ক্যান্সারের মতো খরুলিয়া’য় ছড়িয়ে পড়েছে মাদকের ভয়াবহতা

IMG_20180910_172106.png

জাহেদ হাসান, কক্সবাজার।
মাদকে ভাসছে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া। গ্রাম ও পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে বাজারের অলিগলি সর্বত্র হাত বাড়ালেই মেলে মাদক। মাদকের ভয়াল ছোবলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে যুব সমাজ। মাদক নির্মূলে সরকারি-বেসরকারি ভাবে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও কোন অভিযান অথবা ক্রসফায়ার হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ, এজন্য কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না মাদক বেচাকেনা। নিত্য নতুন কৌশলে রামু -সদর সীমান্ত দিয়ে হরহামেশাই খরুলিয়াতে প্রবেশ করছে মাদক। এক সময় গোপনে মাদক ব্যবসা চলতো। কিন্তু ইদানীং অনেকটা খোলামেলা ভাবেই মাদকের ব্যবসা চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে মাদক ব্যবসা চললেও বেশির ভাগ সময়ই তাদের নীরবতায় দেখা যায়। ফলে বেড়েই চলছে খরুলিয়া’য় মাদক কেনাবেচা আর সেবন। মাদক আগ্রাসন ঠেকাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নানা প্রদক্ষেপ নিলেও প্রশাসনের কার্যকরী কোন ভূমিকা না থাকায় হিমসিম খেতে হচ্ছে বলে জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছে।ইউপি চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন,
মারধর, এমনকি সংখ্যালঘু পরিবারের নারীদের ধর্ষণের মতো অপরাধেও জড়িতে পড়ে মাদকসেবী ও ইয়াবা ব্যবসায়ীরা৷ প্রথমদিকে সংখ্যালঘুদের ওপর খুব একটা নির্যাতন না হলেও, বছরখানেক যাবৎ নির্যাতনের ভয়াবহ মাত্রা যুক্ত হয়েছে৷ সংখ্যালঘুদের জমি দখল করে নিচ্ছে, ভয়ভীতি দেখিয়ে অনেককে যৌন হয়রানি বাধ্য করা হচ্ছে৷ অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না৷ইউপি সদস্য শরীফ উদ্দিন বলেন, ক্যান্সারের মতো খরুলিয়া’য় ছড়িয়ে পড়েছে মাদকের ভয়াবহতা। প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে ক্রসফায়ার দিলেও এখনো খরুলিয়া’য় অভিযান অথবা ক্রসফায়ার কিছু হয়নি, আমি মাদকের উৎসমূল ধ্বংস করার দাবী করছি।রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোস্তফা কামাল বলেন, মাদকের সঙ্গে সন্ত্রাসের সম্পৃক্ততা খরুলিয়ার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতেও ভূমিকা রাখছে।ছাত্রলীগ নেতা হোছাইন মোরশেদ বলেন, খরুলিয়া সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবা নামক ভয়ংকর মাদকের আগ্রাসনে যূব সমাজ হুমকির মুখে,যূব সমাজকে এই মাদকের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে হলে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।জেলা জাতীয় ছাত্রসমাজের সেক্রেটারি বেলাল উদ্দিন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রয়োজন ছিল খরুলিয়া’য়। কারণ টেকনাফের চেয়ে খারাপ অবস্থা খরুলিয়া, এই প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খরুলিয়ায় অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।গিয়াস উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি বলেন, মাদক চোরাচালানী, পৃষ্টপোষক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত সংস্থার এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের গোপন সংশ্লিষ্টতাই মাদকের ভয়াবহ প্রসার ঘটার অন্যতম কারন।

Top