মাদারীপুরের তাঁতীবাড়ি ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে জবাবদিহিতার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো ও কোচিং-বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সুন্দর ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের পাঠদানের পরিবেশ আরও উন্নত করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ সময় মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার জিয়াউর রহমান সুমন। তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন, যার অর্থ এখনো তিনি বিদ্যালয়ের কাছ থেকে ফেরত পাননি।
বিদ্যালয়ের জন্য ওই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক জানান, প্রাইভেট পড়িয়ে অর্জিত অর্থ থেকে তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে টাকা খরচ করেছেন।
এদিকে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীর পরিচয় ও তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধান শিক্ষক। তার দাবি, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী হলেও তারা বিদ্যালয়ের পড়াশোনা সম্পন্ন করতে পারেননি এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষকের এ বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। এজন্য ব্যয়ের হিসাব, ভাউচার ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানান তারা।
তাদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিয়ে পারিবারিক ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানোও অনেকের জন্য কঠিন। এমন অবস্থায় বিদ্যালয়ের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের দাবি করা হলে সেই অর্থ কোন খাতে, কীভাবে এবং কখন ব্যয় করা হয়েছে—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, বিদ্যালয়ের জন্য প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে ১২ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন—এমন তথ্য তার জানা নেই। বিষয়টি যাচাই করে দেখা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী জুবায়ের হোসেন মাসুম, মুস্তাকিন রাফিনসহ আরও অনেকে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, অর্থ ব্যয় এবং মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের প্রকৃত তথ্য নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
সম্পাদক ও প্রকাশক :
মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
যোগাযোগের ঠিকানা : হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১০, মোবাইল : ০১৭৮৯৩৭২৩২৮
Copyright © 2026 newsvision. All rights reserved.