মোঃ আবু সঈদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ঘোড়াডুম্বুর-আলমপুর খেয়াঘাটে বোকা নদীর বুকে ভেসে ওঠে একটি ছোট্ট খেয়া নৌকা। বৈঠা হাতে সেই নৌকায় বসে থাকেন মাঝি জিল্লু মিয়া। প্রতিদিন নদীর দুই পাড়ের শত শত মানুষের যাতায়াত নিশ্চিত করাই তাঁর দায়িত্ব। আর সেই বৈঠার প্রতিটি টানেই চলে তাঁর সংসারের চাকা।
দীর্ঘদিন ধরে বোকা নদীর এই খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপারের কাজ করে আসছেন জিল্লু মিয়া। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করেও দিন শেষে তাঁর আয় হয় মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এই সামান্য উপার্জন দিয়েই পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে।
নদীর পাড়েই পলিথিন দিয়ে মুড়ানো একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে বসবাস করেন ভূমিহীন জিল্লু মিয়া। চারদিকে পানি আর নদীভাঙনের আতঙ্কের মধ্যেই কাটে তাঁর দিন-রাত। যে কোনো সময় নদীর করাল গ্রাসে হারিয়ে যেতে পারে তাঁর শেষ আশ্রয়টুকুও। তারপরও জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে সঙ্গী করে প্রতিদিন ভাঙাচোরা নৌকা আর বৈঠা নিয়ে নদীতে নামেন তিনি। কারণ নৌকা থেমে গেলে থেমে যায় তাঁর পরিবারের একমাত্র আয়ের পথ।
বোকা নদীর এই খেয়া দিয়ে প্রতিদিন আলমপুর, ঘোড়াডুম্বুর, ডিগারকান্দি, নাজিমপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। স্থানীয়দের কাছে জিল্লু মিয়া শুধু একজন মাঝি নন, তিনি এই জনপদের মানুষের নির্ভরতার প্রতীক। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিদিনের চলাচলের অন্যতম ভরসা তাঁর এই খেয়া নৌকা।
জিল্লু মিয়া বলেন, “এই খেয়া নৌকা চালিয়েই দীর্ঘদিন ধরে সংসার চালাচ্ছি। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। এই টাকা দিয়ে সংসার চালানো খুব কষ্টের। তারপরও মানুষের পারাপারের সুবিধার কথা ভেবে প্রতিদিন নদীতে নামি। যতদিন শরীরে শক্তি থাকবে, ততদিন এই কাজ করে যেতে চাই।”
উপকারভোগী শিক্ষার্থী আজহারুল হক তায়েফ বলেন, “আমি প্রতিদিন খেয়া পার হয়ে স্কুলে যাই। অনেক সময় নৌকা না থাকলে স্কুলে যেতে পারি না। এই খেয়া আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বোকা নদীর এই খেয়া দিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ যাতায়াত করেন। জিল্লু মিয়া নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষ পারাপার করছেন। তাঁর নৌকা না থাকলে স্থানীয়দের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো।”
স্থানীয়দের মতে, মানুষের জীবন সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও মাঝি জিল্লু মিয়া আজও অবহেলিত। তাঁকে একটি নতুন ও নিরাপদ খেয়া নৌকা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হলে যেমন তাঁর জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তেমনি উপকৃত হবেন নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষ।
সম্পাদক ও প্রকাশক :
মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
যোগাযোগের ঠিকানা : হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১০, মোবাইল : ০১৭৮৯৩৭২৩২৮
Copyright © 2026 newsvision. All rights reserved.