সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের নৈপুণ্যে ঢাবির ঘ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের রহস্য উন্মোচন”

received_320674778519275.jpeg

আকাশ আহমেদ রাজু,ঢাবি ঃ

বরাবরের মতো এবার সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ সেশনের ঘ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠেছিল। গত কয়েক বছর একই ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পর এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি পরিক্ষায় পাশের হার বিগত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং প্রশ্নের মানও বিগত বছরের তুলনায় নিম্নমানের হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। এমনও দেখা গেছে যে ঘ ইউনিটে অংশগ্রহণকারী অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের স্ব স্ব ইউনিটে পাশই করতে পারেনি অথচ ঘ ইউনিটের ভর্তি পরিক্ষায় পেয়েছে রেকর্ড সংখক নম্বর যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বিরল। যেসব শিক্ষার্থী ক,খ এবং গ ইউনিটে সর্বনিম্ন নম্বর নিয়েই পাশ করতে পারে না তারা কিভাবে ঘ ইউনিটের পরিক্ষায় রেকর্ড সংখ্যক নাম্বার পায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাটি কয়েক বছর যাবত তীব্র আকার ধারন করলেও এর সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কর্তৃপক্ষ নানাভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছিলো। চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের অনুসন্ধানে প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িতদের নাম ওঠে আসলেও কর্তৃপক্ষ জড়িতদের পুরোপুরিভাবে আইনের আওতায় আনতে পারেনি।

এবার ২০১৮-১৯ সেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। প্রথমে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে না নিলেও চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের সাংবাদিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই কৃতি শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ইমরানের জোগাড় করার তথ্য দেখানোর পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে। জোগাড় করা তথ্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সচেন মহল থেকে পরিক্ষা পুনরায় নেওয়ার আবেদন ওঠে। অবশেয়ে পরিক্ষা বাতিল হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ সেশনের ঘ ইউনিটের ভর্তিপরিক্ষা এবং পরিক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষনা দেয়।

এবার প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচনের পালা। থেমে নেই চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের অনুসন্ধান টিম। চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের অনুসন্ধান টিম এবং সাংবাদিক ইমরানের দক্ষতায় বেড়িয়ে আসল আসল রহস্য। চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের শুক্রবার রাত সাড়ে আটটায় অনুসন্ধানীতে দেখানো হয় প্রশ্ন ফাঁসের আদ্যপান্ত।

অনুসন্ধানের পুরো ঘটনাটি চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের ব্যক্তিগত ফেইসবুক টাইম লাইন থেকে সংগ্রহ করে দেখানো হলোঃ

“অবশেষে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানেই বেরিয়ে এলো চলতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের আদ্যোপান্ত।
শুক্রবার রাত সাড়ে আটটায় অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান সার্চলাইটের ‌‌’পিতা-পুত্রের প্রশ্ন ফাস’ পর্বে দেখানো হয়, কিভাবে পিতা-পুত্র মিলে প্রশ্ন ফাঁসের একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে তুলেছিল এবং ফাসকৃত প্রশ্ন কিভাবে শেষ পর্যন্ত ভাইরাল হয়ে যায়।
অনুসন্ধানে দেখানো হয়, চলতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ছাপা হয় সরকারি একটি প্রেসে। ওই প্রেসের সিটিপি টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করেন হাবিবুর রহমান জাভেদ। ঘ ইউনিটের প্রশ্ন ছাপার আগে তিনি এর একটি কপি নিজের কাছে রেখে দেন। পরে সেটি হাতে লিখে পৌঁছে দেন একই প্রেসের সিনিয়র কম্পিউটার অপারেটর স্যামুয়েল সুমিত মণ্ডলের কাছে।
এরপর সুমিত মণ্ডল সেই প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেন সহকর্মী বিদ্যুৎ আলীর কাছে। যিনি সরকারি ওই প্রতিষ্ঠানে উচ্চমান সহকারী হিসেবে কাজ করেন। বিদ্যুৎ আলীর হাত থেকে সেই প্রশ্ন চলে যায় তার ছেলে মোহাইমেনুল ইসলাম বাঁধনের হাতে। এই বাঁধনের মাধ্যমেই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছে ভাইরাল হয় চলতি বছরের ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র।
এই অনৈতিক কাজের জন্য বিদ্যুৎ আলীকে তার ছেলে বাঁধন দেয় ৩০ লাখ টাকা। সুমিত মন্ডল পায় ১৯ লাখ এবং জাভেদ পায় ৫ লাখ টাকা।
এছাড়াও এই তিনজনের কাছ থেকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের দেওয়া দুই কোটি সাতাশ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, সিআইডি।
অনুসন্ধানে দেখানো হয়, ফাঁসকৃত রাজধানীর প্রশ্ন পশ্চিম শ্যাওড়া পাড়ার এবং উত্তরার দুটি বাসায় পরীক্ষার আগের রাতে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ভর্তিচ্ছুদের পড়ানো হয়।
গত মাসে চলতি বছরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে- তথ্য-প্রমাণসহ এমন রিপোর্ট করে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর। এরপর পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে অনশন, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচী পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এক পর্যায়ে উত্তীর্ণ সাড়ে আঠার হাজার শিক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৬ নভেম্বর এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।
এর আগে গত বছরও সার্চলাইটের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের একটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে পর পর দুই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল।”

Top