বাশতলা চৌধুরীপাড়া শহীদস্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভালো ফলের আশায় ব্যতিক্রম উদ্যোগ

43007620_338976646870859_1562132085760589824_n.jpg

এম এ মোতালিব ভুইয়াঃ
সামনে ২০১৮সালের জেএসসি ও ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষা। এই পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে টেষ্ট পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এবারের জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের ফলাফল ভালো করার আশায় কোথাও কোচিং ক্লাস, আবার কোথাও বিশেষ পাঠদানের বিষয়টি অহরহ চোখে পরে। কিন্তু ব্যতিক্রমধর্মী এক উদ্যোগ দেখা গেছে দোয়ারাবাজার উপজেলার বাশতলা চৌধুরীপাড়া শহীদস্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে।

স্কুলটি দোয়ারাবাজার উপজেলার মধ্যে একটি ব্যতিক্রম উদাহরণ তৈরি করে মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

এই স্কুলের জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফলাফল ভালো করতে স্কুল পরিচিালনা কমিটির উদ্যোগে শিক্ষকদের সহযোগিতায় গ্রহণ করা হয়েছে বাড়ী বাড়ী গিয়ে ছাত্র/ছাত্রীদের লেখাপড়া তদারকির ব্যবস্থা । স্কুলের জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শতভাগ পাশসহ মান সম্মত ফলাফলের আশায় এবার ৬০জন জেএসসি ও ৪০জন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সকাল ১০টা থেকে বেলা ৪.৩০ টা পর্যন্ত স্কুলের নিয়মিত পাঠদান। পরে পুণরায় মাগরিবের নামাজ শেষে সন্ধা সারে ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে বাড়ী বাড়ী গিয়ে লেখাপড়া তদারকি । স্কুলের শিক্ষকগণ এই সময়ে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান করে থাকেন। পরীক্ষার্থীদের পড়ায় মনোযোগ বৃদ্ধি করতে এবিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান জসিম মাষ্টার ।

তিনি আরো জানান, ব্যতিক্রম এই উদ্দ্যোগের মূল পরিকল্পনাকারী স্কুলের তিন শিক্ষক হুমায়ুন আহমেদ,সাদেক মাষ্টার ও মনির হোসেন। দৈনিক ৮জন শিক্ষক দিয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিয়মিত পড়া মুখস্ত ও আদায় করা হয়ে থাকে।

জসিম মাষ্টার আরো জানান, এখানে দিনের পড়া দিনেই আদায় করা হয়ে থাকে। এরফলে শিক্ষার্থীদের পড়ায় মনোযোগ তুলনামূল বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের মেধা তালিকার মাধ্যমে শ্রেণীকক্ষ পৃথক করে দেয়া হয়েছে। এতে করে দুর্বল ছাত্ররা সম্পুর্ণ গাইড লাইন পাচ্ছে। এছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগীতামূলক ফলাফল অর্জন করার গাইড লাইন দেয়া হচ্ছে। রাত্রে শিক্ষকগণ বাড়ী বাড়ী গিয়ে লেখাপড়া সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা নিশ্চিত করে থাকে।

এবারের এসএসসি’র শিক্ষার্থীগণ জানান,আগে রাত্রে অল্প পড়েই ঘুমিয়ে যেতাম নাটক দেখতাম এখন স্যারেরা বাড়ীতে দেখতে আসে তাই ফাকি দেওয়ার সুযোগ নেই,এখন আমরা নিয়মিত পাঠদান করছি। এরফলে আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আমরা আশা করি এবার ভালো একটি ফলাফল হবে। তার পাশাপাশি জেএসসির শিক্ষার্থীরা অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে জানায়, আমরা এই সময়টায় বাসায় টিভি দেখতাম, লেখাপড়া খুববেশী করতাম না। এই পাঠদানের ফলে আমরা ব্যক্তিগত ভাবে অনেকটা আত্মবিশ্বাসী হয়েছি। এরফলে আমাদের লেখাপড়ার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করি এই ধারা অব্যাহত রাখলে স্কুলের মান আরো বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্কুল কমিটির মুখ উজ্জল হবে।

স্কুলের শিক্ষকরা জানান, স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার জন্য স্কুলের ক্লাশের পাশাপশি বেশকিছু বিশেষ উদ্দ্যোগ নিয়েছেন, বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণীতে সকল বিষয়ে পাস করে উত্তীর্ণ হওয়া, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার কমাতে অভিবাভকদের জাবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযাগী করার জন্য প্রতিযোগিতামুলক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা, প্রতিটি শ্রেণীতে মেধাতালিকার মাধ্যমে পুরস্কার প্রদান, সর্বোচ্চ উপস্থিতির পুরস্কার প্রদান এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামুল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা।

শিক্ষকগণ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন পর শিক্ষাবান্ধব একজন চেয়ারম্যান পেয়েছি। আমরা অনেকটা আশাবাদি। অত্র বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম মাষ্টার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নসহ শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরী হয়েছে। তাঁর বিভিন্ন পদক্ষেপে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাছিব উদ্দিন মেম্বার বলেন,শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছি উপজেলার মধ্যে সেরা স্কুল হয়ে থাকবে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।স্কুলটির এমপিওভুক্ত করার জন্যে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি দেওয়ার আহবান করছি।

Top