শিক্ষিত যুবকেরা হতে পারে সফল কৃষি উদ্যেক্তা

45685146_271095780278037_8346051140453924864_n.png

মোঃ ইনামুল ইসলাম

কৃষিতে এক অপার সম্ভাবনার দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। যে দেশের মাটিকে মহামূল্যবান ধাতু সোনার সাথে তুলনা করা হয়। সে মাটির অতল গহ্বরে সোনার খনি না থাকলেও, সোনার ফসল ফলাতে এ মাটির উর্বরতা অতুলনীয়। যে উর্বরতা একটি অপরিপক্ব বীজকেও সময়ের আবর্তনে ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ একটি সমৃদ্ধশীল বৃক্ষে পরিণত করে। এ দেশের শতকরা আশি ভাগ প্রান্তিক কৃষকের আশার আলো সঞ্চারিত হয় এই কৃষিকে কেন্দ্র করে।পশ্চিমা ও উন্নত বিশ্বের দেশগুলো শিল্প নির্ভর হলেও আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো এখনো কৃষিকে ঘিরেই তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখে।

কৃষিতে নতুন নতুন প্রযুক্তি, উন্নত ও মানসম্মত বীজ এবং কীটনাশক ও রাসায়নিক সার এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খাল খনন ও নদী কেন্দ্রিক উন্নত সেচ ব্যবস্থা কৃষিতে এনে দিয়েছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এজন্যই আগেকার দিনে বিঘা প্রতি যে পরিমাণ ফসল উৎপাদিত হতো এখন তার পরিমাণ কয়েক গুণ বেশি। এক ফসলি জমি গুলো আজ তিন ফসলি জমিতে রূপ নিয়েছে। এ দেশের শিক্ষিত যুবকদের একটি বৃহৎ অংশ আজ বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে হতাশার মধ্যে নিমজ্জিত। চাকরির পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে তারা আজ দিশেহারা। এই শিক্ষিত যুব সমাজের কৃষিতে আত্ননিয়োগের মধ্যে দিয়েই কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হওয়া সম্ভব।

বর্তমান আমাদের দেশে শিক্ষিত কৃষি উদ্যেক্তার অভাব নেই। বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েও চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে হয়েছেন এক একজন সফল কৃষি উদ্যেক্তা। তাদের সেই কৃষি জমি বা খামারে সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ। এদেশের মাটি, পানি ও বায়ু কৃষির জন্য আশির্বাদ। যারা কৃষিকে ভালোবেসে নিজের মেধা ও শ্রমকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছে। কৃষিও তাদেরকে দু-হাত ভরে উজার করে দিয়েছে। বিভিন্ন মৌসুমি ফল-ফুল ও ফসল তাদের ভাগ্যের চাকাকে বদলে দিয়েছে। এ দেশে হাস-মুরগি বা গরু-ছাগলের খামার করার মধ্যে দিয়ে হাজাও বেকার যুবক আজ আত্ননির্ভরশীল হয়েছে। নিজেদেরকে অন্য যুবকদের জন্য অনুকরণীয় ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক আকারে ছাগলের খামার, দুগ্ধ খামার এবং গরু মোটা তাজা করনের মধ্যে দিয়ে অনেক যুবক আজ লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক। এক্ষেত্রে দেশীয় জাতের পাশাপাশি বিদেশি উন্নত জাতগুলো আরো বেশি ভূমিকা পালন করেছে। আমরা মাছে-ভাতে বাঙালী। এই মাছ চাষ করেও আজ অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক স্বাবলম্বী হয়েছে।

এই শিক্ষিত বেকার যুবকেরা যদি স্ব স্ব জায়গা থেকে আত্নকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারে তাহলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম হতাশায় নিমজ্জিত হবে। দেশের অর্থনীতি স্থিমিত হয়ে পরবে। তাই আসুন আমরা স্বপ্ন দেখি এবং জাতিকে স্বপ্ন দেখায়। নিজেদেরকে এক একজন স্বপ্ন সারথি হিসেবে আবির্ভূত করি। তবেই দেশ বাচবে, দেশের মানুষ বাচবে।

শিক্ষার্থী,
সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Top