১ অক্টোবর ঐতিহাসিক মাদরাসা শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

-সভা.jpg

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
বাংলাদেশ মাদরাসা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে পরিষদের নিজস্ব কার্যালয়ে ১ অক্টোবর ঐতিহাসিক মাদরাসা শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা হাফিজ ইমরান খালিদ। পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক হাফিজ জাকির হোসাইন এর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শামিম আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাবেক আহবায়ক আবু সায়েম মোহাম্মদ ফোরকান, কেন্দ্রীয় সদস্য হাফিজ মনির হোসেন, সৈয়দ মহসিন ও নুর হোসেন প্রমুখ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, পহেলা অক্টোবর ভারতীয় উপমহাদেশে দ্বীনি শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। ১৭৮০ সালের এই দিনে উপমহাদেশের ইসলামপ্রিয় মুসলমানগণ ইসলামী শিক্ষা বিস্তারের জন্য সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা, আদর্শ, নৈতিকতা, দ্বীনের দায়ী ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন আলোকিত প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্যে উপমহাদেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র মাদরাসা-ই-আলিয়ার যাত্রা শুরু হয়। আজ ২৩৮ বছরে এসে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মধ্যেও বিশ্বমানের নেতৃত্ব, দ্বীনের দায়ী ও শ্রেষ্ঠসন্তান উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। পহেলা অক্টোবর মাদরাসা দিবস উপলক্ষে যে বিষয়গুলো আমাদের বিশেষ গুরুত্ব দেয়া দরকার তা হলো কওমি ও আলিয়া মাদরাসার ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের সেতুবন্ধন তৈরির মাধ্যমে সমৃদ্ধ দেশ ও আলোকিত জাতিগঠনে আত্মনিয়োগ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত ও নৈতিকতাসম্পন্ন জাতিগঠনে কুরআন হাদিস ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা তথা মাদরাসা শিক্ষা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি সকল মাদরাসায় পহেলা অক্টোবর মাদরাসা শিক্ষা দিবস পালন করা, আদর্শ সমাজ গঠনে দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব উপস্থাপন, মাদরাসা শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ মান নিশ্চিত কল্পে দেশের সর্বস্তরে একদল যোগ্য, দক্ষ, তাকওয়াবান ও ন্যায়পরায়ণ প্রশাসক তৈরিতে সরকারি ব্যবস্থা গ্রহণ, মাদরাসা ছাত্রদের পাঠোন্নয়ন ও নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের অধিকার আদায়, মাদরাসার অবকাঠামোগত সমস্যা বের করা, প্রত্যেক জেলা শহরে একটি করে সরকারি মাদরাসা চালু করা, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বিসিএস পরীক্ষায় সুযোগ প্রদান ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় বৈষম্য দূর এবং আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি এখন সময়ের অনিবার্য দাবি।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুগোপযোগী ও ইসলামী মূল্যোবোধের উৎকর্ষতায় সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে মাদরাসাসমূহ ইলমে ওহির জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ইসলামের সঠিক দাওয়াত জাতির সামনে উপস্থাপন করে বিশ্বব্যাপী কুরআনের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ইনশাআল্লাহ।

Top