দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাসের সফলতা

FB_IMG_1538745051731.jpg

এম এ মোতালিব ভুঁইয়া :
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সুশীল রঞ্জন দাস সম্প্রতি নানা কারনে বেশ আলোচিত হয়েছেন। বিশেষ করে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রায় মাদকমুক্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় তার ভূমিকা সব শ্রেণীর মানুষের কাছে এখন প্রশংসিত। এছাড়া থানা এলাকায় নানামুখ কার্যক্রম , থানার স্টাফদের সাথে ভোরের আলো আসার আগেই বেড়িয়ে পড়েন আসামি গ্রেফতার অভিযানে ।
এতে তিনি বেশ সুনাম-সুখ্যাতিও কুড়িয়েছেন। দোয়ারাবাজারের সর্বত্র হাট-বাজারে চুরি-ডাকাতি এবং কিশোর-যুবকদের বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে ওসি সুশীল রঞ্জন দাস বেশ কিছু সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত এখন প্রায় মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত উপজেলায় রুপান্তরিত হওয়ার সন্নিকটে। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে
যোগদানের শুরু থেকেই তার জেহাদ চলছে। অতিতের যে কোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে দোয়ারাবাজার থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত।

জানা গেছে, দোয়ারাবাজারে ৩০ নভেম্বর ২০১৭সালে যোগদানের পর থেকে তার চৌকস অফিসারদের নিয়ে রাত দিন কঠোর পরিশ্রম করে,নিজের সাহসী পদক্ষেপ আর কোটকৌশলে দোয়ারাবাজারে মাদকপাচার, জাল টাকা ব্যবসায়ী, অস্ত্র ব্যবসায়ী , চোর, ডাকাত, বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অবদান রেখেছেন। যার ফলে স্থানীয় থানা ও পুলিশ বিভাগের প্রতি দোয়ারাবাজারের জনগনের স্বস্তি আসা ও বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিপূর্বে দোয়ারায় অন্য কেউ এমন বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে,ওসি সুশীল রঞ্জন দাস দোয়ারাবাজার এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তিনি এ থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

এ কারণে ক্রমশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে বলে জনগনের দাবী। তাছাড়া, একাধিক ভুমিদূস্যতা, দখল-বেদখল, মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি সহ আইন-শৃংখলা পরিপন্থী কার্যক্রম রাখায়, পারদর্শীতা দেখিয়েছেন তিনি ।

ঘুষ দূর্নীতি এমনকি দোয়ারাবাজার থানা এলাকার এক শ্রেনীর দালাল চক্রের প্রভাবকে গুড়িয়ে দিয়ে সাধারন জনগনের আস্থা ফিরিয়ে আনেন।এসবই মাত্র কয়েক মাসে অর্জন করতে পেরেছেন নিজের সততা আর কর্ম স্পৃহার গুনে,পুলিশ জনগণের বন্ধু, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব বিশেষত্ব পুলিশের।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, যোগদানের পর থেকে এই পর্যন্ত ১০ মাসে বিভিন্ন আইনে ১১৫টি মামলা রুজু হয়েছে।দোয়ারায় ৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, ৪৫ কেজি গাঁজা, ২৮৫ বোতল অফিসারচয়েছ ক্যারাবন হুইস্কি মদ, ২২ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার,ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ১৩০জন,নিয়মিত মামলার আসামি ৫০জন,সাজাপ্রপ্ত মামলার আসামি ৯জনসহ ছিনতাইতারী গ্রেফতার অভিযান প্রতিদিন অব্যাহত রেখেছেন । দোয়ারাবাসীর অনেকেই বলছেন, সুশীল রঞ্জন দাস যোগদান করার পর চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে সুপরিচিত হয়েছেন। অতি সল্প সময়ে দোয়ারাবাজারে ক্রাইম দমনে তার ভূমিকা সর্বমহলে বেশ আলোচিত। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে

বাল্যবিবাহ, মাদক ও তথ্য- প্রযুক্তির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রায়ই তাকে সচেতনমূলক আলোচনা সভা করতে দেখা গেছে। উপজেলা রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা তাকে নি:স্বার্থ সহায়তা করায় অদ্যবধি বড় ধরনের কোন রাজনৈতিক সহিংসতা কিংবা মামলার ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ রাজনৈতিক দলগুলোর কোন নেতাকর্মীদের হয়রানি না করায় তাদের মধ্যে এখনও সৌহার্দ্যপুর্ন বসবাস রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বিগত অনেক বছরের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ ভালো রয়েছে। আগের তুলনায় মাদক ও সন্ত্রাস অনেকটা নির্মূল হয়েছে। ওসি সুশীল রঞ্জন দাস যোগদান করার পর থেকে গ্রামাঞ্চলের মানুষ চুরি-ডাকাতির

ভয় ছেড়ে খুব স্বস্তিতে আছে। তারা বলেন, ওসি’র কঠোর অবস্থানের কারনে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও রাঘববোয়াল চাঁদাবাজরা সটকে পড়তে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের ধারনা মতে সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন উপজেলার তুলনায় দোয়ারাবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি সিথিল রয়েছে।
জানা গেছে,সুশীল রঞ্জন দাস তার কর্মজীবনে একজন সফল ওসি। তিনি দোয়ারাবাজার থানায় যোগদানের পর থেকে নিজ যোগ্যতা আর দক্ষতার বলে দোয়ারার সচেতন ও সাধারণ এলাকাবাসীর মন জয় করেছেন। সেই সাথে একজন সফল ওসি হিসেবে যত গুণাবলী প্রয়োজন তা তিনি দেখাতে সক্ষম হয়েছেন।উনি উপজেলার বগুলা ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ৩জন ইউপি সদস্যসহ ২০জন জুয়ারীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন,সরকারি ওএমএসের ১৪৯বস্থা (প্রতি বস্থায় ৫০কেজি)চাউল পাচারের সময় আটক করে ৪জনকে আসামীকে মামলা করেছেন।

দোয়ারাবাজার থানায় যোগদানের পর থেকে থানা এলাকা থেকে টাউট-বাটপার ও দালালদের দৌরাত্ম বন্ধ হয়েছে। পুলিশী সেবা গ্রহীতাদের এখন আর দূর্ভোগ পোহাতে হয় না। মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানেও সফল হয়েছেন । ধনী-গরীব সবার জন্য ওসির দরজা সব সময় উন্মোক্ত করেছেন তিনি। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসা, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাইসহ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভুমিকা পালন করছেন ।
ওসি সুশীল রঞ্জন দাস বলেন, মানুষের সেবা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। ওসি হিসেবে যতদিন কর্মরত আছি, ততদিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিরলস ভাবে আমার দায়িত্ব পালন করবো। যাতে করে মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে ও স্বস্তিতে থাকতে পারেন। তিনি বলেন, আমি মানবতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ দিয়ে সকল সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। কেউ যদি কোথাও সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই করে আর সে ঘটনা যদি

পুলিশকে জানানো হয় তাহলে তথ্য দাতার পরিচয় গোপন রেখে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।তিনি বলেন, অপরাধ দমনের পাশাপাশি উপজেলাকে মাদক মুক্ত করার প্রত্যয়ে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মাদকের সাথে জড়িতদের সমাজ থেকে নির্মুল করা হবে। মাদকের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকের সাথে

জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ছাড় পাবে না সন্ত্রাসীরাও। সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান অব্যহত থাকবে। তিনি অপরাধ দমনে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান।

এসময় তিনি বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিহীত কারো সাথে কেউ যদি ব্যবহার খারাপ করে সে যত বড় নেতাই হউক না কেন উচিৎ জবাব দেওয়া হবে। আমার অধিনস্থ কোন অফিসার বা সদস্য কোন অপকর্ম করছে বলে প্রমানিত হলে আমাকে জানালে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৤

Top