কক্সবাজারের রামুতে বন্য হাতির আক্রমনে প্রাণ গেলো কাঠুরিয়ার

IMG_20180929_210507.png

জাহেদ হাসান, কক্সবাজার।
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বন্য হাতির আক্রমণে লাল পাল (৫৯) নামে এক কাঠুরিয়া মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের হরিণখাইয়া পাহাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত কাঠুরিয়া রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড রামকোট ঘোনারপাড়া এলাকার মৃত অনিল পালের ছেলে। খবর পেয়ে রামু থানা পুলিশ এবং রাজারকুল বন বিটের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।নিহতের ছেলে রিংকু পাল ও স্থানীয় চৌকিদার শামশুল আলম জানান, শনিবার সকালে সাত-আট জন নারী-পুরুষ রাজারকুলের হরিণখাইয়া পাহাড়ি এলাকায় জ্বালানি কাঠ কুড়াতে যায়। কাঠুরিয়া দলের একটু আগেই বনাঞ্চলে ঢুকে পড়ে কাঠুরিয়া জহরলাল পাল। হঠাৎ বন্যহাতির ডাক শুনে সবাই। পরে গিয়ে কাঠুরিয়ারা বুঝতে পারে জহরলাল পাল আচমকা বন্য হাতির সামনে পড়ে যান। হাতি তাকে টেনে নিয়ে আছাড় মারে। এতে মারাত্মক আহত হন তিনি। কিন্তু বৃদ্ধ হওয়ায় জহরলাল হাতিটির কবল থেকে পালাতে পারেননি। একপর্যায়ে হাতিটি পা দিয়ে তার বাবাকে পিষ্ট করে। এতে তার নাড়ি-ভুড়িও বের হয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সৌনম বড়ুয়া তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রায় সময় বন্য হাতি রাজারকুল ইউনিয়নের পাহাড়ি অঞ্চলে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। সন্ধ্যা নামতেই পাহাড় থেকে নেমে এসে এলাকার কোনো না কোনো গ্রামে হানা দিয়ে ক্ষতি করছে বন্য হাতি।
রারাজারকুল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য শাহাবুদ্দিন জানান, জহরলাল পালের সাথে একই এলাকার প্রদীপ বড়ুয়া, লেডু বড়ুয়া সহ সাত-আট জন নারী-পুরুষ ওই সময় জ্বালানি কাঠ কুড়াতে বনাঞ্চালে প্রবেশ করে। হঠাৎ বন্য হাতির সামনে পড়ে যাওয়াতে কাঠুরিয়া জহরলালকে আক্রমণ করে হাতি।
খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত জহরলালকে উদ্ধার করে রামু হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু হাসপাতালে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় সময় বন্য হাতি রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের মগঘোনা, পঞ্জেখানা, ঢালারমুখ, আমিরা ঘোনা, পূর্ব রাজারকুল পাহাড় পাড়া, দরগামুরা এলাকার ১০-১২টি কাঁচাঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ওই এলাকার ধান খেত ও জমির ফসল ক্ষতি করছে। হাতির অবস্থান সম্পর্কে বন বিভাগকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়না।রাজারকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান বলেন, প্রায় সময় বন্য হাতি লোকালয়ে হানা দেয়। বনাঞ্চলে জ্বালানি কাঠ কুড়াতে যাওয়া কাঠুরিয়াদের আক্রমণ করে। গত কয়েক মাসে রাজারকুলের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন বিভাগ সর্তক থাকলে এ ক্ষতি এড়ানো যেত।
তিনি বলেন, রাজারকুলের পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দারা বর্তমানে বন্য হাতির আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও হাতির পাল হামলা ও ভাংচুর চালাচ্ছে। এতে মানুষের প্রাণহানি ছাড়াও বসত ঘর এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এ ব্যাপারে বন বিভাগের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

Top