জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিস্তম্ভ অবমাননা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট ও ভিডিও প্রকাশ এবং গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটাক্ষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য ও ইবি শাখার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এস এম সুইট থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযুক্তরা হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, শান্তা ফারজানা , সোমা ইসলাম ও মোমিন মেহেদী।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, এক হাজার ৪০০-এর বেশি শহীদ ও ৩০ হাজারের অধিক আহতের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি বিপ্লব, এর স্মৃতিচিহ্ন এবং আন্দোলনকারীদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ বা আঘাত করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এ ঘটনা শহীদদের স্মৃতির অবমাননা এবং জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এছাড়া অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবকে ‘পরিকল্পিত’ বা ‘সাজানো’ ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে রাষ্ট্র ও বিপ্লব সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনকারী, রাজনৈতিক দল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংশ্লিষ্টদের কটাক্ষ করে পুরো বিষয়টিকে ‘অভিনয়’-এর সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়াও সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সাংবাদিক সোমা ইসলাম এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোমিন মেহেদীর সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী এস এম সুইট বলেন, “জুলাই বিপ্লব হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। এ বিপ্লব, শহীদদের স্মৃতি কিংবা আন্দোলনকারীদের নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননাকর বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, “জুলাইয়ের অবমাননার অভিযোগটি সাইবার ইউনিটের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক :
মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
যোগাযোগের ঠিকানা : হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১০, মোবাইল : ০১৭৮৯৩৭২৩২৮
Copyright © 2026 newsvision. All rights reserved.