কড়ালগ্রাসী কুশিয়ারা নদী নাব্যতা হারিয়ে বালুচরে পরিনত হচ্ছে

received_2237974053096353.jpeg

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা কুশিয়ারা নদী এখন নাব্যতা সংকটে পড়েছে। নদীর পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ অংশের অন্তত ১০ পয়েন্টে জেগেছে নতুন চর। নদী দিনদিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। তলদেশে অনেক জায়গায় ভরাট হয়ে গেছে।তাছাড়া ডুবু চরের কারণে নদীর স্রোতধারা বিভক্ত।
এ কারণে বালি,পলি জমে কুশিয়ারাতে চর জাগছে একের পর এক।এতে নদী দিয়ে নৌকা,ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও রানীগঞ্জ বাজারের ফেরী চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এছাড়াও নাব্যতা সংকটের কারণে নদীতে ঐতিহ্যের বিভিন্ন সুস্বাদু মাছ জেলের জালে আর ধরা পড়েনা।অন্যদিকে নদীতে জেগে উঠা নতুন চরাঞ্চলে আশার সঞ্চার হয়েছে এলাকাবাসীর কাছে।সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, উপজেলার পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কুশিয়ারা ব্রীজ সামন থেকে রানীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ১ কিলোমিটার এলাকায় ছোট বড় দশটি চর জেগে উঠেছে।কুশিয়ারা তীর থেকে দীর্ঘ নদী পথে চর জেগে উঠায় রানীগঞ্জ বাজার ফেরী ঘাট দিয়ে যাত্রী পারাপার কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে নৌকা ও লঞ্চ চলাচল করতে পারলেও শুল্ক মৌসুমে পানিতে নদীতে দেখা যায় বিশাল বিস্তুত চরাঞ্চল।এ সময় চর দিয়ে পায়ে হেঁটে নদীর এপার থেকে ওপারে যাওয়া আসা যায়।জেগে উঠা নতুন এই চরে প্রতিদিন বিকাল হলেই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর দূরান্তের অনেকেই এখানে বেড়াতে চলে আসে।উত্তাল তরঙ্গ নদী বয়না চিরকাল, লোককথার এই বাস্তব রুপ নিয়েছে নব্যতা হারানো খড় স্রোতা কুশিয়ারা নদী।এক সময় তীরবর্তী জনপদের মানুষের আতংঙ্কের আরেক নাম ছিল কড়াল গ্রাসী কুশিয়ারা নদী। মানুষের বসত বাড়ী তার বুকে টেনে নেয়াই ছিল এ নদীর পেশা।চঞ্চল কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী জনপদের শতশত পরিবারকে ভিটে হারা করে চোখের জলে ভাসিয়েছে আর অনেক পরিবার তাদের স্বজন ছেড়ে অনেক দুরে বসত করছে।এনদীর জন্মলগ্ন থেকে বছর পর বছর ভাঙ্গনে জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের তীরবর্তী জনপদের বাজার,আবাদি জমি সহ শতশত বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। উপজেলার অন্যতম প্রাচীন রানীগঞ্জ বাজারের একটি অংশ কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে যায়।রানীগঞ্জ বাজার ভাঙ্গনের শিকার হলে ভিটার মালিক সহ অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। কুশিয়ারা নদীর উত্তাল তরঙ্গের ঢেউ এখন আর রানীগঞ্জ বাজার বাসীর চোখে পড়েনা। নব্যতা হারানো কুশিয়ারা নদী ভাঙ্গনে ভিটে হারা মানুষের চোখের সামনেই নদীর বুকে ধুধু বালুচর।একসময় যেখানে নদীর গভীরতা আর ঢেউয়ের আঘাতে পাকা দেয়াল ভেঙ্গে নদীতেই গড়িয়ে পরত এ বছর রানীগঞ্জ বাজার খেয়াঘাট সংলগ্ন কুশিয়ারা নদীর বুকে এখন ভেসে উঠেছে বালুচর। সময়মত নদী খনন না হওয়ায় ভরাট হওয়ার ফলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ হারিয়ে যেতে পারে। একসম এ নদীতে রুপালী ইলিশ সহ দেশীয় প্রজাপতির ছিল। কালের আবর্তে ইলিশ সহ বিলুপ্তি হয়েছে রাণী,পাবদা,চিংড়ি,লাচু ইত্যাদি প্রজাতির দেশীয় ছোট বড় মাছ।স্থানীয় রানীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান বলেন, কুশিয়ারা নদীতে বুকে জেগে উঠা নতুন চর দেখতে দারুন লাগে। নদীর পাড় জুড়ে হেটে হেটে বাতাশ খেতে ভাল লাগে সময় পেলে এখানে চলে আসি।
আরেক বাজার ব্যবসায়ী আবুল কাসেম বলেন,বিগত দিনে নদী ভাঙ্গনে আমাদের বাজারের বড় ক্ষতি হয়ে যায়। এখন চিন্তার বিষয় হল কুশিয়ারা নদীতে বর্ষা মৌসুমে আগাম বন্যায় আমাদের ফসল নিয়ে যায়। কুশিয়ারা নদীতে চর জেগে থাকায় একটু বেশী পানি হলে নদী উপর বেয়ে ফসলির জমির ধান সহ বাড়ী ঘরে পানি উঠে যায়।এখন যেভাবে চর জেগে উঠছে নদী খনন না হলে আগামীতে আমাদের সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারবনা।বিশেষজ্ঞদের মতে,কুশিয়ারা নদীর উপর দিয়ে নির্মিত ব্রীজ,পাহাড়ের কাঁদা মাটি ও প্রাকৃতিক কারণে পানির স্রোত পরিবর্তন হয়ে এই চরাঞ্চলের সৃষ্টি।সেতুর পিলারের কাজের জন্য নদীর পানিতে বাধা সৃষ্টি করার কারণে পানি বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এতে পলি জমে নদী গভীরতা হারাচ্ছে। ধীরে ধীরে তা স্পষ্ট হতে হয়ে নদী পর্যন্ত বিস্তার করে নাব্যতা হারায়।বর্ষা মৌসুমে নদীর চেহারা চেনা গেলেও শুষ্ক মৌসুমে চেনা বড় কঠিন। নদীর নাব্যতা ধরে রাখতে নদী খনন করা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থায় গ্রহণ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রবাহমান নদীর নাব্যতা রক্ষার জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান স্থানীয় কৃষকগন।

Top