স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে পুলিশকে দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সাথে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
রোববার (২ আগস্ট) সকালে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করে নবীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। দীর্ঘ ১৮ বছরের বঞ্চনা কাটিয়ে নতুন বাস্তবতায় যাত্রা শুরু করা এসব কর্মকর্তাকে চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে মেনে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক কারিগরি দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।’
নবীন কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পেশাদারিত্ব, সততা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমেই পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা আরো সুদৃঢ় হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের মর্যাদা সমুন্নত রেখে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে নবীন পুলিশ কর্মকর্তারা অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান।
ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অংশ নেন। কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো: নূরুল হুদা ভূঁইয়া। তিনি ‘বেস্ট প্রবেশনার’ এবং ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’—এই দুই ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। ‘বেস্ট অ্যাকাডেমিক’ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং ‘বেস্ট শ্যুটার’ নির্বাচিত হন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ বি এম মামুন।
অনুষ্ঠান শেষে নবীন সহকারী পুলিশ সুপারদের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো: আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান।
এতে অন্যদের মধ্যে রাজশাহী-৩ আসনের এমপি শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ আসনের এমপি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৫ আসনের এমপি ডা: আবদুল বারী সরকার, রাজশাহী -৬ আসনের এমপি আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো: আশিক সাঈদ, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক :
মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
যোগাযোগের ঠিকানা : হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১০, মোবাইল : ০১৭৮৯৩৭২৩২৮
Copyright © 2026 newsvision. All rights reserved.