গল্প – আদর্শ

PicsArt_11-17-09.26.57.png

।।জিনাত তামান্না।।

এনায়েত মাস্টারের মাত্র দুটি সন্তান লাবীব ও আদনান।লাবীবের বয়স 15আর আদনানের বয়স 10বছর।লাবীব SSC পরীক্ষার্থী আর আদনান PSCপরীক্ষার্থী।লেখা পড়ায় দুই ভাইয়ের যেমন সুনাম আবার দুস্টুমিতেও তারা খুব পাঁকা!
স্কুলে ,পাড়ায় ও বন্ধুমহলে তাদেরকে সবাই দুষ্ট দুই ভাই নামেই খুব বেশি চিনে!ভালো ছাত্র হবার কারণে দুস্টুমির বিনিময়ে স্কুলে তারা শাস্তিটা একটু কমই পায়।কিন্তু পাড়ায় যে একেকটা কান্ড ঘটায় তার প্রত্যেকটার নালিশ তাদের মা মানসুরা বেগমের কাছে ঠিক ঠাক চলে আসে।হঠাৎ কেউ বাড়িতে এসে ডাকলেই ওদের মা মনে করেন ,আল্লাহ !ওরা দুই ভাই আবার যেন কি কান্ড ঘটিয়েছে!
তবে তিনি পর্যাপ্ত খেয়াল রাখেন ,যাতে ওদের বাবার কাছে কোনো নালিশ না যায়।
নামাজ শেষে ছেলেদের পরিবর্তনের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।সব সময় তার মনে একটাই ভয় একটাই চিন্তা সেটি হলো _ওর বাবা যদি ওদের সব কান্ড জানতে পেরে যায় …তাইলে তো খুব মারবে !যেই রাগী মানুষ !!কিন্তু চিন্তা করেই বা কি লাভ ?স্কুল ছুটির দু এক ঘন্টা পর ছাড়াতো একটা ছেলেও বাড়ি ফিরে না !এ গাছে ও গাছে গাঁয়ের প্রায় সব গাছেই ওদের ওঠা শেষ ।ভাগ্য ভালো পা ভাঙে নাই।কোন গাছে কোন পাখির বাসা আছে ___সেই পরীক্ষা তো প্রতিদিনই তারা করে তার পর বাড়ি ফিরে ।মন মতো পাখি পেলে ধরে সোজা বাড়িতে এনে খাঁচায় বন্ধী করে রাখে ।এ অবস্থা দেখে ওদের মা আর কি করবে ?কোনোরকম ছেলেদের বুঝিয়ে শুনিয়ে ,বাবার মাইরের ভয় দেখিয়ে বন্ধি খাঁচা থেকে পাখিগুলোকে মুক্তি দেয়।এদিকে প্রতিদিন ওরা দেরি করে বাড়ি ফেরে সেজন্য ওদের মা ওদের বাবার কাছ থেকে অনেক বকা ও শুনেন ।মনে মনে বলেন ,আমার হয়েছে যত জ্বালা ,আমি কি কম চিন্তা করি ওদের মানুষ করার জন্য ?
নামাজ শেষে ছেলেদের পরিবর্তনের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।সব সময় তার মনে একটাই ভয় একটাই চিন্তা সেটি হলো _ওর বাবা যদি ওদের সব কান্ড জানতে পেরে যায় …তাইলে তো খুব মারবে !যেই রাগী মানুষ !!কিন্তু চিন্তা করেই বা কি লাভ ?স্কুল ছুটির দু এক ঘন্টা পর ছাড়াতো একটা ছেলেও বাড়ি ফিরে না !এ গাছে ও গাছে গাঁয়ের প্রায় সব গাছেই ওদের ওঠা শেষ ।ভাগ্য ভালো পা ভাঙে নাই।কোন গাছে কোন পাখির বাসা আছে ___সেই পরীক্ষা তো প্রতিদিনই তারা করে তার পর বাড়ি ফিরে ।মন মতো পাখি পেলে ধরে সোজা বাড়িতে এনে খাঁচায় বন্ধী করে রাখে ।এ অবস্থা দেখে ওদের মা আর কি করবে ?কোনোরকম ছেলেদের বুঝিয়ে শুনিয়ে ,বাবার মাইরের ভয় দেখিয়ে বন্ধি খাঁচা থেকে পাখিগুলোকে মুক্তি দেয়।এদিকে প্রতিদিন ওরা দেরি করে বাড়ি ফেরে সেজন্য ওদের মা ওদের বাবার কাছ থেকে অনেক বকা ও শুনেন ।মনে মনে বলেন ,আমার হয়েছে যত জ্বালা ,আমি কি কম চিন্তা করি ওদের মানুষ করার জন্য ?
দেখতে দেখতে দুই ভাইয়ের পরীক্ষাই প্রায় কাছে চলে আসলো ঠিকই কিন্তু দুস্টুমির কোনো পরিবর্তন হলো না।আজ বৃহস্পতিবার ,ওদের মা খুব চিন্তা করতেছেন ,,,অন্তত আজ তো একটু তাড়াতাড়ি ওরা দুজন বাড়ি ফিরতে পারে কারণ আজ তো হাফ ক্লাস!অপেক্ষা করতে করতে লাবীব চলে আসলো কিন্তু আদনান এখনো তার কাজ সেরে আসতে পারেনি ।মা বললেন __লাবীব !যাও যোহরের নামাজ শেষ করে খেতে আসো ।বলতে বলতে তিনি কেবল উঠান থেকে ঘরে ঢুকছেন ,হঠাৎ ওদের গাঁয়ের সেলিম মাঝির ডাক শুনলেন।ও ও লাবীবের মা !তোমার লাবীব কি বাড়িতে এসেছে ?মানসুরা বেগম বললেন __জি ভাইজান !
ও এসেছে,ওতো ঘরেই আছে ।ডাকো ভাবী ,তোমার ছেলেকে ডাকো।ভয়ে ভয়ে লাবীবের মা প্রশ্ন করলো __কেন ভাইজান ও কি আবার কোনো অঘটন ঘটিয়েছে নাকি !?সেলিম মাঝি বললেন __কি আর বলবো ভাবী !আমাদের বিলে অনেক পানি তাই আমি আমার নৌকাটি বাড়ির পিছন পর্যন্ত এনে একটা গাছের সাথে বেঁধে দুপুরে ভাত খাবার জন্য বাড়িতে যাবো এমন সময় লাবীব গিয়ে বললো __চাচা!আমি একটু বিলের ঐ পাড়ে যাবো আপনার নৌকাটা একটু দিবেন ?আমি বললাম ___ঐ পাড় কেনো যাবে ?ও বললো __আমার বন্ধু সিয়ামদের বাড়িতে একটু যাবো।আমি বললাম __আচ্ছা যাও, তবে ফিরে এসে অবশ্যই নৌকাটি বেঁধে রাখবে ঠিকাছে ?ও বললো ___আচ্ছা চাচা ,আপনি ভাববেননা আমি নৌকাটি বেঁধে রেখেই বাড়ি যাবো।ওরে ভাবী ….আমি খাবার খেয়ে এসে দেখি আমার নৌকাটি বিলের মাঝে ভাসছে !!

Top