ডোমারে বিদ্যুতের সংযোগ নিতে উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ

20180403_145300.jpg

জীবন ইবনে ইসলাম,ডোমার প্রতিনিধি :

নীলফামারীর ডোমারে বিদ্যুতের নতুন সংযোগের জন্য ফাইল প্রতি ১ হাজার টাকা উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ নেসকো’র নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। সেচ পাম্পের ক্ষেত্রে এই উৎকোচের পরিমান দ্বিগুনের ও বেশি বলে জানাগেছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সরকার বিভিন্ন খাতে লক্ষ লক্ষ টাকা বরাদ্দ
দিলেও এই কর্তা এর সিংহভাগ টাকা নিজের পকেটে পুরছেন বলে জানিয়েছে ওই অফিসের একটি সূত্র। শুধু তাই নয় এই দপ্তরটি এখন গ্রাহক ভোগান্তির আখড়া বলে জানিয়েছে একাধিক ভূক্তভোগী।
সরেজমিনে জানাগেছে, উপজেলার নেসকো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম মন্ডল ডোমারে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পরে। গাড়ীর যন্ত্রাংশ ক্রয় ও মেরামত,মূদ্রন ও স্টেশনারী,অফিস যন্ত্রপাতি/আসবাবপত্র ও কর্মচারীদের পোষাক ক্রয় বাবদ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, নেসকো লিঃ এর ডোমার দপ্তরে সংস্থাপন খাতে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এপিপি
অনুমোদন দেয়া হয়। খোঁজ নিয়ে দেখাগেছে, এই টাকার সামান্য কিছু কাজ করে এর সিংহভাগই পকেটস্থ করেছে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইমলাম মন্ডল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই অফিসের একাধিক কর্মচারী প্রতিনিধিকে জানান, নির্বাহী কর্মকর্তা সব জায়গাতেই পুকুর চুরি করলেও উপর
মহলের সাথে তার সখ্যতা থাকায় তিনি বহাল তবিয়তে আছেন। তারা আরো জানান, গত বছর অফিসের কর্মচারীদের জন্য উর্দ্দি পোষাক, জুতা, ছাতা ক্রয়ের জন্য টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও তিনি তা ক্রয় না করে সব টাকা পকেটে পুরেছেন। এছাড়াও তিনি গাড়ীর যন্ত্রাংশ ক্রয় ও মেরামত বাবদ ১লক্ষ ৫০হাজার টাকা বরাদ্দ পেলেও তার ছিটেফটা কাজও করেননি। এলাকাবাসী বাবলু, রমজান আলী জানান, বর্তমান
প্রকৌশলী এই দপ্তরে যোগদান করে ট্রান্সমিটার বানিজ্য, মাষ্টাররোল কর্মচারী নিয়োগ বানিজ্যে মেতে উঠেছেন। এলাকায় হাজারো শিক্ষিত বেকার যুবক ঘুরে বেরালেও তিনি মোটা অংকের টাকা উৎকোচ নিয়ে তার পছন্দের বাইরের লোক নিয়োগ দিয়েছেন। অপরদিকে কোন ট্রান্সমিটার নষ্ট হলে সরকারী
খরচে তা মেরামতের নিয়ম থাকলেও তিনি তার লোক দিয়ে টাকা তুলে তবেই তা মেরামত করেন। সাম্প্রতি ডোমার থানা এলাকার একটি নষ্ট ট্রান্সমিটার মেরামতের জন্য টাকা তুলতে গেলে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করে। পরে আদায়কৃত টাকা গোপনে ফেরত দেন। তারা আরো বলেন, নতুন সংযোগের জন্য
তার নিকট একটি ট্রান্সমিটার নিতে তার কাছে গেলে ৮০হাজার টাকা থেকে ১লক্ষ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দাবী করেন। এছাড়া নতুন বিদ্যুতের সংযোগের জন্য তাকে ফাইল প্রতি ১ থেকে ২হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দিতে হয়। তিনি এই দপ্তরে যোগদানের পর থেকে যে সকল সরকারী বরাদ্দ এসেছে তার
খরচের খোঁজ নিলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে বলেও মনে করেন অনেকে। সরেজমিনে আরো দেখা গেছে প্রতিদিন এই দপ্তরে শত শত গ্রাহক আসছে অরিক্ত বিলের অভিযোগ নিয়ে। সকলের কাছে ধরনা দিচ্ছে কিন্তু সমাধান একটি এই বিলটি আগে পরিষশোধ করুন পরে দেখা যাবে। কেউ ১শত ইউনিটও
খরচ করেনি অথচ তাকে বিল দেয়া হয়েছে ২ হাজার ইউনিটের। এমনি একজন গ্রাহক ডোমার বাজার এলাকার পাপলু জানান আমার ৮ কিলোওয়াট একটি সেচপাম্পে মাত্র ৪শত ইউনিট খরচ করেছি অথচ আমাকে ২হাজার ইউনিটের বিল দেয়া হয়েছে । আমি এই বিলের আপত্তি জানিয়ে ২বছর আগের আবেদন করেছি কিন্তু এর সমাধান আজো পাইনি। এসকল অভিযোগের বিষয়ে নেসকো’র নির্বাহী
প্রকৌশলীর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টার করেও তাকে  পাওয়া যায়নি।

Top