বুধবার ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আমাদের সম্পর্কে
যোগাযোগ

১০০ টাকা দে ৯০ টাকা ফেরত দিচ্ছি!!

অক্টোবর ১, ২০২১
প্রিন্ট
নিউজ ভিশন

মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনঃ

পদ্মা সেতুতে ফেরির ধাক্কা লাগা ও স্রোত বেশি হওয়ার কারণে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ। তাই লঞ্চে করে পদ্মা পাড়ি দিতে হয়। গত ১৪ আগস্ট বাগেরহাট জেলার শরণখোলার উপজেলার রায়েন্দা থেকে ঢাকায় এসেছি। ফেরি চলাচল না করায় বাংলাবাজার প্রান্তে আমাদের বাস থামে এরপর লঞ্চে উঠি শিমুলিয়া প্রান্তে পৌঁছানোর জন্য, পৌঁছে সায়েদাবাদ যাওয়ার জন্য ঐ কোম্পানির আরেকটি বাসে উঠতে হবে। লঞ্চে শত শত মানুষ। তাই কোথাও বসা বা দাঁড়ানোর জায়গা না পেয়ে ডেকে বসে পুরো দেড় ঘন্টা পথ পাড়ি দিয়েছি। রোদে সিদ্ধ হয়ে যাবার মতো অবস্থা হয়েছিল, টপ টপ করে ঘাম ঝরতেছিল। এছাড়া সকালে তেমন কিছু খেয়ে রওয়ানা হইনি, দুপুর হয়ে গেছে তাই ক্ষুধাও লেগেছে। লঞ্চ থেকে নেমে ঘাট থেকে বাস স্ট্যান্ডের দিকে যাব এমন সময় একদল বেদে পথ আটকে দাঁড়াল টাকা আদায় করার জন্য। আমাকে বলল,“টাকা দে।” আমি বললাম,“কেন টাকা দেব?” এ কথা বলে আমি হাঁটার চেষ্টা করেছি কিন্তু ওরা আমার গেঞ্জি টেনে ধরল। আমি বললাম,“গেঞ্জি ছাড়”। ওরা ছাড়তেছিল না। তখন আমি বললাম,“গেঞ্জি ছাড়, আমি সাংবাদিক। ভিডিও করে কিন্তু পত্রিকায় দিয়ে দেব।” কিন্তু এতেও ওরা ভয় পেল না। তবে আমাকে যেতে দিল কারণ ওরা বুঝতে পারল কোনভাবেই আমার কাছ থেকে টাকা পাওয়া সম্ভব নয় বরং আমার পিছনে সময় নষ্ট করে ওদের অন্য কাস্টমার ছুটে যাচ্ছে, তারা ঘাট পার হয়ে বাস স্ট্যান্ডে চলে যাচ্ছে, তাই আমার গেঞ্জি ছেড়ে দিয়েছিল।
এরপর আমি বাসে গিয়ে বসলাম। তখন শুনি আমার পাশের সিটে যে ছেলেটি বসেছে ওর কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়েছে। ও যখন ঘাট থেকে উঠতেছিল তখন ওকেও আটকিয়ে বলেছে,“১০০ টাকার নোট দে, ১০ টাকা রেখে ৯০ টাকা ফেরত দিচ্ছি।” ও সরল মনে দিয়ে দিল আর ওরা পুরো ১০০ টাকা রেখে ওকে ভাগিয়ে দিল। ১০০ টাকা নিয়ে যাওয়ায় বাকী পথ ওর সাথে পাড়ি দেয়ার সময় বার বার আমাকে এ বিষয়টি বলতেছিল এর মানে হচ্ছে টাকা খুইয়ে অনেক কষ্ট পেয়েছে।
আমি যেটুকু দেখেছিলাম, ঘাটে দায়িত্বরতরা বার বার বেদেদেরকে ঘাট থেকে চলে যেতে বলতেছিলেন কিন্তু ওরা সরেনি। তবে প্রহার কিংবা কঠোর হস্তে দমন করা হয়নি।

আমি ওদেরকে টাকা না দেয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে পেরেছিলাম কারণ আমি একবার শাহবাগ থেকে কোথাও যাচ্ছিলাম তখন ওরা আমার পথ আটকিয়েছিল। আমার কাছে ওরা ১০ টাকা চেয়েছিল, আমি দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু ওরা ১০ টাকা নিতে চাইলো না। বলেছিল,”১০০ টাকার নোট দে, ৯০ টাকা ফেরত দিচ্ছি।” তখন বুঝতে পারলাম ওরা প্রতারক। ওদের ধান্ধা ১০ টাকা নয়, ১০০ টাকা মেরে দেওয়া। তখন থেকেই আমি ওদের ব্যাপারে সতর্ক। এরপর আরেকদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমার পথ আটকানোর চেষ্টা করেছিল। আমি সাথে সাথে মোবাইল বের করে ক্যামেরা অন করে ওদের সামনে ধরলাম। এর ফলে আমার কাছ থেকে টাকা নিতে পারেনি, অন্যদের কাছ থেকেও পারেনি। পরে ওরা স্থান ত্যাগ করেছিল।

আমি জানি না, সেদিন ওরা মাওয়া ঘাটে কত শত মানুষের সাথে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল! এখনও হয়ত কোথাও না কোথাও থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

আমি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ করছি, ওদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। শাস্তি দেয়ার পর যদি সম্ভব হয় তাহলে ওদের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে সেটা যাচাই বাছাই করার পর ওরা যেখানে বাস করে সেখানকার প্রশাসনের সহযোগিতায় কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করে দিবেন।

লেখক : ছাত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।।

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
logo

নিউজ ভিশন বাংলাদেশের একটি পাঠক প্রিয় অনলাইন সংবাদপত্র। আমরা নিরপেক্ষ, পেশাদারিত্ব তথ্যনির্ভর, নৈতিক সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী।

সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

ঢাকা অফিস: ইকুরিয়া বাজার,হাসনাবাদ,দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ,ঢাকা-১৩১০।

চট্টগ্রাম অফিস: একে টাওয়ার,শাহ আমানত সংযোগ সেতু রোড,বাকলিয়া,চট্টগ্রাম |

সিলেট অফিস: বরকতিয়া মার্কেট,আম্বরখানা,সিলেট | রংপুর অফিস : সাকিন ভিলা, শাপলা চত্ত্বর, রংপুর |

+8801789372328, +8801829934487 newsvision71@gmail.com, https://newsvisionbd.com
Copyright@ 2021 নিউজ ভিশন |
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।