কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নে দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ড ভেঙে পঙ্গু হয়ে যাওয়া দিনমজুর মো. আলী হোসেন পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে সর্বস্ব ও ভিটেমাটি হারানোর পর বর্তমানে পলিথিন ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি জীর্ণশীর্ণ ঝুপড়ি ঘরই তার একমাত্র আশ্রয়।
কাজ করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের টাইম বাজার মোক্তার ঘোনা এলাকার বাসিন্দা আলী আহমেদের ছেলে মো. আলী হোসেন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দিনমজুরের কঠোর পরিশ্রমে কোনোভাবে চলত তার সংসার।
কিন্তু ২০২৩ সালে পেটের দায়ে কাজ করতে গিয়ে কাঁঠালগাছের ডাল কাটার সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। এতে তার মেরুদণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে।
চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে একে একে ভিটেমাটিসহ শেষ সম্বলটুকুও বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা। অর্থের অভাবে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা করাতে না পারায় চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন আলী হোসেন।
পাহাড়ি ঢলে শেষ আশ্রয়টুকুও ধ্বংস
আলী হোসেনের শারীরিক কষ্টের সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন দুর্ভোগ। চলতি মৌসুমের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তার মাথা গোঁজার শেষ সম্বল মাটির ঘরটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। একই সঙ্গে তার হুইলচেয়ারটিও নষ্ট হয়ে যায়।
সহায়-সম্পত্তি বলতে কিছুই অবশিষ্ট না থাকায় স্থানীয় কয়েকজন মানবিক মানুষের সামান্য সহযোগিতায় পলিথিন ও ত্রিপল দিয়ে একটি অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর তৈরি করা হয়। এই জীর্ণশীর্ণ ঘরে সামান্য বৃষ্টিতেই চাল চুইয়ে পানি পড়ে। ঝোড়ো বাতাসে ঘরটি কেঁপে ওঠে, আর আতঙ্কে কাটে রাত।
অভাব-অনটনের কারণে তার স্ত্রী এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে আলী হোসেনকে রেখে বাবার বাড়িতে চলে গেছেন বলে জানান স্থানীয়রা। বর্তমানে শয্যাশায়ী আলী হোসেনের দেখাশোনায় তার বোন পাশে রয়েছেন।
অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে
সরেজমিনে গর্জনিয়ার মোক্তার ঘোনা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঝুপড়ি ঘরটির চারপাশের বেড়ার পরিবর্তে ঝুলছে ছেঁড়া পলিথিন ও পচা ত্রিপল। সামান্য বাতাসেই জীর্ণ ঘরটি থরথর করে কেঁপে ওঠে। বিছানায় শুয়ে থাকা পঙ্গু আলী হোসেনের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে অসহায়ত্ব ও অনিশ্চয়তার ছাপ।
অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা তো দূরের কথা, প্রতিদিন দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে গর্জনিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য কামরুন্নাহার জানান, প্রায় দুই মাস আগে রামু উপজেলার পক্ষ থেকে আলী হোসেনকে এককালীন ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে তার প্রয়োজনের তুলনায় এই সহায়তা অত্যন্ত অপ্রতুল।
সহযোগিতার আকুল আবেদন
স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে অসহায় আলী হোসেনের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার এবং একটি নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে এই অসহায় মানুষটির জীবন কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
দেশের বিত্তবান ব্যক্তি, দাতা সংস্থা ও হৃদয়বান মানুষের প্রতি আলী হোসেনের পাশে দাঁড়ানোর আকুল আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে পঙ্গু এই দিনমজুর ও তার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক :
মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
যোগাযোগের ঠিকানা : হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১০, মোবাইল : ০১৭৮৯৩৭২৩২৮
Copyright © 2026 newsvision. All rights reserved.