স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি!!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

রাজিয়া সুলতানা

বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতের দুর্বল কাঠামো ও ব্যবস্থাপনার অভাব বরাবরই প্রতিয়মান হয়েছে চিকিৎসা খাতে দুর্নীতির প্রাদুরভাব দেখে। চিকিৎসা খাতে দুর্নীতি তেমন নতুন কিছু নয়। কিন্তু করোনার এই সংকটময় সময়ে চিকিৎসা খাতে অনিয়ম ও দূর্নীতির জাল যেনো আরো প্রখরভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।হরহামেশাই নানান দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন করোনা শুরুর আগের কয়েকমাসে পর্দা কেলেংকারিসহ স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির অভিযোগে ১১টি মামলা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে অবকাঠামোগত দুর্বলতা নতুন কিছু নয়। গত বছর দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটা, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসা সেবায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, ঔষধ সরবারহ সহ ১১টি খাতকে চিহৃিত করেন যেখানে দূর্নীতি বেশি হয়। এরপরেই স্বাস্থ্যখাতে দূনীতি প্রতিরোধে ২৫ দফা সুপারিশ করেছিল দুদক কিন্তু সফলতার নজির মেলেনি। বরং করোনার এই সময়ে চিকিৎসা খাতে দূর্নীতি আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন শুরুর পরপরই মার্চ মাসে সরকারের কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে সরবরাহকৃত এন ৯৫ মাস্ক এবং পিপিই সহ স্বাস্থ্য কর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রীর মান নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। এ নিয়ে ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা টিআইবি এর নির্বাহি পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বিবিসি বাংলার এক প্রতিনিধিকে বলেন, সুরক্ষা সামগ্রীতেই দুর্নীতি থেমে থাকেনি চিকিৎসা সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনকহারে দুর্নীতি বৃদ্ধির তথ্য তারা পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামো দুর্বল এটা নতুন কথা নয়। তবে এখন কোভিড-১৯ সংকটের কারণে এটা আরও ব্যাপকভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে বাজার মূল্যের চাইতে পাঁচ গুন থেকে দশ গুন বেশি মূল্যে জিনিসপত্র কেনা হচ্ছে।
মাস্কসহ সুরক্ষাসামগ্রী নিয়ে অনিয়ম এর ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমুলক ব্যবস্থা না নেয়া দুর্নীতি রোধের অন্তরায় বলে মনে করেন তিনি।
করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে ২০২০-২১ প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতকে গুরুত্ব দিয়ে মোট বাজেটের প্রায় ৭.২ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু এই অর্থ ব্যয়ে দুর্নীতি রোধ করা কতটা সম্ভব তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনকারীরা।
তাহলে এর সমাধান কি? দুর্নীতি দিন দিন বেড়েই চলছে। দু’একজন কে শাস্তির আওতায় আনা গেলেও বেশিরভাগ রাঘববোয়ালরা ধরাছোঁয়ার বাহিরে। দুর্নীতির এই কার্যকলাপে জড়িত রয়েছে নিম্নপদস্থ কর্মচারী থেকে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা। ক্ষমতার বলে আইনের হাত থেকে অনায়াসে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে সভ্য মুখোশধারী চোরের দল। যতদিন না আইনি ব্যবস্থা জোরদার করে কর্মকর্তা কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাবে ততোদিন সাধারণ মানুষের অধিকার লুটে নিজেদের পকেট ভর্তি করার দুর্নীতি থামানো সম্ভব নয়।

লেখক:

রাজিয়া সুলতানা সুইটি
ডিপার্টমেন্টঃ ইসলামিক স্টাডিজ
শিক্ষার্থী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়