একটু সাহায্যের অপেক্ষায় অসহায় শিশুরা!

IMG_20180610_203740.jpg

মো:তানভীর অাহম্মেদ রনি :

সৃষ্টির সেরা জীব হল মানুষ। এটা প্রমাণের কোন প্রয়োজন পড়ে না। তবে মানুষের চরিত্রের একটা বড় অংশ বিবেক এখন বিলুপ্তির পথে। রমজান মাস একেবারই শেষের দিকে, আসছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল ফিতর। ঈদ উদযাপনকে কেন্দ্র করে শহরের ছোট বড় সব ধরনের শপিং মল গুলোতে হচ্ছে হাজারো মানুষের ভিড়। শুধু কেনাকাটাতেই শেষ নয়, ঈদ নিয়ে যেন ভাবনার শেষ নেই মানুষদের । শুধু ঈদের কথা ভাবতে পারে না দেশের অসহায় দরিদ্র শিশুরা।

দু’মুঠো ভাত জুটবে কি না এটা নিয়েই যাদের সংশয় থেকে যায় তাদের আবার কিসের ঈদ অানন্দ! নির্দিষ্ট তেমন কোন আবাস নেই, গাজীপুরের স্টেশন রোডের পাশেই রাস্তার ধারে রাত্রি যাপন করা শফিকুল নামের ছেলেটিকে ঈদের কথা বলতেই থমকে গিয়ে বলল- ‘আমগো টেহা নাই, খাওনে পাইনা আবার ঈদের কাপড়। আম্মায় ষাইট সত্তর টেহা ভিক্কা কইরা আনে, এই দিয়া আমগো দিন যায়। আব্বায় আগে রিকসা চালাইতো, এক্সিডেন কইরা অহন আর কাম কইবার পারে না। আম্মায় যা ভিক্কা কইরা আনে এই দিয়াই দিন চইলা যায়। ঘুরতে তো মন চায়ই শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, শিশু মেলায় যাবার ইচ্ছা করে, তয় কেমননে যামু ? টেহা ছাড়া কি কেহ ডুকতে দিবো?

ঈদের কেনাকাটার কথা বলতে গিয়ে শফিকুল আরও জানায়,বড়লোকের পোলাপাইন তো কত্তকিছুই কিনতে মার্কেটে যায়, আমারও যাইতে ইচ্ছে করে। কিন্তু……. ?’ কান্নাকরে এই বিষয়ে আর কোন কথা বলল না শিশুটি। বলবে কিভাবে, শফিকুলের মত অসহায়দের হৃদয়ের জ্বালা বুঝতে পারাটা খুব কঠিন কিছু নয়। দেশে সমৃদ্ধশীল মানুষের অভাব নেই, অভাব শুধুই সহানুভূতির।

একটু সহানুভূতির আশায় পথ চেয়ে থাকা এই শফিকুল আরও বলে, ‘আগের বারে একটা লোক শার্ট কিইনা দিছিল। এইবার ওহনো কেউ কিছু দেয় নাই। আর ওই লোকরে অনেক দিন থাইকাই দেহি নাই। এইবার যে কি হইব! জানি নাহ।’ -জানবেই বা কিভাবে? ওরা তো পোশাক নয়, দু’বেলা কি খাবে, সেই চিন্তায় পথে পথে ঘুরে বেড়ায়।

এইসব অসহায় মানুষেরও আছে হৃদয়, অনুভূতি আর ইচ্ছা। বড় হয়ে কি হবে এই কথা বলতে গিয়ে অসহায় শিশু আরও বলে, ডাক্তার হমু। যহন মানুষ মাইষেরে খুন করবো, তহন অই মানুষগরে ঠিক করমু।

হায়রে পৃথিবীর নিয়তি! অবুঝ শিশু। পড়াশোনা করা তো দূরের কথা, ঠিকমত খাওয়ারও সামর্থ্য নেই শিশুটির। নিজের অজ্ঞাতেই বলে ফেললো এই সমাজের মানুষদেরকে সেবা করার কথা। অথচ সে যে মানুষের সেবা করতে চাচ্ছে, এই প্রভাবশালী বিত্তবান মানুষরাই তার মত এমন অসহায়দের জন্য একটু সহানুভূতি দেখায় না।

পথ শিশুদের ঈদ ভাবনা প্রসঙ্গে অালোকিত গাজীপুর (অনলাইন গ্রুপের) নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা সবাই দেখি, আফসোস করি আবার কেউ এই বিষয়গুলো মেনে নিতে না পেরে নীরবে কান্না করি। অনেকে নিজেকে ধিক্কারও দেই এবং বলি আমরা কি পারবো না এই দেশ থেকে অভাব দূর করতে, কেন এমন হবে এই পথ শিশুদের জীবন, কেনো পারেনা তারা স্বাভাবিক জীবন? অনেকে এসব প্রশ্নে উত্তর খুজছি। এই কথাগুলো আমরা সবাই কম-বেশি জানি এবং বুঝি। এরপরেও কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ায় না। আসুন, সবাই সহযোগিতার হাত বাড়াই। আপনার দেখা দেখি অন্যরাও সহযোগিতা করবে। অামরা অালোকিত গাজীপুর গ্রুপের সকল নেতৃবৃন্দ অাছি অাসহায়দের পাশে ।

Top