স্কুল ছাত্র মারুফের আত্মহত্যার প্ররোচনার প্রতিবাদে ছাত্র অধিকার পরিষদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল।

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৩:৩৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০

মোরশেদুল আলম,চট্টগ্রাম :

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাদামতলী বড় মসজিদ গলির ভেতর সাদা পোষাকের পুলিশি নির্যাতনের অপমান সহ্য করতে না পেরে গত ১৬ জুলাই আত্মহত্যা করেন স্কুল পড়ুয়া ছাত্র মারুফ।

মারুফদের মত আর কোনো শিশু যেন অকালে প্রাণ না হারায় এবং পুলিশি নির্যাতন বন্ধ করার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে রবিবার(১৯ জুলাই) নগরীর আগ্রাবাদ বাদাম তলে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল এর আয়োজন করা হয়।

সংগঠনটির যুগ্ম- আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক এরশাদ,জুবায়ের এবং সদস্যদের মধ্যে শাহাদাৎ মিনহাজ,আশরাফ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন,পুলিশের কাছে আমরা নিরাপদ জীবন চাই,মিত্যু নয়।মা-বোন লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ও সালমান ইসলাম মারুফের আত্মহত্যার পর শুধু সাসপেন্ড কোন শাস্তি হতে পারে না।অবিলম্বে সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে এস আই হেলাল কে আইনের মুখোমুখি করতে হবে।তার বিরুদ্ধে স্পেশাল টিমের নামে নানান অপকর্মের অভিযোগ আছে।জমি দখলের পাশাপাশি মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় ছিল তার কৌশল।বিশেষ অভিযানের নামে কথিত সোর্সদের সাথে নিয়ে ইউনিফর্ম ছাড়াই পুরো এলাকা চষে বেড়াতেন।

তারা আরও বলেন, কথিত সোর্সকে নিয়ে এস আই হেলাল এলাকায় সন্দেহ জনক ভাবে ঘোরা ফেরা কালে স্থানীয় কিশোর মারুফ ও এলাকার অন্যান্যরা সহ তাকে পিটুনী দেয়৷ এর জের ধরে গত ১৬-ই-জুলাই রাত ১০টার সময় সাদা পোষাকে মারুফের বাড়িতে অভিযানের নামে তান্ডপ চালালে মারুফ সহ আশেপাশের সব পুরুষ লোকেরা পালিয়ে যায়৷এসময় কাউকে না পেয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় ঘরে ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়৷এক পর্যায়ে মারুফের বোনের গলায় ওড়না পেচিয়ে টান দিলে ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। অবস্থা বেগতিক দেখে এসআই হেলাল দ্রুত মারুফের বোনকে তার মায়ের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যায়৷

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মারুফ বাসায় এসে ভাঙচুর ও তার মা বোন কে পুলিশে নিয়ে যাওয়ার খবর শুনলে অপমানে চাচার বাসার সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করছে বলে জানা যায়।

বক্তারা এই মানববন্ধন থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচীর হুঁশিয়ারী দেন। পরে বিক্ষোভ শেষে মিছিল বের করা হয়, এই সময় ৩০-৪০ জন ছাত্র মিলে পুলিশের হয়রানি বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন প্লেকার্ড হাতে স্লোগান দিতে দেখা যায়।