গোপালগঞ্জে শ্বশুর বাড়িতে জামাই খুনের রহস্য উন্মোচন

45583932_2056898634608384_5921612590865186816_n-1.jpg

গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ-

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই শ্বশুর বাড়িতে জামাই খুনের রহস্য উন্মোচন করে স্ত্রী,শ্বশুর ও ভাড়াটিয়া খুনিসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে কাশিয়ানী থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, কাশিয়ানী এম.এ.খালেক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের মোঃ ইবাদুল ইসলামের মেয়ে ফারাজানা ইসলাম কেয়ার সাথে গোপালগঞ্জ জেলা শহরের (গেইটপাড়ার) কাজি মজিবর রহমানের ছেলে কাজি মোঃ আরিফ হোসেনের সাথে নয় বছর পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ চলে আসছিলো।

নিহত কাজি আরিফ হোসেনের স্ত্রী ফারজানা ইসলাম কেয়া (৩২) তার দুরসর্ম্পকের মামা সৈয়দ আলী খানের ছেলে রায়হান মাহমুদ (৩৫) এর সাথে যোগাযোগ করে। মামা রায়হান মাহমুদ ঘটনার রাতে (রবিবার রাতে) খুলনা জেলার দৌলতপুর দেওয়ানা দক্ষিণপাড়া থেকে দুইজন খুনিকে ভাড়া করে নিয়ে কেয়াদের বাড়িতে অবস্থান নেয় এবং রাতে ফারজানা ইসলাম কেয়ার স্বামী কাজি আরিফ হোসেন (৪৫) কে ঘরের ভিতরে ফেলে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।

এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ মর্গে পাঠায় এবং হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে ফারজানা ইসলাম কেয়া (৩২) এবং কেয়ার পিতা সহকারী অধ্যাপক মোঃ ইবাদুল ইসলাম (৫৬) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়।

কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কাজি আরিফের স্ত্রী ফারজানা ইসলাম কেয়া হত্যাকান্ডের সকল বিষয় স্বীকার করেছে। তার স্বীকার উক্তি মোতাবেক কাশিয়ানী-মুকসুদপুর সার্কেলের সিনিয়র এ.এস.পি হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান ও মামলার তদন্তকারি এস.আই মোঃ ফারুক হোসেনকে নিয়ে তিনি খুলনা জেলার দৌলতপুরের দেওয়ানা দক্ষিণপাড়ায় অভিযান চালিয়ে কাজি আরিফ হত্যাকান্ডে জড়িত খুনি মোঃ ফারুক মোড়লে ছেলে মোঃ তন্নয় হোসেন মোড়ল (২০) কে গ্রেফতার করেন এবং গ্রেফতারকৃত তন্নয় মোড়ল প্রাথমিক ভাবে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

মামলার তদন্তকারি অফিসার এস.আই মোঃ ফারুক হোসেন জানায়, নিহত কাজি আরিফ হোসেনর ভাই মোঃ কাজি গালিব হোসেন বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় ৩০২/৩৪ ধারায় নয়জনকে আসামী একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমরা এরই মধ্য ৩ জন কে গ্রেফতার করেছি এবং অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Top