতো সাহায্য করেছে!আমি কিভাবে ভাইয়াকে সাহায্য করবো ?আমি তো ভাইয়ার কোনো পড়া দেখেও পড়তে পারি না !চিন্তা করতে করতে আদনান কোনো সমাধানই খুঁজে পেলো না ।ভাবলো __যাই মাকে গিয়ে প্রশ্ন করি।
মা …!ও ও মা !শোনো মা !
মা বললো __কি হয়েছে বাবা ?
আদনান বললো __মা !আমার পরীক্ষার সময় ভাইয়া তো আমাকে অনেক সাহায্য করেছে !আর এখন ভাইয়ার পরীক্ষায় আমি তো কিছুই করতে পারছি না !ভাইয়ার কোনো পড়াওতো আমি বুঝি না ।কিভাবে ভাইয়াকে সাহায্য করবো ?তুমি বলো না মা !
ছেলের কথায় মা হাসতে হাসতে বললেন ___
আদনান !তুমি তোমার ভাইয়ার যে ছোটো ছোটো কাজ গুলো আছে ,সেগুলো করলেও তো তার অনেক সময় বেঁচে যায় আর সেটাও তো এক ধরণের সাহায্য।আদনান খুশি হয়ে বললো ___পাইছি !!আজ থেকে ভাইয়াকে আমি কোনো কাজ ই করতে দিবো না।মা-ছেলের কথা শেষ না হতেই লাবীব কোচিং থেকে চলে আসলো।
দেখতে দেখতে খুব সুন্দর ভাবেই আদনানের সব পরীক্ষা গুলো শেষ হয়ে গেলো আর লাবীবের পরীক্ষা একদম কাছে চলে আসলো।পড়ার চাপে লাবীব এদিক ওদিক ও ফিরতে পারছে না ।SSC পরীক্ষা বলে কথা !ঐ দিকে বড় ভাইয়ের পরীক্ষা নিয়ে খুব চিন্তা আদনানের!ও ভাবছে ___আমার পরীক্ষার সময় ভাইয়া আমার পড়ায় কতো সাহায্য করেছে!আমি কিভাবে ভাইয়াকে সাহায্য করবো ?আমি তো ভাইয়ার কোনো পড়া দেখেও পড়তে পারি না !চিন্তা করতে করতে আদনান কোনো সমাধানই খুঁজে পেলো না ।ভাবলো __যাই মাকে গিয়ে প্রশ্ন করি।
মা …!ও ও মা !শোনো মা !
মা বললো __কি হয়েছে বাবা ?
আদনান বললো __মা !আমার পরীক্ষার সময় ভাইয়া তো আমাকে অনেক সাহায্য করেছে !আর এখন ভাইয়ার পরীক্ষায় আমি তো কিছুই করতে পারছি না !ভাইয়ার কোনো পড়াওতো আমি বুঝি না ।কিভাবে ভাইয়াকে সাহায্য করবো ?তুমি বলো না মা !
ছেলের কথায় মা হাসতে হাসতে বললেন ___
আদনান !তুমি তোমার ভাইয়ার যে ছোটো ছোটো কাজ গুলো আছে ,সেগুলো করলেও তো তার অনেক সময় বেঁচে যায় আর সেটাও তো এক ধরণের সাহায্য।আদনান খুশি হয়ে বললো ___পাইছি !!আজ থেকে ভাইয়াকে আমি কোনো কাজ ই করতে দিবো না।মা-ছেলের কথা শেষ না হতেই লাবীব কোচিং থেকে চলে আসলো।

লাবীব ঘরে ঢুকে টেবিলে ব্যাগ রাখতে রাখতে বললো ___মা !গতকাল রাতে চার্জার লাইটটা নষ্ট হয়ে গেছে।আমাদের গ্রামে তো বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না।একটা নতুন লাইট দরকার ।মা বললেন __দুপুরের খাবার খেয়ে বাজার থেকে একটা নতুন লাইট কিনে নিয়ে আসবে।লাবীব বললো ___বাজারে যেতেই তো 30মিনিট সময় চলে যাবে।যাওয়া আসা নিয়ে তো সেই এক ঘন্টা সময় চলে যাবে !ভাবছিলাম বিকেলে একটু পড়বো…আচ্ছা !খাবার দাও,খেয়েই বাজারে যাচ্ছি।আদনান উঠানে খেলছিলো আর বড় ভাইয়া ও মায়ের কথা শুনছিলো।হঠাৎ ঘরে এসে বললো ___মা !টাকা দাও,আমি আমাদের ক্লাসের ঈশানের বাবার দোকান থেকে আমি লাইট কিনে আনছি।
মা বললেন ___না….হ !তুমি পারবে না।
আদনান বললো__দাও না মা !আমি পারবো ,সন্ধ্যার আগেই লাইট নিয়ে বাড়ি চলে আসবো।
ছোটো ভাইয়ের কথা শুনে মুচকি হেসে লাবীব বললো ___আচ্ছা ,তুমি টাকা দাও মা,দেখি আমাদের ছোটো রাজা কেমন বাজার করতে পারে!
দুই ছেলের আবদার ,তাই টাকা বের করে মা তাঁর ছোটো ছেলের হাতে দিতেই এক দৌড়ে সে বাজারে।লাইট কিনে সন্ধ্যার আগেই আদনান বাড়ি ফিরে !লাবীব বললো __দেখো মা !আদনান চলে এসেছে !ওরে আমার ছোট্ট ভাইয়াটা __তোমার জন্য আমার প্রায় দুই ঘন্টা সময় বাঁচলো আমি পড়তেও পারলাম বেশি !আদরের ছোটো ভাইয়ের মাথায় স্নেহের ছোঁয়া দিয়ে কথা গুলো বললো লাবীব।ঐ দিকে আদনান তো মহা খুশি !একটু হলেও সে তার ভাইকে সাহায্য করতে পেরেছে।

আজ দুপুরে আদনানের রেজাল্ট এসেছে ,ও গোল্ডেন a+পেয়েছে !বাবা-মা খুব খুশি হয়েছেন !লাবীবের চোখে আনন্দের অশ্রু !গ্রামের মানুষগুলো দুই ভাইয়ের পরিবর্তন আর আদনানের সফলতায় ভীষণ আনন্দিত !
আদনান ক্লাস সিক্সে উঠে গেলো।নিয়মিত স্কুলে যেতে হয় তাই দিনের বেলা বাড়িতে বেশিক্ষন থাকতে পারে না।তবে সে তার বড় ভাইয়ের সব কাজ গুলোই করে ,যেমন …বাড়ির পাশের টিউবয়েল থেকে খাবার পানি আনা ,পুকুর থেকে মা কে রাঁন্নার জন্য পানি তুলে দেয়া ,মশারী ঠিক করা সবই করে ।দুই ছেলের মাঝে এমন মধুর সম্পর্ক দেখে বাবা-মা দুজনের সে কি আনন্দ !
আর মাত্র চার দিন পর লাবীবের পরীক্ষা ।সন্ধ্যায় দুই ভাই পড়তে বসেছে।হঠাৎ কি এক দরকারি কাজে লাবীবের ক্লাসফ্রেন্ড নাঈম এসেছে।লাবীব বললো __নাঈম !তুই একটু বস,আমি ভিতর থেকে আসছি।আদনান বলে উঠলো ___ভাইয়া !তোমরা বসো আমি ভিতরে যাই।লাবীব বললো __আচ্ছা যাও।দুই বন্ধুর কথা শেষ না হতেই আদনান চা-নাস্তা নিয়ে হাজির !নাঈম বললো___লাবীব !তোর ভাইটার তো খুব বুদ্ধি !বেশ পাঁকা হয়েগেছে দেখছি !
চা -নাস্তা শেষে নাঈমকে বিদায় জানিয়ে লাবীব পড়া শুরু করলো ।আদনান খাবার খেয়ে ,মশারি ঠিক করে ঘুমিয়ে পড়লো।
দিন ,সময় গড়িয়ে আজ লাবীবের SSC পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলো।মা -বাবা সারাদিন শুধু দোয়া করে তাদের ছেলের রেজাল্ট যেন খুব ভালো হয়।আদনান ও আল্লাহর কাছে ভাইয়ার জন্য দোয়া করে।এভাবে একটা একটা করে লাবীবের সব পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো।এখন দুই ভাই শুধু আনন্দ করে।বাড়ির বাইরে বেশি যায় না ।আদনানকে মাঝে মাঝে একটু পড়া ধরিয়ে দিয়ে আর বিভিন্ন মনীষীদের জীবনী পড়েই সময় চলে যায় লাবীবের।
আজ 12টায় লাবীবের রেজাল্ট জানাবে।সবার মনেই শুধু ভয় আর ভয় !লাবীব বন্ধুদের সাথে রেজাল্ট জানতে স্কুলে চলে যায় ।বাড়িতে বাবা-মা আর আদনান খুব চিন্তা করতেছে!
মিষ্টি হাতে ঘরে ঢুকে লাবীব।বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলে ,বাবা …!!!আমি গোল্ডেন a+ পেয়েছি !!!
সবাই একত্রে বলে উঠে আলহামদুলিল্লাহ …..
লাবীব বললো ___মা !আমার সুন্দর সফলতায় কিন্তু আমাদের ছোটো রাজার অনেক অবদান আছে !আমার অনেক কাজ সে নিজে করে আমার পড়ায় সুযোগ করে দিয়েছে !
আদনান বললো ___ভাইয়া !!তুমি না পড়ালে আমি ও তো ভালো রেজাল্ট করতে পারতাম না !তোমার জন্যইতো আমি অতো সুন্দর ফলাফল পেয়েছি !
লাবীব বললো ___আমার আদরের ভাইয়া টা!
তুমি যদি আমার সব কথা না শুনতে ,তাহলে আমি কিভাবে তোমাকে পড়াতাম ?

আদনান বললো ___ভাইয়া !তুমি যদি আমাকে ভালো না বাসতে ,স্নেহ না করতে তাহলে কি আমি তোমার সব কথা শুনতাম ?
ছেলেদের কথা শুনে বাবা একটি চেয়ারে বসতে বসতে বললেন ___শোনো বাবারা !একটি পরিবারে,একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ,ভালোবাসা ,স্নেহ, মমতা না থাকলে আর একে অপরের সহযোগী না হলে সেই পরিবারে কেউ সফল হতে পারে না। এই যেমন ধরো তোমরা দুই ভাই একজন আরেক জনের সহযোগী হয়েছো আর দুজনেই গোল্ডেন a+পেয়ে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছো !
সবার কথা শেষে মা মানসুরা বেগম বললেন __শোনো লাবীব !তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে যেমন আচরণ করবে ঠিক তেমনটাই ফিরে পাবে ,কারণ …..ছোটোরা তো বড়দের কাছ থেকেই আদর্শ শিখে!

Top