সাতকানিয়া এক বাড়ীতে আগুন; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

42678818_1995877303808666_763296738827042816_n.jpg

মোঃ শাহজাদা মিনহাজ,স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া রঙ্গিন পাড়া এলাকার মৃত আমির হোসেনের পুত্র নুরুল অামিন বৈদ্যর জাদু টোনার অাসন ঘরে অাগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত অানুমানিক সাড়ে ৩ টায়। এই ব্যাপারে সন্দেহজনক ভাবে নুরুল অামিন বৈদ্যর অাপন ভাই ছিদ্দিক অাহমদ সহ আরো ৯ জনকে আসামী করে গত ২২সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় একটা অভিযোগ দায়ের করেন নুরুল আমিন বৈদ্যর স্ত্রী মমতাজ ফকির (৪৮)।

ছিদ্দিক অাহমদ সহ আরো ৯ জনক অাসামী করে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্লার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মৃত অামির হোসেনের পুত্র ছিদ্দিক অাহমদ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছিদ্দিক আহমদ ও নুরুল আমিন আপন ভাই হয়। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল যা এখনো চলমান। এবং অারো দেখা যায় যে ঘরটি অাগুনে পুড়েছে তা একটি টংয়ের মত, সেইটা থাকার ঘর নয়। বৈদ্যর অাসনঘর। সে ঘরে অাসবাবপত্র বলতে কিছুই ছিলনা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জিয়াবুল হক জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা এলাকাবাসীরা অাগুন নিভাতে গেলে দেখকে পায়, নুরুল অামিন বৈদ্যর ছেলে আব্দুর রহমান অাগুন নিয়ন্ত্রণ না করে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। তা দেখে এলাকাবাসীরা অাগুন নিয়ন্ত্রণ না করে ফিরে যায়।

লিখিত বক্তব্যে বাদী ছিদ্দিক আহমদ জানায়, নুরুল অামিন একজন আইন অমান্যকারী, জুলুমবাজ,মামলাবাজ ও ভন্ড ফকির (বৈদ্য) প্রতারক।
দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকার এবং এলাকার বাহিরের লোকজনদের বিভিন্ন ভাবে পীর আউলিয়ার নাম ধারণ করিয়া প্রতারণা মূলক তাবিজ ও জাদু টোনার কাজ করে অাসছিল। এ নিয়ে তাবিজ ও জাদু টোনার জন্যে অাসা লোকজনদের সাথে তার অনেকবার ঝগড়া বিবাদও হয়।
গত ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত অানুমানিক সাড়ে ৩ টায় কে বা কাহারা নুরুল অামিন বৈদ্যর জাদু টোনা করার অাসন ঘরটি অাগুন দিয়ে পুড়াইয়া দেয়।

এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আমাকে সহ আরো ৯ জনকে সন্দেহ করিয়া গত ২২সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় একটা অভিযোগ দায়ের করেন।

মূলত আমাদের সাথে চলমান পারিবারিক বিরোধের জের ধরে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অামাদের ফাঁসাতে (বিবাদী) আমার ভাই নুরুল আমিন বৈদ্য (৫৫) তার স্ত্রী মমতাজ ফকির (৪৮) তাদের ছেলে জয়নাল উদ্দিন (২৮) আব্দুল্লাহ ফকির (২৫) আব্দুর রহমান (২২) এর যোগসাজশে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অারো বলেন, ১নং বিবাদী ইতি পূর্বে তার পুত্র বধুকে বাদি করিয়া চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং- ২৪৬/২০১২ ইং। উক্ত মামলা তদন্ত সাপেক্ষে মিথ্যা প্রমানিত হয়।
১নং বিবাদী তার স্ত্রী ২নং বিবাদী দ্বারা গত ২০০০সালের ১১ই জুলাই আমাদের বিরুদ্ধে মারধর ও লুটপাটের মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলাটিও তদন্ত সাপেক্ষে মিথ্যা প্রমানিত হয়।

আমাদের একই বসত ভিটার সম্পর্কে আমাদের জেঠাতো ভাইয়ের ছেলে মোঃ রিদুয়ানের সাথে বসত ভিটে ও জায়গা জমি সংক্রান্ত নিয়ে মত বিরোধ চলিতে থাকে। মোঃ রিদুয়ান বিবাদীদেরকে তার বসে নিয়া আমাদেরকে বসত ভিটে হইতে উচ্ছেদ করার উদ্যেশ্যে অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। বিবাদীগণ যেকোন সময় আমি ও আমার পরিবারের লোকজনদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রহিয়াছে। আমার সন্দেহ হইতেছে বিবাদীগণ যেকোন মুহুর্তে আমাদের উপর সন্ত্রাসী দ্বারা অঘটন ঘটাতে পারে। অামরা অত্যান্ত গরীব ও অসহায় বিধায় আইনের অাশ্রয় নেওয়ার জন্যে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহোদয়ের কাছে অত্র লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। উক্ত ঘটনার ব্যাপারে যথেষ্ট সাক্ষী আছে।

নুরুল অামিন বৈদ্যর স্ত্রী ২নং বিবাদী মমতাজ ফকির জানান, বাদী পক্ষের সাথে আমাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ সুত্রে গত কয়েকদিন অাগে আমাদের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতিও হয়।
২১তারিখ দিবাগত রাতে তারা আমার ঘরটি জ্বালাইয়ে দেয়।

তবে এলাকাবসীরা ধারনা করেন, এইটা কোন ষড়যন্ত্র হতে পারে। পূর্ব শত্রুতার জেরে যদি কেউ কারো ঘরে অাগুন দিতে যায় তাহলে একাই যাবে, ৯জন একসাথে যেতে পারেনা। ৯জনকে মামলা দেওয়ায় এলাকাবাসীর মনে সন্দেহ হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
কারণ নুরুল অামিন বৈদ্য অাগে থেকেই মামলাবাজ মানুষ।

সাতকানিয়া থানার ওসি রফিকুল হোসাইন বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Top