সূচনা থেকে ইতি–কাজী মিঞা

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৯

—————————————
উপুর হয়ে শুয়ে আছি নাকে দিয়ে মরুর
বালি,
পিঠে বসে কুকুর খুলে আকাশ আর গন্ধরাজের
গল্পের ঝুলি।
মাঝেমাঝে বটবৃক্ষ তুলসীকে অতি ক্ষুদ্র ভেবে
লয়,
মানবের অর্চনা যদিও বা তুলসীর চরণেই হয়।
চর্মের নয়নকে আর কী বা দোষ দেয়া যায়,
যখন এমন ভুল ছিলো মানবের সূচনায়!

থাকি তাই শিকল, তালা পরে আবার বদ্ধ ঘরে,
তবুও বদ্ধ কপাটের ফাঁকে রংধনু দেই ছুঁড়ে।
বাঁ গাঁয়ের নদীটা যে বেঁকে যায়না কোনমতে,
অবিরাম জল দেয়, কুকুর ফেলে দেয় লালাতে।

সেই কবেকার সূচনা আজ বদ্ধ ঘরে দিচ্ছে লাভা,
জানুয়ারি নামবে সেদিন চারিদিকে ছড়িয়ে প্রভা।
মস্তিষ্কে রাবার নাই তাই যায়নি মুছে,
প্রতি বিন্দু জলের হিসাব নেবো বুঝে যা নিয়েছে
শুষে।

সবুজ ঘেরা শহরটা ছিলো আগুনের চাদরে
মোড়া,
বুঝিনি তখন তা এখন পেয়েছে ধরা।
কালো গভীর পৃথিবী দু’টো আসলেই কালো,
ফুল ফেলে হাতকে আমার অগ্নি বর্শা ছোঁয়ালো।

কাউন্টারে টিকিট মেলেনি,
ট্রেন তবুও ডেকে নিয়েছে, ফেলে যায়নি!
আবার সে-ই স্টেশনে স্টেশনে ফেলে দিয়েছে,
ভগ্নপায়ে ক্লান্ত দেহ দৌড়েছি তার পিছে।
টিকিট বিহীন যাত্রায় আমায় বসতে দেয়নি ট্রেনে,
আমার সৃষ্ট মহারাজা আজ সৃষ্টিকর্তা নেয়নি
আমায় মেনে।

তবুও আমি উপর হয়ে বদ্ধ ঘরেই থাকি শুয়ে,
বাঁ গায়ের সরল নদীতে ছন্নছাড়া এক মাছ রাখি জিইয়ে।
একদিন তারে সেদিনের সবুজ দেখাবো,
লাল বর্ণামালার মালা সাজিয়ে তার গলায়
পরাবো।
সেদিন সূচনা থেকে ইতি এসে আমায় মুক্তি
দিবে,
কুকুর সেদিন ডাস্টবিনে যাবে, কীট, উচ্ছিষ্ট,
পচা বীর্য খাবে।

©কাজী মিঞা
মুহসীন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।