মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্থদের স্থায়ী চাকুরি ও পুনর্বাসন দাবী

002637Matarbari_kalerekantho_pic.jpg

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের স্থায়ী চাকুরি প্রদান ও পুনর্বাসন করার দাবী জানিয়েছে ‘আমরা মাতারবাড়ির সন্তান’ সংগঠনের সদস্যরা। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ১৫ বর্গকিলোমিটার এই ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রান্তে জাইকার অধীনে ১৪১৪ একর এলাকায় এবং উত্তর প্রান্তে ১২০০ একর জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এছাড়া ২০১৯ সালের মধ্যে প্রস্তাবিত সাবমেরিন নৌঘাঁটি ও কোস্টগার্ড ঘাঁটি, গভীর সমুদ্র বন্দর, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার শতকরা ১৮ ভাগ উৎপাদন ও সরবরাহ করা হবে এখান থেকে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞ সম্পাদনে এলাকার শতকরা ৮০ ভাগ জনবল নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও এ যাবত কেউ চাকুরি পায়নি। উপরন্তু পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার অনেক শ্রমিককে চাকুরি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির যথাযথ ক্ষতিপূরণও অনেকে পায়নি। ফলে দরিদ্র পরিবারগুলো ঋণভারে জর্জড়িত হয়ে পড়েছে। মহেশখালীর জমি কৃষি ও লবণ শিল্পের জন্য উর্বর হলেও পায়রা সমুদ্র বন্দরের অধিকাংশ পরিত্যক্ত জমির মূল্য এখানকার চাইতে বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে এলাকাবাসী বৈষম্যের শিকার হয়েছে।
এই অবস্থায় সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয়দের জন্য যোগ্যতা অনুসারে শতকরা ৬০ ভাগ চাকুরির কোটা সংরক্ষণ করা, লবণ ও মৎস্য চাষীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা, জমির মালিকদের অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে হাইকোর্টে আলাদা বেঞ্চ স্থাপন করে দ্রুততম সময়ে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করা, পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ যে নীতিমালার আলোকে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে, মহেশখালীর ক্ষেত্রেও একই আইন প্রয়োগ এবং মৌজা দর প্রদান করা, মাতারবাড়িতে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, সেসব প্রকল্পের কার্যালয় এলাকাতেই স্থাপন করা, দেশি–বিদেশি কয়েক হাজার চাকুরিজীবীসহ লাখো মানুষের সুচিকিৎসার জন্য ৫০০ শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা, এলাকায় স্থায়ী বসবাসকারীদের সন্তানদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে একটি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা, কক্সবাজার জেলা শহরের সাথে দ্রুততম সময়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে রাস্তা সংস্কার ও প্রশস্ত করা, মাতারবাড়ি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা–উপজেলায় সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং মাতারবাড়িতে একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা। নেতৃবৃন্দ এসব দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করেন। বিবৃতিদাতারা হলেন এনামুল হক সাগর, মোশারফ হোসাইন, মো. দেলোয়ার, মো. মোস্তফা, মোহাম্মদ আরমান, আবু বক্কর সিদ্দিকী, শওকত আলী জুয়েল প্রমুখ।

হাসান মোহাম্মদ সোহাগ, মাতারবাড়ী থেকে–

Top