কর্ণফুলীতে বাড়ছে ডাকাতি, আতংকিত গ্রামবাসী:পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবী

2Q2.jpg

জে,জাহেদ চট্টগ্রাম:

দীর্ঘ ১৬ বছর স্বস্থিতে ছিলো চট্টগ্রাম কর্ণফুলীবাসী। কখনো এর মধ্যে বড় ধরনের কোন দুর্র্ধষ ডাকাতি ঘটেনি। শোনা যায়নি তেমন বড় চুরির ঘটনা। কিন্তু হটাৎ বেশ গেছে পর পর ডাকাতি।

গত শনিবারে শিকলবাহা গ্রামে ডাকাতি সংঘঠিত। পরের সোমবারে চরপাথরঘাটা ইছানগর। এর আগে বড়উঠোন। তারও আগে কর্ণফুলী সংলগ্ন পটিয়ায়।

এমনটি বলেছিলেন খোয়াজনগরের বয়োবৃদ্ধ হাজি আব্দুর রাজ্জাক। এমন ভয়ংকারী ডাকাতিতে বাড়ছে জনমনে আতংক। আর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।

এলাকায় জনগণের সাথে কথা বলে জানা গেল, ডাকাতির অনেক ঘটনা। থানার মামলায় ও তা প্রমাণ মিলে। গেল কয়েক মাসে,বেশ কয়েকটি আলোচিত ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার শিকলবাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে, ১৯শে মার্চ রবিবার রাতে চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইছানগরে।

এর আগে চরলক্ষ্যার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলীর বাড়িতে দুর্র্ধষ চুরি, কোলাগাঁও নলান্ধা গ্রাম এবং কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুরে গ্রামে ডাকাতি করে ৪ নারীকে ধর্ষণ কওে, পরে হাওয়া হয়ে যায়। এভাবে একের পর এক অপরাধ প্রবণতার কোন ক্লু এখনো পুলিশ বের করতে পারেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া এসব ডাকাতির ঘটনাগুলো বিশ্লেষন করে দেখা যায়,প্রধান সড়ক হতে কিছুটা ভেতরের গ্রামে এসব ঘটনা ঘটছে। তবে যোগাযোগ বিছিন্ন নয়। অন্তত পুলিশি টহল যাওয়া যায়।

এসব গ্রামে এমন ঘটনা ঘটেছে। এমনকি যেসব বাড়িতে ডাকাতি করে ,তার পার্শ্ববর্তী এলাকা নির্জন ও ডাকাতেরা হেঁটে পলায়ন করার নিরাপদ গ্রামীণ সড়ক রয়েছে।

বিশ্লেষন করতে গিয়ে চরপাথরঘাটা এলাকার সহকারি শিক্ষক মোঃ সাইফুদ্দীন বলেন, “কর্ণফুলী থানা অঞ্চল থেকে বেশ দূরের গ্রাম গুলোতে একের পর এক ডাকাতি হচ্ছে। যা জনমনে খুব আতংক ছড়িয়েছে। অতিদ্রুত এসব অপরাধ হতে মুক্তি চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর বাড়ানোর কথা জানান।

জানা যায়,ডাকাতি হওয়া অঞ্চলে পুলিশের টহল নেই বললেই চলে। এবং মাঝে মাঝে এমনও দেখা যায় যে, বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ আসতে চায় না। ফলে উপজেলায় সংঘঠিত যে কোন ঘটনায় সিদ্ধান্ত নিতে বেগ পেতে হয় বলেও জানান।

এজন্য ডাকাতরা বরাবরই সাহস একটু বেশি পায়। ঠিক একই কারনে প্রত্যন্ত গ্রাম গুলোতে ডাকাতি বেশি হয়। যেমন শিকলবাহা,ইছানগর,চরলক্ষ্যা,জুলধায় ডাকাতি ও চুরির ঘটনা বেশি।

কর্ণফুলী নদীতে মাঝে মাঝেই বেওয়ারিশ লাশ ভেসে আসা, স্কুল ও মাদ্রাসার ছেলে মেয়ে নিখোঁশ,
ডাকাতি আর চুরির ঘটনা এখানে নিত্য নৈমক্তিক ঘটনা।

এসব ডাকাতির ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়,সব ডাকাতির ঘটনা একই স্টাইলে এবং কাউকে মারধরের ঘটনা নেই। মূলত পেশাদার ডাকাতদল ওরা। সবকটি ঘটনা গভীর রাত ২টার দিকে ঘটছে। দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মূল্যবান সম্পদ ছিনিয়ে পলায়ন করছে ।

সুত্র জানায়, স্থানীয়দের কাছ হতে তথ্য উপাত্ত নিয়ে তাদের সহযোগিতায় বহিরাগত ডাকাতেরা এসব ঘটনার সাথে জড়িত। যারা ইতিমধ্যে একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট। তবে এতে বড় একটি শক্তিশালী চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে গ্রামবাসীর ধারণা।

গত কয়েক মাস প্রায় প্রতি রাতেই ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। ডাকাতি একটি আতঙ্ক। এ থেকে মুক্তি মিলছেনা কর্ণফুলীর শান্তিপ্রিয় জনগনের। কে বা কারা করছে এসব ধারাবাহিক ডাকাতি ও চুরির ঘটনা তা রহস্য রয়ে যাচ্ছে। পুলিশ কি পারবে এসব ডাকাত বা চোরদের নির্মূল করতে? নাকি বাংলাদেশের মানচিত্রে কর্ণফুলী উপজেলা ডাকাতিপ্রবণ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত হবে?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় পুলিশের টহল কমে গেছে। মাঝে মধ্যে জনবহুল বাজার এলাকা ব্রিজঘাট চত্বর ও ইছানগরে পুলিশ টহল দেখা গেলেও,ভেতরের গ্রামে পুলিশি টহল কম।

নানা চেকপোস্টে যানবাহন তল্লাশিতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়িয়েছে থানা পুলিশ।একমাত্র মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে। এমনকি মাদক নিয়ন্ত্রনে পুলিশের আগ্রহ অনেকটা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলার রক্ষার প্রতি উদাসীনতা বেশ স্পষ্ট।
এর কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, পুলিশ মাদক হতে একচেটিয়া সুবিধা পাচ্ছে। ইয়াবার চালান ধরে বেশি, দেখায় কম। স্বর্ণের বার আটক হয় বেশি, দেখায় কম। এ ছাড়াও নগদ কাচা টাকার হিসাব পাওয়া যায়, সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে টাকা আদায়ের বিষয়টিতে ।

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা যদি এমন ব্যক্তি স্বার্থ দেখে তবে জনগণের অপুরনীয় ক্ষতি হয়। ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেড়ে গেছে অপরাধ। শোনা যায়, খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, ইয়াবা চালান,চাঁদাবাজিসহ ভিন্ন ধরনের অপরাধের খবর।

ইদানিং থানায় মামলার সংখ্যাও বেড়েছে। মাঝেমধ্যে পুলিশও ঘায়েল হচ্ছে। কেননা দীর্ঘদিন কর্ণফুলী থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা বেশ বেপরোয়া ভাব নিয়েছে। দ্রুত এসব পুলিশ সদস্যদের বদলী চেয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

অভিযোগ উঠেছে, অপরাধীরা ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে ফায়দা লুটছে। তাদের ব্যাপারে পুলিশ জেনেও না জানার ভান করছে। আবার কিছু অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তার দলবাজির কারণে অপরাধীরা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, হঠাৎ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাঁরাও উদ্বিগ্ন। তাঁদের দাবি, বড় ধরনের কিছু ঘটার পরপরই শাসক দলের নেতারা পুলিশকে ব্যবহার করে ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে চেষ্টা করেন।

ফলে আসল অপরাধীরা গা ঢাকা দেয়। এসময় বিভিন্ন স্থানে একাধিক চাঞ্চল্যকর ডাকাতি ও ঘটনা ঘটেছে। যা গনমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

যদিও ভুক্তভোগীদের মতে, মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা ঠিকভাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন না। পাড়া-মহল্লায় ও অলিগলিতে থানা পুলিশের টহল নেই। নেই কোনো বিশেষ অভিযান।

ক্রিমিনোলজিতে পড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র তানভীর ও জিসান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক ব্যবসাসহ অপরাধের ঘটনা তদন্তে মনোযোগ নেই তাদের। একশ্রেণীর পুলিশ কর্মকর্তা নিজেদের ‘আখের গোছাতে’ ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের খুশি করতে ব্যস্ত থাকছেন সারাক্ষণ।
এ বিষয়ে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর জোন) হারুন অর রশিদ হাযারি বলেন, “কর্ণফুলীতে পর পর ডাকাতির দুটি ঘটনাই তদন্ত হয়েছে। তবে কারা এসব ডাকাতিতে জড়িত তাদের কারো নাম এখনো জানা যায়নি”।

সংশ্লিষ্ট সচেতনমহলের দাবি, অপরাধী যে দলেরই হোক তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করতে হবে থানা পুলিশকে। এবং কর্ণফুলিতে র‌্যাবের অভিযান ও টহল আরো জোরদার পুর্বক, স্বাধীন ভাবে পুলিশকে কাজ করতে দিলে অচিরেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে ধারণা করছে।

Top