কর্তৃপক্ষের আরও নজরদারি প্রয়োজন—নিগার সুলতানা সুপ্তি

IMG_20181018_123651-1.jpg

—————-
গত (১১-১৫)অক্টোবর গাজীপুর,বাহাদুরপুর রোভার পল্লীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৩,৩৪ ও ৩৫ তম শতবর্ষ ঢাকা জেলা রোভার মেট কোর্স-২০১৮। ঢাকা জেলার অন্তর্গত বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও মুক্ত গ্রুপ থেকে অংশগ্রহণ করেছেন প্রায় ২৩৪ জন রোভার। একজন দক্ষ রোভার হওয়ার জন্য কোর্সটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক সেশন গুলো ছিল অসাধারণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ থেকে আমিসহ ১০ জন রোভার অংশগ্রহণ করেছিলাম। উপস্থিত রোভারদের কোর্স অনুযায়ী বিভিন্ন উপদলে ভাগ করা হয়েছিল।প্রায় ১২-১৩ জন সদস্য ছিল প্রতিটি উপদলে এবং প্রতিটি সদস্যই অপরিচিত।এতগুলো অপরিচিত মানুষের সাথে পাঁচ দিন অতিবাহিত করা নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। কিন্তু একজন রোভারের কাছে এটি খুব সাধারণ একটা কাজ। তবে মজার কথা হলো এই যে, শুরু থেকে দিনে দিনে প্রতিটি মানুষের সাথে এমনভাবে মিশে গেছি মনে হয়েছে আমরা এক পরিবারের সদস্য।প্রতিকূল পরিবেশকে জয় করে উপদলভিত্তিক একসাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা জীবনের একটা বড় অর্জন। প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য দরকার বিভিন্ন ক্যাম্প,মুট,কোর্স,কমডেকা, জাম্বুরী ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ।বাহাদুরপুর রোভার পল্লীতে প্রায়ই বিভিন্ন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে পরিতাপের বিষয় হলো এবারের ৩৩,৩৪ ও ৩৫ তম শতবর্ষ ঢাকা জেলা রোভার মেট কোর্সে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে রোভারদের।

জায়গার তুলনায় রোভারের সংখ্যা ছিল মাত্রাতিরিক্ত। ফলে অপরিষ্কার মেঝেতে কোনোরকম বিছানা করে রাত্রিযাপন করতে হয়েছে গার্ল-ইন রোভারদের। মশা এবং ছাড়পোকাড় কামড় সহ্য করে রাত কাটিয়েছেন তারা। এছাড়া রুমের বৈদ্যুতিক পাখাগুলোতে কোনো রেগুলেটর না থাকায় ডাইরেক্ট লাইনে পাখা চলায় সম্মুখীন হতে হয়েছে নানা শারীরিক সমস্যার। অনেকে রীতিমত টনসিল,এ্যাজমা,সর্দি জ্বর সহ নানা সমস্যায় ভুগেছেন। ফলে সেশন এ অংশগ্রহণ করতেও নানা বিপাকে পড়তে হয়েছে তাদের। এমনকি কোর্স পরবর্তী সময়ে ও দেখা গেছে নানা শারীরিক জটিলতার।

প্রতিটি উপদলের একজন কাউন্সিলর ছিলেন।তাদের কিছু সীমাবদ্ধতা লক্ষ্যনীয় ছিল।যেমন- একটি উপদলে বিভিন্ন বয়সের ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের রোভাররা ছিলেন। সুতরাং ছোটদের উচিত বড়দের সম্মান করা ও উপদল নেতাকে মান্য করা।কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোভারদের নৈতিকতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে। কাউন্সিলর হিসেবে কোর্স শুরুর পূর্বে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা জরুরী ছিল। আবার তাঁবুতে বসবাস রত রোভারদেরকে সার্বিক দেখাশোনার দায়ভার একজন কাউন্সিলরের। কিন্তু সেক্ষেত্রে দেখা গেছে কুকুরের প্রাদুর্ভাব বেশী থাকায় তাঁবুতে রোভাররা রাত্রিযাপন করতে অপারগ হয়েছেন। আর তাদের তেমন কোনো সহযোগিতা করা হয় নি বলে জানা গেছে। আবার কিছু কিছু রোভাররা তাঁবুতে রাত্রিযাপন করলেও পর্যাপ্ত সুবিধাদির অভাব থাকায় তারা ভুগেছেন নানা শারিরীক সমস্যায়।

আর একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় যে,ক্যাম্প এলাকায় কুকুরের আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মত। ঠিকমত খাবার গ্রহণে ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কখনো কখনো নিজেদের খাবার পরিণত হয়েছে কুকুরের খাবারে। এসব ঘটনা সত্যিই খুব আবেগপ্রবণ। সকাল ৫ টা থেকে গভীর রাত অবধি সেশন ও ব্যবহারিক কাজ করার জন্য শারীরিক সুস্থতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আবার বিভিন্ন ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক ক্লাসগুলোতে দেখা গেছে ক্লাস শেষ হওয়ার পূর্বেই প্রশিক্ষক এর নির্ধারিত সময় শেষ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আমি আশা করব পরবর্তীতে এ বিষয়গুলোর ওপর যেন কর্তৃপক্ষের নজরদারী বৃদ্ধি পায়। সুতরাং পরবর্তী বিভিন্ন ক্যাম্প ও কোর্স আয়োজন করার পূর্বে উপরিউক্ত বিষয়গুলো সমাধান করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।

প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
রোকেয়া হল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Top