দেশে একটি মানুষও কুঁড়েঘরে থাকবে না:পটিয়ার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

received_294030027793832.png

 

জে. জাহেদ, পটিয়া জনসভা থেকে:

দেশে একটা মানুষও গৃহহারা থাকবে না। যাদের ঘর নাই, বিনা পয়সায় তাদের ঘর দেওয়া হবে। খাস জমি দিয়ে দেওয়া হবে। একটি মানুষও কুঁড়েঘরে থাকবে না বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে তিনি জনসভাস্থলের মঞ্চে এসে পৌঁছান। এসময় প্রধানমন্ত্রী ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর তিনি লাখো লাখো জনতাকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা ঘর করার টাকা দিচ্ছি। তরুণদের বিদেশি চাকরির জন্য ট্রেনিং দিচ্ছি। ১০ লাখ লোক বিদেশে পাঠিয়েছি। কর্মজীবী মায়েদের ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ আসলেই দেশের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি-জামায়াত মানুষ হত্যা করে।’

শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান, নাতী-নাতনীদের চাকরির সুযোগ রাখা হয়েছে। চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধার কোটা পূরণ না হলে মেধাবীদের সুযোগ দেওয়া হবে। কোটা ব্যবস্থা রাখতে হবে, কারণ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এ দেশ পেয়েছি।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোরআন শরিফে বলা হয়েছে, ‘এতিমের টাকা মেরে খেও না’। কিন্তু খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে সেই নির্দেশ অমান্য করেছেন। জিয়া অরফানেজের টাকা তিনি মেরে খেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় বসিয়ে শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকা তুলে দিয়েছিলো কারা! ২০০১ সালে দেশের উন্নয়ন থেমে গিয়েছিলো অথচ আজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ।

আ.লীগ সরকার ১৬০০ মেগাওয়াট হতে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতে উন্নীত করেছি। যেখানে বিদ্যুৎ নেই সেখানে সৌর প্যানেল, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ করতেছি। এমনকি ১০০টি অর্থনৈতিক জোন তৈরি করতেছি বেকারত্ব নিরসনে।

আবেগগণ মুহুর্তে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশের মানুষ শান্তি চায়, শান্তিতে বিশ্বাসী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট আমি মা, বাবা, তিন ভাই ও ফুফু ফুফীদের হারিয়েছি। ৬ বছর বিদেশ থেকে আসতে পারিনি। জিয়াউর রহমান আমাদের আসতে দেয়নি। ১৯৮১ সালে দল আমাকে সভানেত্রী বানিয়ে সুযোগ দিয়েছে। 
দীর্ঘ ২২ বছর পর পটিয়া সফরে আসলেন প্রধানমন্ত্রী। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে তিনি একই মাঠে নির্বাচনী জনসভা করেছিলেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় ঈশা খাঁ প্যারেড গ্রাউন্ড মাঠে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স উদ্বোধন ও বিএনএ ডকইয়ার্ডকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

জনসভায় সভাপতিত্ব করছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন এবং পরিচালনা করছেন সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। বিশাল এ জনসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পটিয়ার সাংসদ আলহাজ্ শামসুল হক চৌধুরী। 

পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৪ কোটি মানুষের হাতে মোবাইল দিয়েছে কে? ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ৮ কোটি মানুষের হাতে ইন্টারনেট দিয়েছে কে? ঘরে ঘরে বিধাবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, পঙ্গু ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও ডিজিটাল সেন্টার দিয়েছে কে? এসব কিছু দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা।

এবং পরে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ভূমিমন্ত্রী সামসুর রহমান শরিফ, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন, মহানগর সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দিন।

এছাড়াও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এনামুল হক শামীম, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সাইফুজ্জামান শেখর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, উপদেষ্টা, সচিব ও সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের মহানগর ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন জনসভায়।

Top