শিশুর মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মা-বাবার ভূমিকা বা প্যারেন্টিং (Parenting) সবচেয়ে প্রভাবশালী নিয়ামক। একটি শিশুর মস্তিষ্কের প্রাথমিক গঠন ও চিন্তাশক্তির ভিত্তি তৈরি হয় তার পরিবারের পরিবেশ থেকেই।
মেধা বিকাশে প্যারেন্টিংয়ের ভূমিকা :
মস্তিষ্কের আর্লি ডেভেলপমেন্ট:
জীবনের প্রথম ৩ থেকে ৫ বছরে শিশুর মস্তিষ্ক সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এ সময় ইতিবাচক উদ্দীপনা (যেমন: গল্প শোনানো, কথা বলা, ছবি দেখানো) মস্তিষ্কের স্নায়ুবিক যোগাযোগ শক্তিশালী করে।
•সৃজনশীলতা ও অনুসন্ধিৎসা বৃদ্ধি:
মা-বাবা যখন শিশুর প্রশ্নকে প্রাধান্য দেন এবং তাকে নতুন কিছু খোজার স্বাধীনতা দেন, তখন শিশুর জানার আগ্রহ ও মেধা বহুগুণ বেড়ে যায়।
আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা :
ইতিবাচক প্যারেন্টিং শিশুর অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করে, যা তার আত্মবিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়।
ভাষা ও যোগাযোগের দক্ষতা: মা-বাবার সাথে নিয়মিত কথা বলা ও বই পড়ার অভ্যাস শিশুর ভাষার দখল এবং যুক্তি বুদ্ধির বিকাশ ঘটায়।
মেধা বিকাশে পজিটিভ প্যারেন্টিং টিপস :
স্ক্রিন টাইম কমানো: টিভি বা মোবাইল ফোন দেখার চেয়ে খেলাধুলা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা: শিশুর "কেন" বা "কীভাবে" টাইপের প্রশ্নের বিরক্ত না হয়ে উত্তর দিন।
ভুলকে শেখার সুযোগ করা: ভুল করলে বকা না দিয়ে শিখিয়ে দিন, যাতে ভয়ের কারণে তার চিন্তা থমকে না যায়।
পর্যাপ্ত ঘুম ও সঠিক পুষ্টি: পুষ্টিকর খাবার এবং সুনির্দিষ্ট ঘুমের রুটিন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
মনোযোগ দিয়ে শোনা : শিশু কথা বলার সময় তার চোখের দিকে তাকিয়ে শুনুন। এতে শিশু নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এবং তার চিন্তা গুছিয়ে প্রকাশ করার ভাষা-দক্ষতা বাড়ে।
সমস্যার সমাধান নিজে করতে দেওয়া: শিশু কোনো সমস্যায় পড়লে (যেমন: খেলনা ভেঙে গেলে বা ধাঁধা মেলাতে না পারলে) সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করে না দিয়ে তাকে চিন্তা করার সুযোগ দিন—"তুমি কী মনে করো, এটা কীভাবে ঠিক করা যায়?"
ফলাফলের চেয়ে চেষ্টার প্রশংসা: "তুমি তো খুব জিনিয়াস" না বলে বলুন, "তুমি এই আঁকাটা শেষ করতে অনেক ধৈর্য ধরে চেষ্টা করেছ, এটা খুব ভালো লেগেছে।" এতে শিশুর প্রবলেম-সলভিং মানসিকতা গড়ে ওঠে।
ওপেন-এন্ডেড প্রশ্ন করা: "আজকের দিনটা ভালো ছিল?" (হ্যাঁ/না উত্তর) না জিজ্ঞেস করে বলুন, "আজকে স্কুলে কোন জিনিসটা তোমাকে সবচেয়ে বেশি হাসিয়েছে?" এতে মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি উদ্দীপিত হয়।
প্রকৃতি ও বাস্তব জগতের সাথে পরিচয়: ঘরের বাইরের পরিবেশ, গাছপালা, নদী বা খোলা মাঠে সময় কাটানো শিশুর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও বৈজ্ঞানিক কৌতূহল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
রুটিন ও শৃঙ্খলার চর্চা: প্রতিদিনের নির্দিষ্ট পড়ার সময়, খেলার সময় ও ঘুমানো শিশুর মস্তিষ্কে কাঠামোগত নিরাপত্তা দেয়, যা মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
লেখক : সামিরা জান্নাত,কক্সবাজার ।
সম্পাদক ও প্রকাশক :
মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
যোগাযোগের ঠিকানা : হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১০, মোবাইল : ০১৭৮৯৩৭২৩২৮
Copyright © 2026 newsvision. All rights reserved.