কর্ণফুলীর স্বপ্ন আর উন্নয়ন

375px-The_Shah_Amanat_Bridge.jpg

জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো:

ধাপে ধাপে দেড় লক্ষ মানুষের আবাসস্থল “কর্ণফুলী উপজেলা” এখন স্বপ্ন পুরণের পথে। দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপথ এখন দাবি পূরণে এগিয়ে চলছে।

বর্তমান সরকার তথা ভূমি প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদের কঠোর পরিশ্রমে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে লাখো মানুষ ।

চট্টগ্রামের শাহ্ আমানত তৃতীয় সেতু নতুন ব্রিজ নামে পরিচিত। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে কর্ণফুলী উপজেলা তথা দক্ষিণ জেলার যোগাযোগ স্থাপনে সেতুটি যেন মাইলফলক। পরে পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে ৪৯০তম কর্ণফুলী উপজেলার সৃষ্টি। যা অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলো ভূমি প্রতিমন্ত্রী।

জানা গেছে, অতীতে এক ইউনিয়নের সাথে আরেক ইউনিয়নের সরাসরি এ রকম কোনো যোগাযোগ ছিলোনা। আলাদা উপজেলা হওয়ার ফলে কর্ণফুলীর সামগ্রিক উন্নয়ন বরাবরই পরিবর্তিত হচ্ছে। কমপে¬ক্স নির্মাণ ও অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকার উপরে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাল্টে যাবে পুরো উপজেলার চিত্র। এমনটি আশা করছে জনসাধারণ।

কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হল-মহাসড়কে থ্রি হুইলার ও সিএনজি চলাচল নিশ্চিত করা। কেনোনা প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ পথে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন কাজে জেলা শহর ও অন্যান্য উপজেলায় যাতায়াত করলেও তাদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়।

ব্যবসায়ী-কৃষক-মৎসজীবীরা পণ্য নিয়ে শহরে আসলে তাদের উৎপাদিত খরচ অনেক বেড়ে যেত। এখন স্বস্তি ফিরেছে জনমনে। তৈরী হচ্ছে নতুন নুতন কর্মসংস্থান। যদিও আরো পরিকল্পনা দরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলার বাসিন্দা ইউপি সদস্য ফরিদ জুয়েল বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর থেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা তথা কর্ণফুলীবাসীর দাবি ছিলো উন্নত একটি সেতু নির্মাণ। সে স্বপ্ন পূরণ হলে মহাসড়কে বাড়ে পুনরায় যাত্রী হয়রানি ও ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ। পরে নিজস্ব উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করলে দ্রুত সময়ে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ও উপজেলা চেয়ারম্যান একে একে পুরা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন তরান্বিত করছেন।’

অপরদিকে জুলধা ইউনিয়নের সাবেক জনপ্রতিনিধি সিরাজুৃল ইসলাম বলেন ভিন্নকথা, ‘বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অংশ হিসেবে কর্ণফুলীতে দেড় লাখ মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সহ যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তনে এগিয়ে গেলেও আইন শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরো সহাযোগিতাপূর্ণ সেবার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।’

কেনোনা তাদের দাবি, বরাবরেই কর্ণফুলী থানা পুলিশকে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয় শাহমীরপুর ও বড়উঠানকে নিয়ে। এসব এলাকায় চৌকস পুলিশ অফিসারের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন।

শিল্পায়িত কর্ণফুলী উপজেলা কিনা জানতে চাইলে চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর গ্রামের নুরুল হক বলেন, ক্ষুদ্রতম ৫টি ইউনিয়নের এ উপজেলায় এত মিল ফ্যাক্টরী ও বড় বড় সিমেন্ট কারখানা বাংলাদেশের আর কোন জায়গায় রয়েছে কিনা জানা নেই।

তবে আগামী পচিঁশ বছরে স্থানীয় জনগণের বসবাসযোগ্য পর্যাপ্ত ভূমি আর জলাবদ্ধতা ও পানি সংকট মুক্ত পরিবেশ বান্ধব নগরী হবে কিনা সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।’

তথ্যমতে, ২০১৬ সালের ৯ মে উপজেলা হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়া এই উপজেলার কার্যক্রম বর্তমানে চোখে পড়ার মতো। অতি অল্প সময়ে জনবল সংকট থাকা সত্বেও ঘুরে দাড়াচ্ছে কর্ণফুলী উপজেলা। জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একে একে জনসাধারণের দাবি পুরণ করে চলেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

এক নজরে, ২০১৬ সালের ১৯ মে দ্রুত সময়ে প্রজ্ঞাপন ও গেজেট জারি, জুলধা ইউনিয়নের ডাঙ্গারচরের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাউবি হতে ২৮০ কোটি টাকার বরাদ্দ একনেকে অনুমোদন, একই বছরের ২৬শে সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় কতৃক উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ে ১৬টি পদ সৃজন করে অগ্রযাত্রায় শামিল হয় কর্ণফুলী উপজেলা।

তার পরের বছর ২০১৭ সালের মার্চ মাসে উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন, একই বছরের জুন মাসে ঈদল ফিতর উপলক্ষে ফ্রি বাস সার্ভিস সেবা, ৩রা ডিসেম্বরে উপজেলার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিটুমিন দ্বারা কার্পেটিং কাজ, ২৭শে নভেম্বর উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ অনুমোদন।

তাতে দেখা যায়, শিকলবাহা মৌজার ৪টি বিএস দাগে ৬ একর ভূমি অধিগ্রহণে ৬১ কোটি ২৩ লক্ষ ৭১ হাজার ১শত ৬৫ টাকার প্রশাসনিক অনুমোদন করে স্বপ্ন পুরণে এগিয়ে যায় আরেক ধাপ।

প্রসঙ্গ, ২০১৮ সালের ৮ই ফ্রেবুয়ারি জনসাধারণের জনদুর্ভোগ লাঘবে নতুন ব্রিজ সেতু হতে ওয়াই জংশন সড়কে সিএনজি ও থ্রি হুইলার যান চলাচলে বৈধসীমা নির্ধারণ করে। উপজেলা হতে না হতেই শিকলবাহা ওয়াই ক্রসিং হতে নতুন ব্রিজ পর্যন্ত চার লেনে উন্নতি করণ আরেকটি সফলতা।

উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ৫০শতক জমির উপর একটি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অনুমোদন ও জমি নির্বাচন, মে মাসে ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ফকিরনীর হাট রাস্তার মাথা হতে বাজার পর্যন্ত সড়কে আরসিসি ঢালাই সম্পন্ন করা হয়। এসব হচ্ছে অতি স্বল্প সময়ে।

গত ৩১শে মে ফকিরনীরহাট ভূমি অফিসের কমপ্লেক্স নির্মাণে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন, ১২জুন ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কমপ্লেক্স সম্প্রসারণে প্রকল্প-২ বরাদ্দের প্রথম কিস্তিতে ৬৬ কোটি টাকা ছাড় এবং ভূমি অধিগ্রহনে ৫০ কোটি টাকা উপ-বরাদ্দ পান। কিছুদিন পুর্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (অনুর্ধ্ব-১৭) সফলতার সাথে সম্পন্ন করা হয়।

দীর্ঘদিন পটিয়া থানার অধীনে থাকা উপজেলার দুই ইউনিয়নের ১১টি ওয়ার্ড কর্ণফুলী থানায় অন্তর্ভূক্ত করণ, এমন কি সর্বশেষ জমিজামার খতিয়ান ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদনে পটিয়া ভূমি কমিশনার অফিস হতে আলাদা হয়ে কর্ণফুলী নির্বাহী অফিসে যুক্ত হওয়া। এভাবে একে একে নানা প্রকল্প আর উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে এগিয়ে যাচ্ছে উপজেলা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া কর্ণফুলী উপজেলার দুই শির্ক্ষাথী জিশান ও তামজিদ বলেন, ‘আসলে নতুন উপজেলা হিসেবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি অবকাঠামোগত উন্নয়নে কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়নে জনবহুল এলাকায় মিল ফ্যাক্টরী ও ইটের ভাটা তৈরীতে জনজীবন অতীষ্ট হয়ে পড়েছে সেদিকেও নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।’

এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘অতি দ্রুত সময়ে আমরা একটি পরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানে হাত দেব। এমনকি আমি মনেকরি জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সফল হবো যদি সরকারের ধারাবাহিকতায় বজায় থাকে। কেনোনা বর্তমান সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী।’

Top