লামায় ত্রিপুরাদের কবরস্থানকে পুঁজি করে অন্যের জায়গা দখলে চেষ্টা

received_1095335033958396.jpeg

আরিফুল ইসলাম,লামা উপজেলা প্রতিনিধি:
লামার আজিজনগরে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের কবরস্থানকে পুঁজি করে জনৈক ব্যক্তির ৩৬ বছরের ভোগদখলীয় জায়গা অবৈধ দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে দখলের ব্যর্থ হয়ে বিষয়টিকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে ও ধর্মীয় ইস্যু সৃষ্টিতে চিউনি আনন্দ ত্রিপুরা কারবারী খ্রিষ্টান পাড়ার লোকজন একটি মনগড়া অভিযোগের সৃষ্টি করে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নষ্ট করার পায়তারা করছে বলে জানান আশরাফ পাড়ার লোকজন।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) আজিজগরের চিউনি আনন্দ ত্রিপুরা কারবারী খ্রিষ্টান পাড়ার কয়েকজন লোক তাদের কবরস্থান বে-দখল হয়ে যাচ্ছে এমন একটি অভিযোগ করেন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমির কাছে।
এই ব্যাপারে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে আজিজনগরের চিউনি আনন্দ ত্রিপুরা কারবারী পাড়ার লোকজন এসে তাদের কবরস্থানটি এলাকার দুইজন ব্যাক্তি জবর দখল ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছে। আমি বিষয়টি লামা থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিরোধীয় জায়গাটি ১৯৮২-৮৩ সনের পূণর্বাসন বন্ধোবস্তী আর/১৭০১ হোল্ডিং মূলে বাগান করে ভোগদখলে আছে জনৈক আব্দুল হকের ছেলে আব্দুল মন্নান। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে আব্দুল মন্নান উক্ত জায়গাটি কাগজপত্র মূলে সৃজনশীল একাশি ও বেলজিয়ামের বাগান সহ মো.শওকত আলীকে বিক্রয় করে। বিগত মাস-দুয়েক আগে উক্ত জায়গার গাছ কেটে আবারো নতুন বাগান করতে চারা লাগালে আনন্দ ত্রিপুরা পাড়ার লোকজন বাধা দেয় এবং উক্ত জায়গা তাদের বলে দাবী করে। স্থানীয় কয়েকজন বলেন, এক মাস ধরে মো. শওকত আলীর পক্ষে নাজিম উদ্দিন বাগানের গাছ কেটে বিক্রয় করলে তখন ত্রিপুরা পাড়ার লোকজন কোন বাধা দেয়নি। আনন্দ পাড়ার লোকজন কয়েকদিন আগে ভোর রাতে নাজিম উদ্দিনের লাগানো প্রায় ১০ হাজার গাছের চারা উপড়ে ফেলে।
পা মৃত আব্দুস ছোবাহান এর ছেলে আবুল কালাম বলেন, এই জায়গা আব্দুল মন্নান মো. শওকত আলীর কাছে বিক্রয় করেছে। ত্রিপুরাদের কবরস্থান সীমানা পিলারের নিচে। তাদের শশান্মে জায়গা চিহ্নিত করা আছে।
পার্শ্ববর্তী মো. হানিফ বলেন, ত্রিপুরাদের কবরস্থানের ঠিক নাই। তারা যত্রতত্র কবর দেয়। পাশের চিউনী ঝিরি রফিকুল ইসলাম খোকনের জায়গার পাশে পূর্বে তারা লাশ কবর দিয়েছে। আবার আলামিনের জমিতেও তারা বেশ কিছুদিন লাশ কবর দিয়েছে। এই কবরস্থানে তাদের ২০ শতক জায়গা ছিল। তবে তাদের কোন কাগজপত্র নাই। ২০১২ সালে এক স্থানীয় বৈঠকে তাদের সকল পাড়াবাসীর উপস্থিতিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ২০ শতকের বদলে ৫০ শতক জায়গা দিয়ে স্থায়ী শান্তির লক্ষে সীমানা পিলার দিয়ে জায়গা পরিচিহ্নিত করে দিয়েছিল। তারা সেই পিলার অতিক্রম করে মো. শওকত আলীর জায়গায় গত বছর একটি লাশ কবর দিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার এম.ডি মো. রুকন বলেন, এই বিষয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। আনন্দ ত্রিপুরা পাড়ার লোকজন কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। ২০১২ সালে শালিসী বৈঠকে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে ২০ শতকের পরিবর্তে ৫০ শতক জায়গা তাদের দেয়া হয়। দীর্ঘদিন যাবৎ মন্নান ও পরে মো. শওকত আলী উক্ত জায়গা দখলে রয়েছে।
এ বিষয়ে নাজিম উদ্দিন রানা বলেন, কাগজে পত্রে আমাদের জায়গা ৪ একর ৮০ শতক। কিন্তু আমরা দখলে আছি প্রায় ২ একর ৫০ শতকের মত। স্থায়ী শান্তির লক্ষে জায়গা কম থাকলেও আমরা মেনে নিয়েছে। আগের গাছ কেটে গত ২২ সেপ্টেম্বর নতুন করে বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপন করি। রাতের আঁধারে ত্রিপুরা পাড়ার লোকজন আমাদের রোপিত চারা গুলো তুলে ফেলে।
অভিযোগকারীদের পক্ষে বিজয় ত্রিপুরা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ উক্ত জায়গায় কবর দিয়ে আসছি। কাগজপত্র না থাকলেও আমরা দখলসূত্রে উক্ত জায়গার মালিক।
উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, উক্ত জায়গাটি মো. শওকত আলী ক্রয় করেছে। আনন্দ পাড়ার লোকজনের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
লামা থানার অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কোন আদেশ আমাদের কাছে এখনো আসেনি। আসলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Top