জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যশোরে সংবাদ সম্মেলন

received_555978148098291.jpeg

আব্দুর রহিম রানা, যশোর :
যশোরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের বিরুদ্ধে সংবাদ
সম্মেলন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।
মঙ্গলবার দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের শেল্টারে হাতুড়ি বাহিনী ও গামছা বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও গণমুখী নেতাদের উপর হামলা, দখলসহ সব ধরণের অপকর্মে এই দুই বাহিনিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

একইভাবে মন্ত্রীর পক্ষে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রশাসনের বেআইনি ক্ষমতাও। তবে প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক এসব অভিযোগ
মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি মাস্টার রুহুল আমিন বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক হাতুড়ি বাহিনীর প্রধান খন্দকার আব্দুল আজিজ ও শরিফুল ইসলামের গামছা বাহিনীকে দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর ধারাবাহিক হামলা, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ক্ষমতাসীন দলের এই
প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী দিয়ে দলের কার্যক্রমে বাঁধা প্রদান, অফিসের সামনে বোমা হামলা, উপজেলা কমিটি পাস করানোর নামে সভাপতি-সম্পাদককে জোর করে স্বাক্ষর করানো, ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে ১১ ইউনিয়নেই বিদ্রোহী প্রার্থী দেওয়াসহ এক ডজনের বেশি অভিযোগ করা হয়। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের নিচে কৃষকলীগের অফিস হাতুড়ি বাহিনী ও গামছা বাহিনী জোরপূর্বক দখল করে
নেয়। পরবর্তীতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ছাত্রলীগের নামে অফিস উদ্বোধন করে ওই দুই বাহিনীকে বসার ঘাঁটি করে দেন। এরপর থেকে শুরু হয় অত্যাচার নির্যাতন। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৩ মার্চ কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে ককটেল
বিস্ফোরণ করে হাতুড়ি বাহিনীর আব্দুল আজিজ।
কিন্তু পুলিশ তাকে ধরেনি। দুই মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আব্দুল আজিজ থানায় উপস্থিত হয়ে আওয়ামী লীগের ত্যাগী ১১ নেতাকর্মী সহ দুই ব্যাংকার, একজন শিক্ষকের নামে মামলা করেন। গত ১৪
মার্চ হামলার শিকার হন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাবেয়া ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ বেগম, মজিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদব জিয়াউর রহমান, যুবলীগের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান পাশা। এর আগে ১০
ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযান ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের জন্য দলীয় কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা হাতুড়ি ও গামছা বাহিনী পণ্ড করে দেয়।

গত বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় স্তম্ভে ফুল দিতে যাওয়ার আওয়ামী
লীগ নেতা সোহারাব হোসেনকে বেধরড়ক মারপিট করা হয়। এদিন উপজেলা ডাকবাংলোর মধ্যে আতিয়ার রহমানকে মারধর করা হয়। এদিন উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা
অনুষ্ঠানের মঞ্চও প্যান্ডেল ভাংচুর করে হাতুড়ি বাহিনী। গত বছর ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস পালনের পর বাড়ি ফেরার পথে জেলা
আওয়ামী লীগের সদস্য প্রকৌশলী হাসান আলমগীরকে বেধড়ক মারপিট করে।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে ১১ ইউনিয়নেই বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। এরপর তিনি পুলিশ প্রশাসনকে দিয়ে নৌকার সমর্থকদের উপর নির্যাতন করে। ভোটের দিন নৌকার ব্যাচ দেখলেই পুলিশ
নির্যাতন করে। সেই অরাজকতার মধ্যেও ৬টি ইউনিয়নে নৌকা বিজয়ী হয়।
অন্যদিকে, উপজেলা কমিটি নিজের মনগড়া তৈরি করে সভাপতি ও সম্পাদককে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।
আর দুটি বৃহত্তর ইউনিয়ন বিভক্ত হয়ে চারটি হলেও সেখানেও কমিটি গঠনে স্বেচ্ছাচারিতা করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর এই সব অপকর্মের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা
হয়েছে। নেতৃবৃন্দ আশ্বাস দিলেও এখনও সুফল মেলেনি। সাংবাদিক সম্মেনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক
গাজী গোলাম মোস্তফা, সহসভাপতি ও কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আমীর হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক
ও মুক্তিযুদ্ধকালিন কমান্ডার কাজী রফিকুল ইসলাম, সদস্য প্রকৌশলী হাসান আলমগীরসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে
বলেন, গামছা বাহিনি বা হাতুড়ি বাহিনি নামে কেশবপুরে কোন বাহিনির অস্তিত্ব নেই। যারা নিজেদেরকে দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন তারা কেমন নেতা যে জাতীয় দিবসসহ কোন কর্মসূচিতেই যোগ দেননা।  তাদেরকে কর্মসূচিতে যোগদানে বাধা দেয়ার অভিযোগও মনগড়া।কেউ তাদেরকে কখনও বাধা দেয়নি। যদি বাধাই দিত তাহলে তারা কয়েকজন নিয়ে আমার বিরুদ্ধে বিষোধাগার  করলো?

Top