আজ মহালয়া, শিল্পীর তুলিতে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ!

received_257969888091483.jpeg

জাহেদুর রহমান সোহাগ,রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:

শুভ মহালয়া। শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন। পিতৃপক্ষের শেষে দেবীপক্ষের শুরু। পুরানমতে এ দিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দুর্গা আজ পা রাখবেন মর্ত্যলোকে। অশুভ অসুর শক্তির কাছে পরাভূত দেবতারা স্বর্গলোকচ্যুত হওয়ার পর চারদিকে শুরু হয় অশুভ শক্তির পরাক্রম। এই অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে একত্র হন দেবতারা। তখন দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা।

শ্রী শ্রী চন্ডীপাঠের মধ্যদিয়ে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া হিসেবে পরিচিত। আর এই ‘চন্ডী’তেই আছে দেবী দুর্গার সৃষ্টির বর্ণনা এবং দেবীর প্রশস্তি। শারদীয় দুর্গাপূজার একটি গুরুত্বপর্ণ অনুষঙ্গ হলো এই মহালয়া। মূলত: মহালয়া হয় অমাবস্যা তিথিতে। পঞ্জিকা অনুয়ায়ী অমাবস্যা পড়ছে আজ সোমবার ১১টার পর থেকে। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে, মহালয়া পার্বণ শ্রাদ্ধম- ২১ আশ্বিন, সোমবার, ১৪২৫, ইং- ৮ অক্টোবর ২০১৮ সকাল ১০/৪৯/০৮ গতে। থাকবে ২২ আশ্বিন, মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০৯/০৮/২০ পর্যন্ত। অর্থাৎ আজ সকাল ১০টা ৪৯ মিনিট ৮ সেকেন্ডের পর থেকে কাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত তর্পণ করা যাবে। ১৪ অক্টোবর পঞ্চমীর সায়ংকালে অকাল বোধনে খুলে যাবে মা দুর্গার শান্ত-স্নিগ্ধ অতল গভীর আয়ত চোখের পলক। ধূপের ধোঁয়ায় ঢাক-ঢোলক, কাঁসর-মন্দিরার চারপাশ কাঁপানো নিনাদ আর পুরোহিতের ভক্তিকণ্ঠে ‘যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেন সংস্থিতা/নমস্তৈস্য নমস্তৈস্য নমো নম..’ মন্ত্রোচ্চারণের ভেতর দূর কৈলাশ ছেড়ে দেবী পিতৃগৃহে আসবেন।

মা দূর্গার আগমন ঘিরে ইতোমধ্যেই রাঙ্গুনিয়ার ১৫৬টি পূজামণ্ডপগুলোতে সাড়ম্বরে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রতিমা শিল্পীরা দিনরাত ব্যস্ত প্রতিমা নির্মাণে। রাত দিন পরিশ্রম করে শিল্পীরা তৈরি করছেন দুর্গা, লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, মহিষ, সিংহের মৃন্ময় মূর্তি।

দূর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের মূর্তি তৈরিতেও রয়েছে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দূর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি এই পুজার আয়োজন করায় দেবীর এ পুজাকে বাসন্তী পুজাও বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে শ্রী রামচন্দ্র দুর্গাপুজার আয়োজন করেছিলেন। তাই শরৎকালের এই পুজাকে হিন্দুমতে অকালবোধনও বলা হয়। তাই এই অকালবোধনে শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে নানা আয়োজনে ব্যস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।
প্রতিমাশিল্পী শ্যাম পাল জানান, প্রতিমা গড়া শেষ হয়েছে রঙতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে অবয়ব। ফুটিয়ে তোলা হবে নাক-চোখ-মুখ। এরপর শুরু হবে পোশাক-পরিচ্ছদ পরানোর কাজ। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি অনেক পূজামণ্ডপে চলছে সাজসজ্জার বর্ণিল আয়োজন। শুরু হয়েছে চোখ ধাঁধানো পূজা মণ্ডপের মঞ্চ তৈরি ও নানা পরিকল্পনার কাজ। আয়োজকরাও কর্মব্যস্ত রয়েছেন। সব কিছিু মিলে দূর্গোউৎসবের সঙ্গে জড়িত কারো দম ফেলার সুযোগ নেই।

Top