হীরামণির ছোট গল্প : সত্যি আপনি নামাজ পড়বেন?

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৩:১২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০১৯

— মুনিরুল আলম মুনির।।

হীরা তখন ক্লাস ফোরে পড়ত গায়ের মাদ্রাসায়।তাদের ছোট্ট একটি মুদির দোকান ছিল।পরিবারও মোটামুটি সুখের ছিল।মাঝে মাঝে ছুটির দিনে সে দোকানে বসতো।এখন অবশ্যই বসেনা।কারণ,সে এখন বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট। তবুও মাঝে মাঝে সে স্মৃতি বিজড়িত দোকানকে এক পলক দেখে আসে গ্রামে গেলে।

সেই ছোট বয়সেই সে নামাজ পড়তো নিয়মিত।কারণ,তার আব্বু-আম্মুও খুব পরহেজগার।হীরার জানামতে, তার মা-বাবা নামাজ ছেড়েছে বলে মনে হয়না।সুতরাং পরিবারের সবার প্রতি নামাজ পড়ার আলাদা তাগিদ দেন ওনারা।তাই স্বেচ্ছায় অনিচ্ছায় নামাজ পড়তেই হয় পরিবারের সবাইকে।

তবে হীরা ছোটকাল থেকেই স্বেচ্ছায় নামাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে।তবে এতে পরিবারের প্রভাব নেই বললে ভুল হবে।সে যাহোক,খুব ভাল ছেলে হীরা।গ্রামেও সবার প্রিয় সে।পড়াশুনায়ও তেমন খারাপ নয়।

দোকানটি গ্রামে হওয়াতে গ্রামের মানুষের সাথে আলাদাভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেল হীরা।তার গ্রামের একজন লোক সবসময় তাদের দোকান ঘেঁষেই বসে থাকতো।তারও ভাল লাগতো সঙ্গ পেতো বলে।তাই তার সাথে হীরার আলাদা ভাব।কিন্তু লোকটি নামাজের প্রতি একদম অমনোযোগী।তাই হীরা তাকে নিয়ে খুব চিন্তা করতো।কিভাবে তাকে নামাজে অভ্যস্ত করানো যায় সেই চিন্তায় বিভোর থাকতো।তাকে বিভিন্ন অফার দিতো।নামাজের গুরুত্ব বুঝাতো।

হঠাৎ একদিন হীরার সুযোগ হলো তাকে ভেড়ানোর।আসরের আযান হচ্ছে। অগত্যা লোকটি বিদ্যুৎ গতিতে এসে উপস্থিত তার দোকানের সামনে।তক্তিতে বসে পড়লো ধপ করে।মনে হলো যেন খুব ক্ষুধার্ত।আসলে সে একটু পেটুক টাইপের।তাই দোকানে আসলেই তার ক্ষুধা যেন বেড়েই চলে।কিছু না খাওয়া পর্যন্ত ক্ষ্যান্ত হয়না।এখন তার কলা খেতে ইচ্ছে হচ্ছে।কিন্তু পকেট যে জিরো!!তবুও সে খাবে।।

##অবশেষে মিনতির সুরে বলে উঠলো:

:হীরা,আমাকে দুইটা কলা দেবে?কিন্তু টাকা নেই!!
:ভাই,এখন তো আযান হচ্ছে।আমি নামাজে যাবো।দোকান বন্ধ করে দিচ্ছি।
:ভাই,তুমি আমার কত্ত ভাল ভাই।দাও, প্লিজ।
:আচ্ছা, দেবো।তবে একটা শর্ত মানতে পারবা?
:কি শর্ত, হীরা?
:নামাজে যেতে হবে।

:আচ্ছা, যাবো।কলা দাও।
:সত্যি নামাজে যাবা?
:হ্যাঁ।তুমি বিশ্বাস করছোনা আমাকে!!
:(ঠোঁটে মুচকি হাসি) আল্লাহ তোমাকে নিয়মিত নামাজ পড়ার তাওফীক দিন।
:তুমি আসলে অনেক ভাল।
:এই নাও কলা।যদি নিয়মিত নামাজ পড়ো নিয়মিত কলা পাবে।আর তোমার ইচ্ছে মতো খেতে পারবে দোকান থেকে।

:ঠিক আছে।আমি নিয়মিত নামাজ পড়বো।
:ইনশা আল্লাহ বলো।
:ইনশা আল্লাহ।
:(লোকটি অবাক স্বরে)এর মানে কি?
:আল্লাহ চাহেতো।অর্থাৎ,আল্লাহ তাওফীক দিলে পড়তে পারবা।তবে তোমারও সদিচ্ছা ও চেষ্টা থাকতে হবে।
:ও,সুন্দর তো।।

হীরার বাবা তখন দোকানের পাশে জমিনে কাজ করছিলেন।তিনি তার প্রিয় হীরা ও লোকটির কথোপকথন শুনে শুনে মজা নিচ্ছিলেন।যখন তার(হীরার বাবার) একজন বন্ধুসম লোক আসলেন,তিনি লোকটিকে এ কথোপকথনের গল্প শোনালেন।লোকটি এতে খুবই মুগ্ধ হলো।দু’জনে মিলে হীরার উচ্চাঙ্গের প্রশংসা করলেন এবং তার এই ছোট্ট বয়সেও সৎ মানুষ তৈরি ও তাদেরকে ভালবাসার এ সুন্দর প্রেরণা,পরিকল্পনা ও মননের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন।।

লেখক-
মুনিরুল আলম মুনির।
শিক্ষার্থী-
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।