দুর্গাপূজার উৎপত্তি স্থান বোয়ালখালীর মেধসমুনির আশ্রম

received_722262554792021.jpeg

মোঃ ফারুক ইসলাম,বোয়ালখালী(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি-

দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী উপজেলা বোয়ালখালী। কর্ণফুলির নদীর পূর্ব তীর ঘেঁষে মাথা উচুঁ করে কালের স্বাক্ষী হয়ে বাংলাদেশের বুকে স্থান করে নিয়েছে। এ উপজেলার কড়লডেঙ্গার সন্ন্যাসির পাহাড়ে প্রায় ৬৮ একর জুড়ে ৫০০ ফুট উচ্চতায় সবুজ শ্যামল তরুলতায় ঘেরা পরিবেশে অবস্থিত মেধসমুনির আশ্রম। যেখান থেকে তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশসহ সারা বিশ্বে দুর্গাপূজার উৎপত্তি। সপ্তসতী চণ্ডী গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ে মেধসমুনি আশ্রমের কথা উল্লেখ আছে। এই তীর্থ ভূমিতে হাজার হাজার বছর আগে দেবী ভগবতীর আর্বিভাব ঘটে। রাজ্যহারা সুরথ রাজা ও স্বজন পরিত্যক্ত বণিক সমাধি বৈশ্য উপস্থিত হয়েছিলেন মেধসমুনির আশ্রমে। মেধস ঋষি তাঁদের দুঃখের কথা শুনে তাঁদেরকে মধুময়ী চণ্ডী শুনান। ঋষির উপদেশ শুনে সুরথ রাজা ও সমাধি বৈশ্য অরণ্য অভ্যন্তরে ঋষি মেধসের আশ্রমে মৃম্ময়ী মূর্তি গড়ে সর্বপ্রথম মর্ত্যলোকে দশভূজা দুর্গাদেবীর পূজা শুরু করেছিলেন। এ আশ্রম নিয়ে রচিত গ্রন্থ থেকে জানা যায়, মেধসাশ্রম আবিষ্কার এক দৈব ঘটনা। বরিশালের গৈলা অঞ্চলের পণ্ডিত জগবন্ধু চক্রবর্ত্তীর ঘরে ১২৬৬ বঙ্গাব্দের ২৫ অগ্রহায়ণ জন্ম নেন চন্দ্রশেখর। তিনি জন্মের দুই বছর পরে পিতাকে হারান। মায়ের অনুরোধে বিয়ে করেন মাদারীপুরের রাম নারায়ণ পাঠকের কন্যা বিধূমুখীকে। বিয়ের ছয় মাস পার না হতেই স্ত্রী এবং মাকে হারিয়ে চন্দ্রশেখর চলে আসেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে। সেখানে তিনি বৈরাগী ধর্ম গ্রহণ করে চন্দ্রশেখর হয়ে উঠেন বেদানন্দ স্বামী। সেখানে বেদানন্দ স্বামী যোগবলে চন্দ্রনাথের দর্শন লাভ করেন। চন্দ্রনাথ বেদানন্দকে পাহাড়ের অগ্নিকোণে অবস্থিত পৌরাণিক হাজার হাজার বছরের তীর্থ ভূমি দেবীর আর্বিভাব স্থান মেধসমুনির আশ্রম আবিষ্কার করে এর উন্নয়নে মনোনিবেশ করতে বলেন। প্রভূ চন্দ্রনাথের আদেশে বেদানন্দ স্বামী পাহাড়, পর্বত পরিভ্রমণ করে মেধসমুনির আশ্রম আবিষ্কার করেন। মেধসমুনির আশ্রমে রয়েছে ভগবতীর মূল মন্দির। আরো আছে শিব, সীতা, কালী, তারা ও কামাখ্যা মন্দির। সীতা মন্দিরের পাশেই রয়েছে সীতার পুকুর। যে পুকুরে পূর্ণ্যার্থীরা পূণ্যস্নান করেন। বর্তমানে বোয়ালখালীর মেধসমুনির আশ্রম সনাতন ধর্মের মানুষের কাছে অন্যতম তীর্থ ভূমির মর্যাদা লাভ করেছে। হিন্দু ছাড়াও সুন্দর, নয়নাভিরাম এ আশ্রম এবং আশ্রমের চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বিভিন্ন ধর্মের মানুষ ছুটে আসেন।

Top